চলচ্চিত্র সংগঠনের নেতারাই করেন না সিনেমার প্রচারণা
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০২:৪৬ | আপডেট: ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০৪:০৮
সিনেমা ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না। একের পর এক হল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যেসব সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে সেগুলোও সঠিক প্রচারণার অভাবে দর্শক পাচ্ছে না। অথচ একটি ছবি ব্যবসায়িক সফলতা পেলে শিল্পী ও প্রযোজক— উভয়ই লাভবান হন। সেক্ষেত্রে নিজ উদ্যোগে নিজের ছবির প্রচার চালানো শিল্পীর দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। এ দায়িত্ব অনেকে দায়সারাভাবে পালন করেন, আবার অনেকের থাকে অনীহা। পাশাপাশি এফডিসিতে সিনেমার মানুষদের প্রায় ১৬টি সমিতি থাকলেও এসব সমিতির নেতাদের কোনো প্রচারণায় অংশ নিতে তেমন একটা দেখা যায় না।
অনলাইন জগতের এই সময়ে প্রচারণার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রামসহ জনপ্রিয় সব অনলাইন প্লাটফর্ম। অথচ এফডিসিস্থ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি, প্রযোজক সমিতি ও পরিচালক সমিতির নেতারা চলচ্চিত্র উন্নয়নের নানা রকম আশার বাণী শোনালেও কখনও কোনো সিনেমার প্রচারে সংগঠনের নেতাদের দেখা মেলেনি।
ফেসবুকে নতুন ছবির প্রচারণার জন্য কখনও একটা পোস্ট করতেও দেখা যায়নি তাদের। শুক্রবার রফিক শিকদার পরিচালিত ‘হৃদয় জুড়ে’ ছবিটি দেশের ১৬ হলে মুক্তি পেয়েছে। এই পরিচালকের দাবি, তিনি পরিচালক সমিতি ও প্রযোজক সমিতির দায়িত্বশীল নেতাদের ফেসবুকে প্রচারণা চালানোর জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তবে সে অনুরোধে তারা সাড়া দেননি।
রফিক শিকদার বলেন, "আমাদের এফডিসিতে চলচ্চিত্রের তিনটি বড় সংগঠন। চলচ্চিত্রের এ দুর্দিনেও সিনেমার প্রচারণায় কখনও নেতাদের দেখা যায়নি। আমার 'হৃদয় জুড়ে' মুক্তি উপলক্ষে সমিতির মহাসচিব ও সভাপতিকে ফেসবুকে একটা পোস্ট দিতে বলেছিলাম। তাদের সময় হয়নি সেটা করার। অন্যদিকে শিল্পী সমিতির নেতার আসনে যারা আছেন তারা মুখে মুখে সিনেমার মঙ্গলের কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে সিনেমার মঙ্গল তারা কতটা চান সেটা প্রশ্ন সাপেক্ষ। কারণ কখনও তাদের অন্য কারও সিনেমা নিয়ে দুটি কথা বলতে শুনিনি। তারা আছেন কেবল তাদের ব্যক্তিগত প্রচারণা নিয়ে।"

তবে পরিচালক সমিতির অনেকেই স্বপ্রণোদিত হয়ে 'হৃদয় জুড়ে'র প্রচারণা করেছেন বলে তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন ছবিটির পরিচালক।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চলচ্চিত্র নির্মাতা বলেন, ‘আমাদের তিনটি সমিতিই বড়। এই তিন সমিতির কোন নেতাকে দেখিনি তারা নতুন কোন ছবি মুক্তি পেলে সেটা নিয়ে কিছু বলতে। তাদের ফেসবুকেও কোন ছবির পোস্টার শেয়ার করে দর্শকদের হলে গিয়ে ছবিটি দেখার জন্য আহ্বান করেন না। তারা আছেন কেবল পিকনিক আর মন্ত্রণালয় গিয়ে সেলফি তুলতে আর সেগুলো ফেসবুকে পোস্ট করতে। অথচ তারা নিজ নিজ ফেসবুকে সিনেমা নিয়ে দু কথা লিখলেও কিছু মানুষ সিনেমাটি নিয়ে জানতো এবং দেখতেও যেতো। সেগুলো তারা করেন না।’
এদিকে কিছু ব্যতিক্রম বাদে ‘প্রচারেই প্রসার’— এই প্রবাদ ঢাকার চলচ্চিত্রের মূলধারার সিনেমায় দেখা যায় না। চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, ঢালিউড আজ যে সংকটে পড়েছে, তার অন্যতম কারণ হচ্ছে ছবি মুক্তির আগে প্রচারণার অভাব। ছবির প্রচারাভিযানে তারকাশিল্পীদের অনুপস্থিতিকে প্রযোজকদের অনেকে পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার অভাব বলেই মনে করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর নিজে সিনেমার প্রচারণার কমতির রাখেন না বলেই জানালেন। তিনি বলেন, ‘ফেসবুকে শেয়ারের বিষয়টিতে আমি হয়তো অতটা নেই। কারণ অনলাইনে অতটা সরবও না আমি। তবে যে কোনো সিনেমা নিয়ে আমি কথা বলি। সিনেমা দেখতে সবাইকে আহ্ববান জানাই। আমার মনে হয় অন্যরাও তাদের সাধ্যমতো করেন।’