মুজিববর্ষ
'পাঁচ বছর কিছু দিবার পারব না'
শেখ ইউসুফ হারুন
প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ০৫ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৫:১৩
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি ক্লাস ফোরের ছাত্র। পিতার চাকরির সুবাদে তার কর্মস্থলে বসবাস করি। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে নানাবাড়ি পাইকগাছা উপজেলার হিতামপুর গ্রামে চলে আসি। নয় মাস মুক্তিযুদ্ধের নানা স্মৃতি আমার স্মৃতিপটে অক্ষয়-অমর। সেগুলো নিয়ে বড় বড় প্রবন্ধ লেখা যেতে পারে। ৯ মাসের যুদ্ধের একপর্যায়ে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ চূড়ান্ত রূপ নিতে শুরু করে। ধীরে ধীরে স্বাধীনতা অর্জনের পথে মুক্তিযোদ্ধা, জনতা ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণ তীব্র হয়। জয় তখন সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় মাত্র। ১৬ ডিসেম্বর জাতির জীবনে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। সেদিন রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক একটি রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। ১৬ ডিসেম্বরের পরে বাংলাদেশের পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর রাজাকার, আলবদর ও তথাকথিত শান্তি কমিটির সদস্যরা ছদ্মবেশ ধারণ করে পালাতে থাকে। ভারতে আশ্রয়রত শরণার্থীরা একে একে পরিবার-পরিজনসহ গ্রামে ফিরতে শুরু করেন। তারা ফেলে যাওয়া ঘরবাড়ি সংস্কার করে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার চেষ্টা করেন। স্থানীয়ভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা কমিটি করে দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। আস্তে আস্তে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসতে থাকে। স্কুল-কলেজ খুলতে থাকে। আমরা ক্লাস ফাইভে অটো প্রমোশন পাই।
পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ২৫ মার্চের কালরাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিম পাকিস্তানের মিয়ানওয়ালি কারাগারে বন্দি রাখে। ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান বাহিনী আত্মসমর্পণের পর প্রবাসী সরকার বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে বিশ্বব্যাপী জনমত গড়ে তোলে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হলে পাকিস্তানি বর্বর শাসকগোষ্ঠী বাধ্য হয় তাকে সসম্মানে মুক্তি দিতে। তিনি দীর্ঘ ৯ মাস ১৪ দিন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকেন। বঙ্গবন্ধুকে ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে একটি বিমানে তুলে দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধু লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে পৌঁছলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্থ হিথ তার সঙ্গে দেখা করেন। ৯ জানুয়ারি ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানবাহিনীর একটি বিমানে করে দেশের উদ্দেশে রওনা দিয়ে ১০ তারিখ সকালে দিল্লি পৌঁছান। সেখানে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি ও প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
১০ জানুয়ারি ১৯৭২ জাতির জীবনে আরও একটি অবিস্মরণীয় দিন। কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে দুপুর ১টা ৪১ মিনিটে অবতরণ করেন। সেদিন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছিল কুর্মিটোলায়। বিকেল ৫টায় বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে ১০ লাখ লোকের উপস্থিতিতে এক আবেগপূর্ণ ভাষণ দেন। ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ২৩ সদস্যের আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করে। এ সবকিছু আমার কোমল মনে বিশাল প্রভাব বিস্তার করে। বাংলাদেশ বেতার ও বিসিসির কল্যাণে আমি প্রতিটি মুহূর্ত অনুসরণ করি।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিবিসির ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার পিতার একটি ফিলিপস রেডিও ছিল। সেটির সাইজ অনেক বড়। রাতে হাতে তৈরি অ্যান্টেনা লাগিয়ে বিবিসির সংবাদ শোনা হতো। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের সবার কাছে বিবিসির সংবাদ ছিল সবচেয়ে আকর্ষণীয়। প্রকাশ্যে বিবিসির সংবাদ শোনা অপরাধ ছিল। তাই আমার পিতা গোপনে বিবিসির সংবাদ শুনতেন। বিবিসি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ঘটে যাওয়া প্রতিটি ঘটনা বিশ্নেষণসহ প্রচার করত। বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসটি বিসিসি খুব ঘটা করে প্রচার করেছিল।

বঙ্গবন্ধু সারা বাংলাদেশ সফর করে বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের কাজে জনগণ ও মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ করতেন। দেশ থেকে দুর্নীতি উচ্ছেদ করার জন্য বিভিন্নভাবে সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের তিনি উদ্বুদ্ধ করেছেন। এসব সফর টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। প্রতিটি জনসভায় বিপুলসংখ্যক জনসমাগম হতো। বঙ্গবন্ধুকে দেখতে ও বক্তৃতা শুনতে হাজার হাজার নারী-পুরুষ সমবেত হতো। আমার ছোট্ট মনে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধুকে দেখার ও তার বক্তৃতা শোনার এক দুর্দান্ত আকর্ষণ ছিল। হঠাৎ করেই সে সুযোগটি পেয়ে যাই।
মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ শাহাদৎ হোসেন বাচ্চু ভাইয়ের কাছে জানা যায়, ১৯৭০ সালের নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিকে বঙ্গবন্ধু পাইকগাছা সফরে আসার দিন ও তারিখ ঘোষণা করেন। কিন্তু লঞ্চে করে বিকেল ৪টার আসার কথা থাকলেও রাত্র ৯টায় পাইকগাছা পৌঁছেন। এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু বলেন যে, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয়লাভ করলে তিনি প্রথম পাইকগাছা সফর করবেন। ১০ জানুয়ারি দেশে ফেরার পর এম এ গফুর, এমএনএ বঙ্গবন্ধুকে সে প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
১৯৭২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু পাইকগাছায় আসবেন ঠিক হলো। এর চার-পাঁচ দিন আগে থেকে পাইকগাছা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় দিনরাত বঙ্গবন্ধুর আগমনকে ঘিরে মাইকিং চলছে। এলাকায় সাজসাজ রব। বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। আমার নানাবাড়ি পাইকগাছা সদর থেকে প্রায় ৩১২ কি.মি. দূরে হলেও বঙ্গবন্ধুর আগমনের ঢেউ সেখানে পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আমি আমার মাকে বলি, 'আমি বঙ্গবন্ধুকে দেখতে যাব।' আমার মা তো আমার প্রস্তাব একেবারে উড়িয়ে দিয়ে বললেন, 'তুই ছোট, তোর যাওয়ার দরকার নেই। তাছাড়া তোর সারা গায়ে পাঁচড়া (একধরনের চর্মরোগ)- তুই হাঁটতে পারবি না।' আমরা সবাই জানি মুক্তিযুদ্ধে বিজয় হলে ভারত থেকে দলে দলে শরণার্থীরা তাদের ঘরবাড়িতে ফিরতে থাকে। সে সময় দুটি রোগের প্রাদুর্ভাব হয়, একটি চোখওঠা এবং অন্যটি চুলকানি ও পাঁচড়া। সে সময় আমারও একবার চোখ উঠেছিল। তারপর সারা শরীরে এমন চুলকানি ও ক্ষতের সৃষ্টি হয়, যা সারতে অনেকদিন লেগেছিল। যা হোক, আমি বিভিন্নভাবে আমার মাকে বোঝাতে থাকি আমি যাব। কিন্তু মা একেবারেই অনড় যে, আমার এ শারীরিক অবস্থায় যাওয়া উচিত নয়। আমি এবার আমার মামা বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর রওনক আলী টিপুকে ধরলাম মাকে বোঝানোর জন্য। তিনি জনসভার আগের দিন মাকে বললেন, 'বু, আমি হারুনকে নিয়ে যাব। তুমি কোনো চিন্তা করো না।' মা বললেন, 'ওর সারা গায়ে ঘা, হাঁটতে পারছে না, ওকে তুই কী করে নিবি।' মামা বললেন, 'প্রয়োজনে ঘাড়ে করে নেব।' মা এবার রাজি হলেন। সারারাত উত্তেজনায় আমার চোখে ঘুম এলো না।
২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২-এর সকাল। আমার মনের মধ্যে আনন্দের ফল্কগ্দুধারা বয়ে চলছে। মনে মনে বঙ্গবন্ধুকে কল্পনা করছি। প্রতীক্ষার প্রহর যেন শেষ হয় না। কখন আসবে সেই কাঙ্ক্ষিত সময়। বঙ্গবন্ধুকে সামনে থেকে দেখতে পাব এবং তার বক্তৃতা শুনতে পাব। ভেতরে ভেতরে প্রবল উত্তেজনায় সারা শরীর দুলছে। মা আমার সকালবেলা গোসল করিয়ে জামাকাপড় পরিয়ে দিলেন। আমার মামা আমাকে নিয়ে পাইকগাছার দিকে রওনা হলেন। মনে আছে ফেব্রুয়ারি মাস, তখন শীত শেষ হয়নি। সূর্যের তাপ তেমন প্রখর নয়। তাড়াতাড়ি পাইকগাছা পৌঁছানোর জন্য তাই আমাকে নিয়ে মামা মূল রাস্তা বাদ দিয়ে বিলের মধ্য দিয়ে রওনা হলেন। পাইকগাছা যেতে যেতে দেখলাম আমাদের মতো হাজার হাজার লোক বিলের মধ্য দিয়ে পাইকগাছার দিকে রওনা হয়েছে। আমার যাতে কষ্ট না হয় এজন্য মামা আস্তে আস্তে হাঁটছেন। অবশেষে সকাল ৯টার দিকে পাইকগাছা পৌঁছালাম। পাইকগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের (বর্তমানে পাইকগাছা সরকারি স্কুল) পূর্বদিকের মাঠে একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। মাঠটি লোকারণ্য। অনেকে আবার আশপাশের গাছে চড়ে বসে আছেন বঙ্গবন্ধুকে দেখবেন বলে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে মাঠের শৃঙ্খলা রক্ষায় ছুটোছুটি করছে। বেলা যত গড়াচ্ছে লোকসমাগম বাড়ছে। আশপাশের বাড়ির ও স্কুলের ছাদ লোক দিয়ে পরিপূর্ণ। যতদূর মনে পড়ে সকাল ১১টার দিকে বঙ্গবন্ধু হেলিকপ্টারে চড়ে পাইকগাছা এসেছিলেন। জনসভাস্থলে তখন তিল ধারণের স্থান নেই। কিছুক্ষণ পর দেখলাম প্রায় ৬ ফুট লম্বা শ্বেতশুভ্র পায়জামা, পাঞ্জাবি ও মুজিবকোট পরিহিত এক ব্যক্তি ভিড় ঠেলে সামনে আসছেন। তার পেছনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মুহুর্মুহু স্লোগান দিচ্ছেন, 'জয় বাংলা' 'জয় বঙ্গবন্ধু' 'জেলের তালা ভেঙেছি, শেখ মুজিবকে এনেছি'। তিনি দৃপ্ত পদক্ষেপে মঞ্চের দিকে এগিয়ে গেলেন এবং জনগণের উদ্দেশে হাত নাড়লেন। জনগণের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলো। আমি অভিভূত- আমার স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু, যিনি ৭ মার্চ তর্জনী হেলিয়ে বলেছিলেন, 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।' তিনি আজ আমার সামনে। এই হেলানো তর্জনী থেকে বেরিয়ে এসেছে আমাদের স্বাধীনতা।
আমি বয়স ও লম্বায় একেবারে ছোট বলে আমার মামা আমাকে উত্তর দিকের বাড়ির ভগ্ন প্রাচীরের ওপর দাঁড় করিয়ে দিলেন। সভা শুরু হলো। অনেক পরে জেনেছি সভায় সভাপতিত্ব করেন পাইকগাছা অঞ্চলের নেতা ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পাইকগাছা-কয়রা ও আশাশুনি নির্বাচনী এলাকা হতে নির্বাচিত এমএনএ এম এ গফুর। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ একে একে বক্তৃতা দিলেন। এবার বঙ্গবন্ধুর পালা। তিনি দাঁড়িয়ে, 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, ভায়েরা আমার ...' বলে বক্তৃতা শুরু করেন। বক্তৃতার মাঝে আওয়ামী লীগের কর্মীরা মুহুর্মুহু স্লোগানে মাঠ কাঁপিয়ে তুলছিলেন। বঙ্গবন্ধু মাঝেমধ্যে তাদের হাতের ইশারায় থামতে বলছেন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট তিনি বক্তৃতা দিয়েছিলেন। সব কথা আমার মনে নেই। তবে দু'একটি বাক্য আমার এখনও মনে আছে। তিনি বলেছিলেন, 'লালঘোড়া দাবড়িয়ে ছাড়ব', 'পাঁচ বছর কিছু দিবার পারব না'। এখন বুঝতে পারি 'লালঘোড়া' বলতে তিনি দুর্নীতির লালঘোড়াকে বুঝিয়েছেন। তিনি যখন বলেন, 'পাঁচ বছর কিছু দিবার পারব না' তখন জনগণ হাত উঁচিয়ে অকুণ্ঠচিত্তে সমর্থন জানিয়েছিলেন। কারণ তাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া স্বাধীনতা তিনি তো এনে দিয়েছেন, আর কী চাওয়ার থাকতে পারে। প্রকৃত অর্থে বঙ্গবন্ধু একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠনের জন্য জনগণের কাছে সময় চেয়েছিলেন। 'জয় বাংলা' বলে তিনি সভা শেষ করেন। আমরা বক্তৃতার অনুরণন নিয়ে যার যার ঘরে ফিরে এলাম। বঙ্গবন্ধুকে দেখার ও বক্তৃতা শোনার আমার আকাঙ্ক্ষাটি পূরণ হলো। পরে জেনেছি, এরপরে বঙ্গবন্ধু আলমতলা নামক স্থানে কয়েকটি পোল্ডারের ফসল রক্ষায় বাঁধ মেরামতের জন্য মাটি খনন করেন।
বঙ্গবন্ধুর এই সফর অনেক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। একদিকে তিনি দক্ষিণাঞ্চলের একটি অনুন্নত উপজেলার জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছিলেন, অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রতি তার অফুরন্ত যে ভালোবাসা সেটি প্রকাশ পেয়েছে। তিনি যে সময় সফর করেন তখন বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা তেমন উন্নত ছিল না। সর্বত্র ছিল অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি। তা ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে তখন নকশাল আন্দোলন বিস্তৃত ছিল। এ রকম একটি পরিবেশে তিনি নিজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে পাইকগাছা সফর করেছিলেন। ওইদিন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও মুক্তিযোদ্ধারা বঙ্গবন্ধুকে নিরাপত্তা দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু ছিলেন তাদের প্রাণ।
কর্মসূত্রে আমি ৩১২ দিনের বেশি সময় গোপালগঞ্জে কাটিয়েছি। কতবার টুঙ্গিপাড়া গিয়েছি এর সংখ্যা মনে নেই। বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি স্মরণে শ্রদ্ধায় অবনত হয়েছি। এ মহান পুরুষের কাছে ঋণ কি জাতি কোনোদিন পরিশোধ করতে পারবে?
সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
- বিষয় :
- মুজিববর্ষ
- শেখ ইউসুফ হারুন