‘লতাজীর সঙ্গে দেখা করার আগে সারারাত ঘুমাতে পারিনি’
রুনা লায়লা লতা মঙ্গেশকর ও আখিঁ আলমগীর
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ০১:৩০ | আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ০৪:০৭
ভারতীয় উপমহাদেশের সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর আর নেই। টানা প্রায় চার সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার সকাল সোয়া আটটার দিকে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।
কিংবদন্তির মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দক্ষিণ এশিয়ার সংস্কৃতি অঙ্গনে। বাংলাদেশেও তার ব্যতিক্রম নয়। লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে আড্ডা দিতে তার সান্নিধ্যে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিলো বাংলাদেশের কণ্ঠশিল্পী আখিঁ আলমগীরের। সেটা উপমহাদেশের আরেক কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লার মাধ্যমে। পাঁচ বছর আগের ওই সাক্ষাতে আড়াই ঘন্টা গল্প করার সুযোগ হয়েছিলো আখিঁর।

লতার চির বিদায়ের দিনে সমকালের সঙ্গে আড়াই ঘন্টার আলাপের স্মৃতিকাতরতার কথা জানালেন আখিঁ। বললেন, ‘লতাজীর সঙ্গে দেখা করার আগে সারারাত আমি ঘুমাতে পারিনি। কখন সকাল হবে কখন এই কিংবদন্তির সঙ্গে দেখা করবো এই চিন্তাতেই ভোর হয়ে গিয়েছিলো।’
আখিঁ বলেন, ‘লতাজীর সঙ্গে আমাদের দেখা হয়েছিল ২০১৭ সালে। বাবার (নায়ক আলমগীর) 'একটি সিনেমার গল্প' ছবির গান রেকর্ডিং এর জন্য ভারতে গিয়েছিলাম। রেকর্ডিং এর আগে সুযোগটা হয়েছিল, আর সেটা করে দিয়েছিলেন রুনা আন্টি। সেদিন ৩০ মিনিট সময় দেওয়ার কথা বলে আমাদের সঙ্গে আড়াই ঘন্টা আড্ডা দিয়েছিলেন। সে দিনের কথা কোনোদিনই ভুলবো না আমি। এই মুহুর্ততা আমার জীবনের সেরা মুহুর্তের একটি।’

লতাকে তার বাসায় দেখার পর ও আড়াই ঘন্টার পুরোটা সময় আখিঁ আলমগীর লতা মঙ্গেশকরের পায়ের কাছে বসে ছিলেন বলে জানান। আখিঁর ভাষ্য, আমি পুরোটা সময় উনার হাত ধরে পায়ের কাছে বসেছিলাম। যদিও লতাজি বারবার আমাকে উনার পাশে সোফায় বসাতে চাইছিলেন, কিন্তু আমি মেঝেতে উনার পায়ের কাছেই বসেছিলাম। আমি আসলে ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না সেই দিনের অনুভূতি। আমি একটা ঘোরের মধ্যে চলে গিয়েছিলাম।"
ওইদিন লতা মঙ্গেশকর আখিঁ আলমগীরকে বেশ কিছু উপহার দেন। একইসঙ্গে রুনা লায়লাকে একটি শাড়ি, নিজের আত্মজীবনী, ভাগ্নী রচনার লেখা বই এবং নিজের গানের সিডি উপহার দেন। আর তাকে একটি জামদানি শাড়ি উপহার দেন রুনা লায়লা।
- বিষয় :
- লতা মঙ্গেশকর
- মৃত্যু
- আখিঁ আলমগীর