ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

সহজ কর ব্যবস্থা চান ব্যবসায়ীরা

ঢাকা চেম্বারের প্রাক-বাজেট আলোচনা

সহজ কর ব্যবস্থা চান ব্যবসায়ীরা

ঢাকা চেম্বারের বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা শীর্ষক প্রাক-বাজেট আলোচনায় আমন্ত্রিত অতিথিরা। রোববার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে - সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৪ | ০০:৩৩ | আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৪ | ০৬:৪৯

আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সামনে রেখে এক আলোচনায় ব্যবসায়ীরা দেশের কর ব্যবস্থা সহজ করার সুপারিশ করেছেন। কর আদায় প্রক্রিয়া আরও ব্যবসাবান্ধব করার পাশাপাশি বিনিয়োগের জন্য কর এবং সরকারের অন্যান্য নীতির ধারাবাহিকতা চেয়েছেন। নির্ধারিত করহারের চেয়ে যাতে কার্যকর করহার বেশি না হয়, সেদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন।

গতকাল রোববার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘প্রাক-বাজেট আলোচনা ২০২৪-২০২৫: বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শিরোনামের এ আয়োজনে সহযোগিতা করে দৈনিক সমকাল এবং চ্যানেল টোয়েন্টিফোর। ডিসিসিআই সভাপতি আশরাফ আহমেদের সঞ্চালনায় আলোচনায় সরকারের নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ এবং বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা আগামী বাজেট সামনে রেখে তাদের মতামত তুলে ধরেন। 

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন, সহজ ও দ্রুততম সময়ে সেবা প্রদান এবং কার্যকর অবকাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়নের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হচ্ছে। এর জন্য রাজস্ব বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আমদানি বিকল্প শিল্প প্রতিষ্ঠাসহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে আগামী বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এসব উদ্যোগ বেসরকারি খাতের প্রসারসহ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সার্বিকভাবে আগামী বাজেট হবে বেসরকারি খাতের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক।

আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, বর্তমান সরকার বেসরকারি খাতের উন্নয়ন ও প্রসারে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আয়কর, মূসক ও শুল্ক-সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন ও সংস্কারের মাধ্যমে কর কাঠামোর সক্ষমতা বাড়ানো, অটোমেশন, কর প্রদান প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ঋণের সুদহার যৌক্তিক করা, অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়ীদের জন্য নানা ধরনের প্রণোদনার ব্যবস্থা করা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের অবদান ক্রমশ বাড়ছে। বেসরকারি খাতের উন্নয়ন ও প্রসারে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে গেলেও কিছু কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন প্রয়োজন। বাজেটে সে বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হবে। এ লক্ষ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে ৫০ লাখ টাকার পরিবর্তে ১০ লাখ বা তার বেশি মূসক পরিশোধে ই-পেমেন্ট ও  ই-চালান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদ এমপি বলেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নীতির ধারাবাহিকতা না থাকলে বিদেশিদের অনেকে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখান না। বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীরা অনেক ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগ করে অভ্যস্ত। তবে বিদেশিরা ঝুঁকি নিতে চান না। তিনি মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য বন্ড ও বীমা খাতের উন্নয়ন দরকার। তবে বাংলাদেশে এই দুটি খাত অত্যন্ত দুর্বল হয়ে আছে। এখানে বিশেষ নজর দিতে হবে। স্মার্ট দেশ গড়তে হলে সরকারি-বেসরকারি খাতের মধ্যে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করার দরকার রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। 

তিনি বলেন, কর ব্যবস্থার আরও সহজীকরণ দরকার। অটোমেশন দিনকে দিন হচ্ছে। আরও দরকার। নতুন প্রজন্মের মধ্যে যেন ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি তৈরি না হয়, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। বাজেট এলেই সবাই বলে তার বরাদ্দ কম। অথচ বাস্তবায়ন চিত্র দেখলে দেখা যাবে অত্যন্ত নাজুক। আবার কোন খাত থেকে কেটে তাকে বরাদ্দ দেওয়া যায়, তা নিয়ে প্রশ্ন করলে কোনো জবাব দিতে পারে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি এ. কে. আজাদ এমপি বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য কর্মসংস্থান বাড়ানোর বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। আমাদের এখানে ১ লাখ ২৫ হাজার বিদেশি নাগরিক কাজ করেন। বলা হয়ে থাকে, প্রতিবছর তারা ৪ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলার নিয়ে যাচ্ছেন। অথচ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখনও উর্দু, পালি, সংস্কৃতির মতো বিভিন্ন বিষয় পড়ানো হচ্ছে। কর্মসংস্থানে যা ভূমিকা রাখতে পারছে না। কর্মসংস্থান এবং  রাজস্ব আয় বাড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে হলে সুশাসনের কোনো বিকল্প নেই। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর জোর দেন তিনি।

এ. কে. আজাদ আরও বলেন, ৯ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে এখন ১৪ শতাংশ গুনতে হচ্ছে। বাড়তি এই সুদের কারণে অনেকে খেলাপি হয়ে পড়বে। আবার ডলারের সরকারি দর ১১০ টাকা বলা হলেও আমদানিতে কিনতে হচ্ছে ১২৪ টাকায়। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ১২৪ টাকা ধরে শুল্কায়ন করছে। সরকারি অন্যান্য সংস্থা হিসাব করার সময় ডলারের দর ১১০ টাকা ধরে বলছে ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে দর বাড়ায়। এ অবস্থার অবসান দরকার। যে কারণে ৯ শতাংশ সুদ ১৪ শতাংশে এবং ১১০ টাকার ডলার ১২৪ টাকায় কিনতে হচ্ছে, সেই নীতির সংশোধন করতে হবে। তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে এখন ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ দেখানো হচ্ছে। তবে অর্থনীতিবিদ মইনুল ইসলামের মতে, ব্যাংক খাতে প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ। বিভিন্ন ড্রেসিংয়ের মাধ্যমে অনেক খেলাপি ঋণ নিয়মিত দেখানো হয়। সরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২৫ শতাংশের ওপরে। ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংককে স্বাধীনতা দিতে হবে। কোনো অনিয়ম ধরার পর স্বাধীনভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি বলেন, ঋণ নিয়ে যারা বিনিয়োগ না করে বিদেশে নিয়ে গেছে, তাদের নাম-তালিকা প্রকাশ করতে হবে। প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিটি ব্যাংকে বিশেষ অডিট করে এ ধরনের তালিকা করতে পারে। তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করবে। সমাজে তারা চাপে পড়বে।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, কর প্রদান সহজ হলে রাজস্ব আয় বাড়বে। তবে জিনিসটি তত সহজ নয়। সহজীকরণ এবং রাজস্ব আদায়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হয়। তবে কর আহরণ এনবিআরের একমাত্র লক্ষ্য নয়। করপোরেট, ব্যক্তি পর্যায়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে করহার কমানো হয়েছে। ব্যক্তি করদাতার সংখ্যা চার বছরে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২০ সালের ২১ লাখ থেকে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসাবে এ সংখ্যা ৩৭ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। বিআইএনধারী ভ্যাটদাতা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২০২০ সালের ২ লাখ থেকে এখন ৫ লাখে উন্নীত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে কীভাবে দেশের মধ্যে উৎপাদন বাড়ানো যায়, সে ধরনের কর নীতি নেওয়া হয়েছে। উচ্চ মূল্য সংযোজিত রপ্তানি পণ্য উৎপাদনে বিভিন্ন ধরনের ছাড় দেওয়া হচ্ছে। সরকারের নীতির কারণে এরই মধ্যে মোবাইল, টেলিভিশন, ফ্রিজ এবং এসির উৎপাদন বেড়েছে। এসব পণ্যের ৯৫ শতাংশ দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে। লিফট, ফোর হুইলারের উৎপাদন বাড়ানোর ওপর নীতি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ বলেন, খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধন করা হয়েছে। এ ছাড়া অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠনেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি নেওয়া হয়েছে। আর এ ক্ষেত্রে সুদহার বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশ অনেক আগ থেকেই আগ্রাসীভাবে সুদহার বাড়ানোর নীতি নিয়েছে। তবে আমরা এ ক্ষেত্রে ব্যবসা-বাণিজ্যের কথা চিন্তা করে অনেক দেরিতে সুদহার বাড়িয়েছি। ‘স্মার্ট রেট’ নিয়ে অনেকে সমালোচনা করেন। স্মার্ট রেট কার্যকর না করে কেবল বাজারের ওপর ছেড়ে দিলে সুদহার একবারে অনেক বেড়ে ব্যবসায়ীরা চাপে পড়তে পারে।

আর্থিক খাত সংস্কারে জোর

ডিসিসিআইর প্রস্তাবে একটি টেকসই আর্থিক খাত প্রতিষ্ঠার জন্য কিছু আইন ও নীতির সংস্কারের কথা বলা হয়। আলোচনায় ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য আফতাবুল ইসলাম ব্যাংক একীভূতকরণ নিয়ে সরকারের অবস্থানের ব্যাখ্যা বাজেট বক্তব্যে থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন।

বিএসইসির সাবেক কমিশনার আরিফ খান বলেন, সহজে পাওয়া যায় বলে সব ধরনের তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে। দীর্ঘমেয়াদি তহবিল সমস্যার সমাধান করতে হলে বন্ড ও পুঁজিবাজারের উন্নয়ন করতে হবে।

ডিসিসিআইর সাবেক সভাপতি ও ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক রিজওয়ান রাহমান বলেন, বীমা খাতের প্রসারে অনেক সুযোগ রয়েছে। তিনি পুনঃবীমার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার এবং জীবন বীমার পলিসি হোল্ডারদের ৫ শতাংশ গেইন ট্যাক্স প্রত্যাহারের সুপারিশ করেন।

অবকাঠামো উন্নয়নে জোর

অবকাঠামো উন্নয়নে পুঁজিবাজার থেকে  তহবিল সংগ্রহ, সাশ্রয়ী ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন সুপারিশ করে ডিসিসিআই। এ-সংক্রান্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আলী জওহর রিজভী বলেন, সুদহারের বর্তমান ব্যবস্থাকে বলা হচ্ছে ‘স্মার্ট’। তবে এ ব্যবস্থা অত্যন্ত ‘আনস্মার্ট’। এভাবে সুদহার বাড়লে অর্থনীতি গতিশীল বা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ হবে না। প্রতি মাসে যেভাবে সুদহার বাড়ছে, তাতে খেলাপি ঋণ না কমে আরও বাড়বে।

পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হলে জ্বালানি ও সংযোগ অকাঠামো– এ দুটি জায়গায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। কিছুদিন ধরে গ্যাস সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আগামী তিন-চার বছরের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে না পারলে রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

কনফিডেন্স গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ইমরান করিম বলেন, বিদ্যুতের দর স্থিতিশীল রাখার জন্য সব ধরনের জীবাশ্ম জ্বালানির আমদানি পর্যায়ে শুল্কহার একই থাকা দরকার।

আয়কর ও ভ্যাট 

ডিসিসিআই বলেছে, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির তুলনায় রাজস্ব বাড়ছে না। কারণ করদাতা নিবন্ধন বাড়লেও সে হারে রিটার্নের সংখ্যা বাড়ছে না। এ পরিস্থিতিতে করজালের আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি কর প্রদান ব্যবস্থা সহজীকরণের মাধ্যমে জিডিপিতে রাজস্বের অবদান বাড়াতে হবে। 

এ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে আইসিএবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শুভাশীষ বসু বলেন, কিছু নীতিগত ত্রুটির কারণে যারা আয়কর দিতে সক্ষম, তারা অনেকেই কর দেন না। কর আদায় নীতি সংশোধন প্রয়োজন। এ ছাড়া কর আদায় কার্যক্রমকে অবশ্যই অটোমেশন করতে হবে। 

এনবিআরের সাবেক সদস্য ফরিদ উদ্দিন বলেন, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হয়ে যাবে তখন কর-জিডিপির অনুপাত অন্তত ১৩ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। কিন্তু বর্তমানে এ অনুপাত মাত্র সাড়ে ৮ শতাংশ। তাও আবার এনবিআর রাজস্বের ৮০ শতাংশই আসে পরোক্ষ কর থেকে। ভ্যাট আইনে ৯টি রেট রাখা হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যত দ্রুত সম্ভব এটিকে ২০১২ সালের মূল আইনের সঙ্গে সমন্বয় করে সংশোধন করতে হবে। দেশের অর্থনীতির আকার অনুযায়ী, অন্তত ৬ থেকে সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা কর আহরণ সম্ভব। কিন্তু নীতি ও পদ্ধতিগত দ্রুতি এবং কর প্রদানের কালচার গড়ে না উঠায় সম্ভব হচ্ছে না।

ইউনিলিভার বাংলাদেশের কর বিভাগের প্রধান সাঈদ আহমেদ খান বলেন, বাংলাদেশে করসংক্রান্ত নীতি খুব দ্রুত পরিবর্তন হয়। কিন্তু বিদেশি উদ্যোক্তারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। তাই দ্রুত পরিবর্তনশীল এ নীতি বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টে অন্যতম বাধা। একই সঙ্গে রাজস্ব খাতের অটোমেশন ও ব্যাংক খাতে দুর্বলতার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ইফাদ গ্রুপের পরিচালক তাসকিন আহমেদ বলেন, বর্তমানে আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ এআইটি কাটা হয়। আইন অনুযায়ী, পরে এটি সমন্বয় করার কথা থাকলেও বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে তা সম্ভব হয় না। তিনি কোম্পানিগুলোকে দ্বৈত কর থেকে রেহাই দেওয়ার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগের আহ্বান জানান।

শিল্প ও বাণিজ্য 

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বর্তমানে ইচ্ছাকৃত খেলাপি এবং অনিচ্ছাকৃত খেলাপি সবার জন্য একই আইন বিদ্যমান। এতে ব্যবসায় বিনিয়োগ করে অনিচ্ছাকৃত কারণে লোকসান করে খেলাপি হলে তারা বিপদে পড়েন। এ ক্ষেত্রে ক্রেতা প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হওয়ায় রপ্তানি বিল না এলে তারা সুবিধা পাচ্ছেন না। এসব সমস্যা দূর করতে না পারলে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা নতুন বিনিয়োগে উৎসাহী হবেন না। 

এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্পে জ্বালানি উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ। আরেক সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার সামীর সাত্তার বলেন, শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ নিশ্চিতের দাবি জানান। সোনালি আঁশ ইন্ডাস্ট্রিজের এমডি মাহবুবুর রহমান পাটওয়ারী পাট খাতে কর ছাড়ের দাবি করেন।

আরও পড়ুন

×