ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কৃচ্ছ্রসাধনের দ্বিগুণ খরচ ভর্তুকি ও সুদ পরিশোধে

কৃচ্ছ্রসাধনের দ্বিগুণ খরচ ভর্তুকি ও সুদ পরিশোধে
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৩ | ০৩:৫০ | আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২৩ | ০৩:৫০

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের শুরু থেকে বিভিন্ন খাতে ব্যয় সাশ্রয়ের পদক্ষেপ গ্রহণ করে সরকার। এর ফলে পরিচালন বাজেটে এবার ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি সাশ্রয় হবে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে ভর্তুকি ও ঋণের সুদ পরিশোধে চলতি অর্থবছরে বাড়তি ব্যয় হবে ৩০ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ কৃচ্ছ্রসাধন নীতির মাধ্যমে যে পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে, তার দ্বিগুণেরও বেশি চলে যাচ্ছে ভর্তুকি ও সুদ পরিশোধে।

গত বুধবার অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারের আর্থিক, মুদ্রা ও মুদ্রা বিনিময় হার সংক্রান্ত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের বৈঠকে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট অনুমোদন করা হয়।

বৈঠকে উপস্থাপিত অর্থ বিভাগের প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলমান কৃচ্ছ্রসাধন নীতির পরিপ্রেক্ষিতে চলতি অর্থবছরে পণ্য ও সেবা এবং সম্পদ সংগ্রহ ও পূর্ত কাজ খাতে ৬ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা কম খরচ হবে। এ ছাড়া বেতন-ভাতা খাতে ১ হাজার ৯৩ কোটি টাকা এবং শেয়ার ও ইকুইটিতে বিনিয়োগ খাতে ৭ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। সব মিলিয়ে ১৫ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা ব্যয় সাশ্রয়ের আশা করা হচ্ছে।

এদিকে চলতি অর্থবছরে কৃষি, বিদ্যুৎ ও খাদ্য ভর্তুকি বাবদ ২১ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রয়োজন হচ্ছে। আর সুদ পরিশোধে ৯ হাজার ৬৩৮ কোটি বাড়তি ধরা হচ্ছে। সংশোধিত বাজেটে এ বরাদ্দ ৮০ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯০ হাজার ১৩ কোটি টাকা করা হয়েছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, কাঠামোগত সমস্যার কারণে বিদ্যুতে ভর্তুকি এবং সুদ পরিশোধে ব্যয় বাড়ছে। সরকারকে এ বিষয়ে নজর দিতে হবে। এসব খাতে খরচ বাড়তে থাকলে আগামীতে অর্থনীতিতে চাপ আরও বাড়বে। এ ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতে ব্যয় সংকোচননীতি ঠিক রয়েছে। তবে মধ্য মেয়াদে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়িয়ে জনস্বার্থ-সংক্রান্ত ব্যয় আরও বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের আকার প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৬ লাখ ৬০ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা করা হচ্ছে। তবে ভর্তুকি ও সুদ পরিশোধে ব্যয় বাড়ায় সরকারের পরিচালন ব্যয় মূল বাজেটের চেয়েছে কিছুটা বেড়ে ৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×