মানবসম্পদ
জনসেবার মানোন্নয়নে ওয়ার্কপ্লাস কাউন্সেলিং
×
মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২১ | ১২:০০
ওয়ার্কপ্লাস কাউন্সেলিং আধুনিক কর্মী ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিজ্ঞানমনস্ক অনুধ্যান। এ প্রক্রিয়ায় কর্মক্ষেত্রে কর্মজীবী মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও দাম্পত্য এবং কর্মস্থলের দিনান্তিক সমস্যাগুলো সমাধানের লক্ষ্যে পেশাদার পরামর্শদাতার মাধ্যমে পরিকল্পিত সেবা দেওয়া হয়। ওয়ার্কপ্লাস কাউন্সেলিংয়ের মৌল উদ্দেশ্য হচ্ছে কর্মজীবী মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটানো, কর্মীর আত্মমর্যাদাবোধ, আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলা, আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা, আরোপিত কর্ম সম্পাদনে সক্ষম করে তোলা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলা এবং কর্মক্ষেত্রে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করে তোলা। এ ধরনের কাউন্সেলিং হতাশ ও বিপদগ্রস্ত এবং ভগ্নদশা কর্মজীবী মানুষকে পুরোপুরি সক্ষম একজন কর্মস্পৃহ, কর্মোদ্দীপ্ত ও প্রাণবন্ত কর্মীতে পরিণত করে।
নানা কারণে কর্মক্ষেত্রে একজন কর্মজীবীর কর্মক্ষমতা কমতে পারে। কর্মস্থলের দ্বান্দ্বিক পরিবেশ, বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হওয়া, যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তের শিকার হওয়া, অতিরিক্ত কর্মভার আরোপ, কর্মের অনিশ্চয়তা, প্রত্যাশিত কর্ম না পাওয়া, বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক শাস্তি আরোপ, দীর্ঘকালীন নিম্নমানের পদায়ন, জুনিয়র কর্মকর্তার অধীনে চাকরি করা, কাজের স্বীকৃতির অভাব, বিরক্তিকর কাজ ইত্যাদি উপাদানের পাশাপাশি কর্মজীবীর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়গুলো, যেমন পারিবারিক ও দাম্পত্য দ্বন্দ্ব-কলহ, বিষণ্ণতা, উদ্বেগ, নিদ্রাহীনতা, স্থায়ী রোগবালাই, আকস্মিক কোনো বিপদ কিংবা দুরারোগ্য কোনো ব্যাধি ইত্যাদি বিষয় কর্মক্ষেত্রে কর্মজীবীর কর্ম, আচরণ, সম্পর্ক ও কর্মক্ষমতায় দেখা দিতে পারে নানান অসংগতি। এতে কর্মে মনোযোগ, মেধা ও ধীশক্তি হ্রাস পায়। কর্মক্ষেত্রে আন্তঃব্যক্তিক মিথস্ট্ক্রিয়া ও আচরণে ভারসাম্য বিনষ্ট হয়; অনুপস্থিতির হার বৃদ্ধি পায়; কর্মসম্পাদনের সময়সীমা অতিক্রান্ত হয়; কর্মের নিম্নমান প্রদর্শিত হয় এবং কর্মে পৌনঃপুনিক ভুল হয়; এবং ভুলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পেশাদার সমাজকর্মীদের জাতীয় সংগঠন 'ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব সোশ্যাল ওয়ার্কার্স' (এনএএসডব্লিউ) কর্তৃক পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় প্রকাশ পায়, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৮ শতাংশ কর্মজীবী মানসিকভাবে সমস্যাগ্রস্ত। ফলে একজন সুস্থ কর্মজীবী অপেক্ষা একজন সমস্যাগ্রস্ত কর্মজীবীর কর্মক্ষমতা প্রায় ২৫ শতাংশ কম। যে কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্যই তা অদৃশ্যমান এক বিরাট ক্ষতি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রায় ১৬ দশমিক ০৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ মানসিকভাবে সমস্যাগ্রস্ত, যার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।
২০০৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক মানসিক স্বাস্থ্য নীতিমালা গ্রহণ করা হয়েছে। তাছাড়া সরকার ১৯১২ সালের পাগল আইনকে সংশোধন করে ২০১৮ সালে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য আইন প্রণয়ন করেছে। মানসিকভাবে অসুস্থ সব মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং মানবাধিকারের প্রতি মর্যাদা ও সম্মান বজায় রেখে মানসিক অসুস্থতার চিকিৎসাসেবা প্রদানের সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ওই আইনে বলা হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে ওই আইনে সবিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে সরকারি পর্যায়ে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশন অ্যান্ড কাউন্সেলিং সায়েন্স ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগসহ কয়েকটি সরকারি হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় ও কতিপয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত, দাম্পত্য, পারিবারিক ও গ্রুপ সাইকিয়াট্রিক কাউন্সেলিং সেবা প্রদানের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু সরকারি ও বেসরকারি কর্মক্ষেত্রে একজন কর্মজীবী মানুষের মানসিক ও পেশাগত স্বাস্থ্যের (অকুপেশনাল হেলথ) জন্য কাউন্সেলিং সেবা তেমন চোখে পড়ে না। তবে বাংলাদেশে বৃহৎ এনজিওগুলোর মধ্যে ব্র্যাক এ ক্ষেত্রে অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। 'মন খুলে কথা বলা' শীর্ষক কর্মসূচির মাধ্যমে ব্র্যাক তিনজন পেশাদার মনোচিকিৎসাবিদ নিয়োগ করে কর্মস্থলে কর্মীদের মানসিক ও পেশাগত সমস্যার চিকিৎসা সেবা চালু করেছে।
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ উন্নত বিশ্বের প্রায় সব দেশে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মানসিক ও পেশাগত স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কর্মক্ষেত্রে কাউন্সেলিং সেবা চালু রেখেছে। এক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও সচিবালয়সহ বৃহৎ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে 'এমপ্লয়ি অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম' (ইএপি) বা কর্মী সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ওয়ার্কপ্লাস কাউন্সেলিং কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে। এ ধরনের কর্মসূচি ব্যক্তিগত উপস্থিতিতে কিংবা দূরালাপনীর মাধ্যমেও দেওয়া যেতে পারে। ফলে একজন কর্মজীবী তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও দাম্পত্য সমস্যা কিংবা কর্মক্ষেত্র সংশ্নিষ্ট যে কোনো সমস্যার কথা পেশাদার পরামর্শদাতার কাছে খোলামেলা বর্ণনা করতে পারেন। পরামর্শদাতা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে তার পেশাগত জ্ঞান, উপলব্ধি ও অভিজ্ঞতার আলোকে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির পদসোপান, ধর্ম, বর্ণ ও সংস্কৃতি নির্বিশেষে তার ব্যক্তিগত ও কর্মস্থল সংশ্নিষ্ট গোপনীয়তা বজায় রেখে সমস্যা সমাধানের জন্য উপযুক্ত পরামর্শ ও নির্দেশনা প্রদান করবেন।
বর্তমান সরকারের বহুমুখী প্রশাসনিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে জনসেবার মানোন্নয়নে ওয়ার্কপ্লাস কাউন্সেলিংকে একটি প্রতিফলদায়ক কর্মী ব্যবস্থাপনা কৌশল হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। এর জন্য সরকার কর্তৃক গৃহীত জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য নীতিমালা ও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য আইনের আলোকে কর্মক্ষেত্রে মানসিক ও পেশাগত স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে স্বীকৃতি ও গুরুত্ব দিয়ে একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে বৃহৎ সরকারি ও বেসরকারি কর্মীঘন প্রতিষ্ঠানে এবং বৃহৎ এনজিও ও বৃহৎ করপোরেট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ওয়ার্কপ্লাস কাউন্সেলিং সেবা চালু করা যেতে পারে। এ ধরনের কর্মসূচির ফলে একদিকে যেমন কর্মজীবীর দৈহিক, মানসিক ও সামাজিক কল্যাণ বয়ে আনবে, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানে কর্মে অনুপস্থিতির হার ও কর্মবিমুখতা হ্রাস পাবে। তাই জনসেবার মানোন্নয়নে অন্যতম কৌশল হতে পারে ওয়ার্কপ্লাস কাউন্সেলিং।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বাংলাদেশ পুলিশ, সিআইডি, ঢাকা
নানা কারণে কর্মক্ষেত্রে একজন কর্মজীবীর কর্মক্ষমতা কমতে পারে। কর্মস্থলের দ্বান্দ্বিক পরিবেশ, বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হওয়া, যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তের শিকার হওয়া, অতিরিক্ত কর্মভার আরোপ, কর্মের অনিশ্চয়তা, প্রত্যাশিত কর্ম না পাওয়া, বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক শাস্তি আরোপ, দীর্ঘকালীন নিম্নমানের পদায়ন, জুনিয়র কর্মকর্তার অধীনে চাকরি করা, কাজের স্বীকৃতির অভাব, বিরক্তিকর কাজ ইত্যাদি উপাদানের পাশাপাশি কর্মজীবীর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়গুলো, যেমন পারিবারিক ও দাম্পত্য দ্বন্দ্ব-কলহ, বিষণ্ণতা, উদ্বেগ, নিদ্রাহীনতা, স্থায়ী রোগবালাই, আকস্মিক কোনো বিপদ কিংবা দুরারোগ্য কোনো ব্যাধি ইত্যাদি বিষয় কর্মক্ষেত্রে কর্মজীবীর কর্ম, আচরণ, সম্পর্ক ও কর্মক্ষমতায় দেখা দিতে পারে নানান অসংগতি। এতে কর্মে মনোযোগ, মেধা ও ধীশক্তি হ্রাস পায়। কর্মক্ষেত্রে আন্তঃব্যক্তিক মিথস্ট্ক্রিয়া ও আচরণে ভারসাম্য বিনষ্ট হয়; অনুপস্থিতির হার বৃদ্ধি পায়; কর্মসম্পাদনের সময়সীমা অতিক্রান্ত হয়; কর্মের নিম্নমান প্রদর্শিত হয় এবং কর্মে পৌনঃপুনিক ভুল হয়; এবং ভুলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পেশাদার সমাজকর্মীদের জাতীয় সংগঠন 'ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব সোশ্যাল ওয়ার্কার্স' (এনএএসডব্লিউ) কর্তৃক পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় প্রকাশ পায়, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৮ শতাংশ কর্মজীবী মানসিকভাবে সমস্যাগ্রস্ত। ফলে একজন সুস্থ কর্মজীবী অপেক্ষা একজন সমস্যাগ্রস্ত কর্মজীবীর কর্মক্ষমতা প্রায় ২৫ শতাংশ কম। যে কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্যই তা অদৃশ্যমান এক বিরাট ক্ষতি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রায় ১৬ দশমিক ০৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ মানসিকভাবে সমস্যাগ্রস্ত, যার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।
২০০৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক মানসিক স্বাস্থ্য নীতিমালা গ্রহণ করা হয়েছে। তাছাড়া সরকার ১৯১২ সালের পাগল আইনকে সংশোধন করে ২০১৮ সালে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য আইন প্রণয়ন করেছে। মানসিকভাবে অসুস্থ সব মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং মানবাধিকারের প্রতি মর্যাদা ও সম্মান বজায় রেখে মানসিক অসুস্থতার চিকিৎসাসেবা প্রদানের সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ওই আইনে বলা হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে ওই আইনে সবিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে সরকারি পর্যায়ে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশন অ্যান্ড কাউন্সেলিং সায়েন্স ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগসহ কয়েকটি সরকারি হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় ও কতিপয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত, দাম্পত্য, পারিবারিক ও গ্রুপ সাইকিয়াট্রিক কাউন্সেলিং সেবা প্রদানের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু সরকারি ও বেসরকারি কর্মক্ষেত্রে একজন কর্মজীবী মানুষের মানসিক ও পেশাগত স্বাস্থ্যের (অকুপেশনাল হেলথ) জন্য কাউন্সেলিং সেবা তেমন চোখে পড়ে না। তবে বাংলাদেশে বৃহৎ এনজিওগুলোর মধ্যে ব্র্যাক এ ক্ষেত্রে অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। 'মন খুলে কথা বলা' শীর্ষক কর্মসূচির মাধ্যমে ব্র্যাক তিনজন পেশাদার মনোচিকিৎসাবিদ নিয়োগ করে কর্মস্থলে কর্মীদের মানসিক ও পেশাগত সমস্যার চিকিৎসা সেবা চালু করেছে।
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ উন্নত বিশ্বের প্রায় সব দেশে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মানসিক ও পেশাগত স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কর্মক্ষেত্রে কাউন্সেলিং সেবা চালু রেখেছে। এক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও সচিবালয়সহ বৃহৎ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে 'এমপ্লয়ি অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম' (ইএপি) বা কর্মী সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ওয়ার্কপ্লাস কাউন্সেলিং কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে। এ ধরনের কর্মসূচি ব্যক্তিগত উপস্থিতিতে কিংবা দূরালাপনীর মাধ্যমেও দেওয়া যেতে পারে। ফলে একজন কর্মজীবী তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও দাম্পত্য সমস্যা কিংবা কর্মক্ষেত্র সংশ্নিষ্ট যে কোনো সমস্যার কথা পেশাদার পরামর্শদাতার কাছে খোলামেলা বর্ণনা করতে পারেন। পরামর্শদাতা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে তার পেশাগত জ্ঞান, উপলব্ধি ও অভিজ্ঞতার আলোকে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির পদসোপান, ধর্ম, বর্ণ ও সংস্কৃতি নির্বিশেষে তার ব্যক্তিগত ও কর্মস্থল সংশ্নিষ্ট গোপনীয়তা বজায় রেখে সমস্যা সমাধানের জন্য উপযুক্ত পরামর্শ ও নির্দেশনা প্রদান করবেন।
বর্তমান সরকারের বহুমুখী প্রশাসনিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে জনসেবার মানোন্নয়নে ওয়ার্কপ্লাস কাউন্সেলিংকে একটি প্রতিফলদায়ক কর্মী ব্যবস্থাপনা কৌশল হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। এর জন্য সরকার কর্তৃক গৃহীত জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য নীতিমালা ও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য আইনের আলোকে কর্মক্ষেত্রে মানসিক ও পেশাগত স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে স্বীকৃতি ও গুরুত্ব দিয়ে একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে বৃহৎ সরকারি ও বেসরকারি কর্মীঘন প্রতিষ্ঠানে এবং বৃহৎ এনজিও ও বৃহৎ করপোরেট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ওয়ার্কপ্লাস কাউন্সেলিং সেবা চালু করা যেতে পারে। এ ধরনের কর্মসূচির ফলে একদিকে যেমন কর্মজীবীর দৈহিক, মানসিক ও সামাজিক কল্যাণ বয়ে আনবে, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানে কর্মে অনুপস্থিতির হার ও কর্মবিমুখতা হ্রাস পাবে। তাই জনসেবার মানোন্নয়নে অন্যতম কৌশল হতে পারে ওয়ার্কপ্লাস কাউন্সেলিং।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বাংলাদেশ পুলিশ, সিআইডি, ঢাকা
- বিষয় :
- মানবসম্পদ
- মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান