হালাল পণ্য রপ্তানিতে একক কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রস্তাব
প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিসিআইর প্রতিবেদন দাখিল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১০
| প্রিন্ট সংস্করণ
রপ্তানি বহুমুখীকরণের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে হালাল পণ্য ও সেবা রপ্তানিকে এগিয়ে নিতে স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষ হিসেবে ‘বাংলাদেশ হালাল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হালাল পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ থেকে ১৫ বছরের নীতি-সহায়তা ও প্রণোদনা পরিকল্পনা গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) প্রণীত হালাল বিষয়ে পলিসি গাইডলাইনে এসব প্রস্তাব রয়েছে।
বিসিআই গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গত সোমবার সংগঠনটির সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) পলিসি গাইডলাইনবিষয়ক প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন। বিসিআই হালাল পণ্য বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে করণীয় নির্ধারণে গত জানুয়ারিতে অংশীজন নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক করে। গত জুলাইয়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীজন নিয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা করে এই পলিসি গাইডলাইন তৈরি করেছে। প্রতিবেদনের মূল প্রতিপাদ্য হলো হালাল পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণের অন্যতম প্রধান খাত হতে পারে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশে হালাল পণ্যের বিকাশে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি, হালাল সার্টিফিকেশন, বৈশ্বিক চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি ও শরিয়াহ স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ এবং হালাল পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির কৌশল তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল তৈরি এবং হালাল পণ্যের স্থানীয় ও রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করার জন্য একটি একক ও স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষ গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, দেশে হালাল সনদ দেওয়ার ক্ষেত্রে একক ও মানসম্মত কর্তৃপক্ষ না থাকায় উদ্যোক্তাদের সময় ও অর্থ বেশি ব্যয় হচ্ছে। অ্যাক্রেডিটেড হালাল ল্যাবও নেই। বর্তমানে দুটি প্রতিষ্ঠান হালাল সনদ দেওয়ায় বাংলাদেশের হালাল পণ্যের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংও হচ্ছে না। এ জন্য একটি স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হালাল সনদ প্রদানসহ সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
হালাল পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা বাড়ছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে হালাল পণ্যের চাহিদা ৫ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার। বার্ষিক চাহিদার গড় প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ। ২০৩৪ সাল নাগাদ এ চাহিদা ৯ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে এ চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ পণ্য বাজারে আসতে পেরেছে। অথচ বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ৯৪ কোটি ডলারের হালাল পণ্য রপ্তানি করছে, যা বৈশ্বিক বাজারের চাহিদার শূন্য দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হালাল খাতের অবকাঠামো ও দক্ষ জনবলের সীমাবদ্ধতা, প্রচারণার অভাব ও কারিগরি সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। হালাল পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি জাতীয় পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। রপ্তানি বাড়াতে উপযুক্ত হালাল সনদ ও অ্যাক্রেডিটেড ল্যাব স্থাপন দরকার। হালাল পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট এইচএস কোড থেকে আলাদা হালাল কোড তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে।
বিসিআই মনে করে, ২০৩৪ ও ২০৪০ মেয়াদে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে পরিকল্পনা করা হলে হালাল পণ্য ও সেবা রপ্তানির সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে জাতীয় হালাল নীতিমালা প্রণয়ন, হালাল পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিতে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি নীতি-সহায়তা ও প্রণোদনা দেওয়া প্রয়োজন।
- বিষয় :
- রপ্তানি