কৃষি খাতে ঋণ দেওয়া হবে ৩৯ হাজার কোটি টাকা
.
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৫ | ২৩:৫৮
কৃষি খাতে ব্যাংকগুলোর জন্য ৩৯ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়িয়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রকৃত কৃষক যেন ঋণ পান, তা নিশ্চিতে তদারকি বাড়াবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ে ঋণ বিতরণের আওতা বাড়াতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি ও পল্লি ঋণ নীতিমালা ঘোষণা করেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর, উপদেষ্টা, নির্বাহী পরিচালকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা।
এর আগে এমডিদের নিয়ে বৈঠকে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন গভর্নর। সেখানে বক্তব্য দেন সোনালী ব্যাংকের এমডি শওকত আলী খান, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিন, ইসলামী ব্যাংকের এমডি ওমর ফারুক খান ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসের এজাজ বিজয়।
গভর্নর সাংবাদিকদের বলেন, প্রকৃত কৃষক ঋণ পাচ্ছেন কিনা, তা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকৃত কৃষক যেন ঋণ পান, সে বিষয়ে তদারকি বাড়ানো হবে। এ ছাড়া কৃষি খাতে যে বীমার কথা বলা হচ্ছে, তা আদৌ সম্ভব নয়। আসল বীমাই হয় না, কৃষি বীমা হবে কী করে। এর পরও এটা করতে পারলে স্বাগত জানাতে হবে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা ছাপিয়ে কৃষি খাতের ঋণে পুনঃঅর্থায়ন করছে। আমি মনে করি, এই অর্থ বাজেটে বরাদ্দ থাকা উচিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের এটা কাজ নয়। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এ ধরনের পুনঃঅর্থায়ন কমিয়ে আনার কথা বলেছে। আমিও তাদের সঙ্গে একমত। সরকার বাজেট থেকে টাকা দিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার ব্যবস্থাপনা করতে পারে।’
নতুন কৃষি ঋণ নীতিমালায় কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের আওতা বাড়িয়ে খিরা, কচুর লতি, কাঁঠাল, বিটরুট, কালোজিরা, বস্তায় আদা রসুন ও হলুদ চাষ, খেজুরের গুড় উৎপাদনে ঋণ যুক্ত করা হয়েছে। অঞ্চলভেদে বাস্তবতার আলোকে কৃষকের প্রকৃত চাহিদার ভিত্তিতে কৃষি ঋণ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে ফসলভিত্তিক নির্ধারিত ঋণ ও বিনিয়োগের পরিমাণ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো বা কমানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংক কর্তৃক কৃষি ঋণ বিতরণ ও আদায়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান আয়োজন এবং নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী কৃষকদের পুরস্কার দিতে বলা হয়েছে।
ব্যাংকগুলোর জন্য গত অর্থবছর ৩৮ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল, যার বিপরীতে ৩৭ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা বা ৯৮ দশমিক ২৩ শতাংশ বিতরণ হয়েছে। এবার এ লক্ষ্যমাত্রা গত অর্থবছরের তুলনায় ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেশি। এবার প্রথমবারের মতো কৃষি ঋণের কর্মসূচিতে প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংককে যুক্ত করা হয়েছে।
গত অর্থবছরের নীতিমালায় আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ বিতরণে সিআইবি রিপোর্ট লাগবে না বলে জানানো হয়। তবে গত মার্চে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়, যে কোনো অঙ্কের ঋণে সিআইবি রিপোর্ট নিতে হবে। এ বিষয়টি নীতিমালায় যুক্ত করে বলা হয়েছে, আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত সিআইবি রিপোর্ট নিতে কোনো চার্জ নেওয়া যাবে না। এ ছাড়া মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে ডিপি নোট (১০ টাকা থেকে ৫০ টাকার স্ট্যাম্প/সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী), লেটার অব হাইপোথিকেশন (স্ট্যাম্প প্রয়োজন নেই), ব্যক্তিগত গ্যারান্টি (স্ট্যাম্প প্রয়োজন নেই) ছাড়া আর কোনো মাশুল নেওয়া যাবে না।
- বিষয় :
- কৃষক