বন্দিজীবনের গল্প: দ্য ওয়ান অ্যান্ড ওনলি ইভান

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২০     আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২০   

প্রত্যয় নিশান

১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার এক চিড়িয়াখানায় চিন্তিত এক গরিলার ছবি বিশ্ববাসীকে নাড়া দিয়েছিল। ১৯৬২ সালে আফ্রিকার উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে জন্ম নিয়েছিল সেই গরিলা ইভান। মাত্র দু'বছর বয়সে পশু পাচারকারীরা তাকে এবং তার বোনকে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করে দেয়। জীবন বোঝার আগেই বন্দিজীবন শুরু হয় ইভানের। যুক্তরাষ্ট্রের একটি শপিংমলের গেটে ২৭ বছর বয়সী মাত্র ১৪ স্কয়ার ফুটের এক ঘরে নির্জন কারাবাসে থাকতে বাধ্য হয় ইভান।

দর্শক ও কয়েকজন অনুগত বন্ধু নিয়ে সেই ছোট্ট ঘরেই দীর্ঘ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয় ইভান। শেষে মুক্তি পেয়েও বেশি দিন বাঁচেনি ইভান। করুণ বেদনাদায়ক এ ঘটনার ওপর ভিত্তি করে ক্যাথরিন এলিস অ্যাপ্লিগেট লিখেছেন শিশুতোষ উপন্যাস 'দ্য ওয়ান অ্যান্ড ওনলি ইভান'। নিউ ওবেরি মেডেল বিজয়ী সত্য ঘটনানির্ভর এই বই ঘিরে মাইক হোয়াইটের চিত্রনাট্যে শৈল্পিক পরিচালক থিয়া শারোক নির্মাণ করেছেন ফ্যান্টাসি সিনেমা 'দ্য ওয়ান অ্যান্ড ওনলি ইভান'। অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, অ্যালিসন শিয়ারমুর এবং ব্রিঘাম টেইলরের প্রযোজনায় ডিজনি প্লাসে আগামীকাল থেকে দেখা যাবে ছবিটি। ছবিতে বিগ টপ মল; সার্কাস ক্লাইনের মালিক হিসেবে ম্যাক, মলের দারোয়ান জর্জ হিসেবে রমেন রদ্রিগেজ, জর্জের মেয়ে জুলিয়ার ভূমিকায় আরিয়ানা গ্রিনব্যাট, ক্যানফেস ম্যাকাফি হিসেবে এলিয়েনার মাতসুরা এবং ইন্দিরা ভার্মার চরিত্রে দেখা মিলবে জনপ্রিয় কিছু অভিনয় শিল্পীর।

এছাড়া যথাক্রমে স্যাভ রকওয়েল-গরিলা ইভান, অ্যাঞ্জেলিনা জোলি-আফ্রিকান হাতি স্টেলা, ড্যানি দেভিটো-কুকুর বব, হেলেন মিরেন- স্নিকার্স ও পুডল, ব্রুকলিন প্রিন্স রুবি- শিশুহাতি, চাকা খান- মুরগি, রন ফ্যাঞ্চস মারফি- খরগোশ, ফিলিপা সু- একটি তোতা, মাইক হোয়াইট- ফ্র্যাঙ্কির কণ্ঠস্বর শোনা যাবে প্রাণী চরিত্রের আড়ালে। গল্পটি একটি সহজ সূচনা দিয়ে শুরু হয়েছিল কিন্তু এটি যতটা সহজ লাগে ততটা সহজ নয়। কারণ, ইভানের বন্দিজীবনে বেদনার সুর বেজে ওঠে চরম পরিণতির মধ্য দিয়ে।

তার নিঃসঙ্গ জীবনে কয়েকজন অনুগত বন্ধু ছিল। যার মধ্যে রয়েছে একটি কুকুর, এক বয়স্ক হাতি এবং শেষ পর্যায়ে একটি শিশু হাতি যা ইভানের জীবনকে পুরোপুরি নতুন পথের দিশা দান করে। ছবিটির ট্রেলারে দেখা যায় সেই রঙ দিয়ে চিড়িয়াখানার আদলে চিত্র তৈরি করে এবং একদিন মলের দরজা ভেঙে ইভান বেরিয়ে এলে সাধারণ মানুষ বুঝতে শুরু করে তারা মুক্তি চায়। মানুষ প্রাণীর প্রতি অমানবিক আচরণের প্রতিবাদ শুরু করলে অবশেষে বিজয় আসে কিন্তু এতে কী তাদের চূড়ান্ত মুক্তি মেলে? অসাধারণ এই গল্পের ছবিটি দর্শকদের সেই প্রশ্নের মুখোমুখি করবে।