ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নুহাশের সিনেমায় আফজাল হোসেন ও চঞ্চল

নুহাশের সিনেমায় আফজাল হোসেন ও চঞ্চল
×

আনন্দ প্রতিদিন প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:৪৭ | আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:১৯

স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও হরর ঘরানার সিরিজ নির্মাণ করে আগেই দর্শকের নজর কাড়েন নুহাশ হুমায়ূন। এবার সেই নির্মাতা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মুভিং বাংলাদেশ’ নিয়ে মাঠে নেমেছেন। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর অবশেষে শুরু হয়েছে সিনেমাটির শুটিং। এদিকে সিনেমাটির কাস্টিং নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি এখনও। জানা গেছে, সিনেমাটির জন্য বহু নতুন মুখের অডিশন নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকেই মূল চরিত্রের জন্য শিল্পী বাছাই করা হয়েছে। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, অভিনেতা আফজাল হোসেন একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন। ইতোমধ্যে তিনি কয়েকদিনের শুটিংও সম্পন্ন করেছেন। বিষয়টি তিনি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করলেও চরিত্র সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে অভিনেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও সিনেমাটিতে থাকছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। এর বেশি কিছু বলতে চাননি তিনি।

সিনেমাটিতে আরেক জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীও যুক্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে নির্ভরযোগ্য সূত্র। তবে চঞ্চল চৌধুরী এখনও শুটিংয়ে অংশ নেননি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাঁর শুটিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অভিনেতার সঙ্গে কথা বললেও নিশ্চিত করে কিছু জানাননি। 

সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছে একজন মোটরবাইক চালকের জীবনসংগ্রাম, স্বপ্ন এবং জীবনের নানা চড়াই-উতরাইকে কেন্দ্র করে। নির্মাতার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি শুধু একজন মানুষের ব্যক্তিগত গল্প নয়; বরং এর মাধ্যমে উঠে আসবে সময়ের বাস্তবতা, তরুণদের সংগ্রাম এবং সমাজের বিভিন্ন দিক।

জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর ধরে এই সিনেমার চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করছেন নুহাশ হুমায়ূন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়ে চিত্রনাট্যটি অনুদানও পেয়েছে। দেশের গুপী বাঘা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থাও সিনেমাটির প্রযোজনায় যুক্ত রয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলের শুরুতেই শুটিং শুরুর ঘোষণা দিয়েছিলেন নুহাশ। সেই প্রতিশ্রুতি রেখেই এখন ঢাকার প্রায় ২০টি লোকেশনে চলছে টানা শুটিং। জানা গেছে, আগামী মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত শুটিং চলবে, এরপর শুরু হবে পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ।

‘মুভিং বাংলাদেশ’-এর গল্প আবর্তিত হয়েছে একজন বাইক রাইডারের সংগ্রামকে ঘিরে। তবে চমক হিসেবে সিনেমার প্রধান চরিত্রে থাকছেন একেবারে নতুন মুখ। দীর্ঘ অডিশনের মাধ্যমে চরিত্রের সঙ্গে মানানসই একজনকেই বেছে নিয়েছেন নির্মাতা।

এর আগে স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা ও সিরিজ নির্মাতা হলেও এবারই প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা নির্মাণ করছেন তিনি। তাই নিজের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা নিয়ে কোনো তাড়াহুড়া করতে চাননি নির্মাতা। গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে চিত্রনাট্য উন্নয়ন, প্রি-প্রোডাকশন এবং বাজেট সংগ্রহ–সব মিলিয়ে দীর্ঘ সময় ব্যয় করেছেন তিনি। নুহাশ বলেন, তিনি সচেতনভাবেই সময় নিয়েছেন, যেন নিজের কল্পনাকে পর্দায় নিখুঁতভাবে তুলে ধরতে পারেন।

শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ‘মুভিং বাংলাদেশ’ শুরু থেকেই আগ্রহ তৈরি করেছে। সিনেমাটির চিত্রনাট্য পেয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক তহবিল ও সহায়তা। ২০২১ সালে তাইপে ফিল্ম কমিশন থেকে প্রায় ৮৯ হাজার ৮০০ ডলার অনুদান পাওয়ার পাশাপাশি সিনক্রাফট ফিল্ম ফান্ড থেকেও অর্থ সহায়তা মিলেছে। এছাড়া টোকিও গ্রান্ট ফাইন্যান্সিং মার্কেট, কান চলচ্চিত্র উৎসবের মার্শে দ্যু ফিল্ম, লোকার্নো চলচ্চিত্র উৎসব ও ভারতের ফিল্ম বাজার থেকেও বিভিন্ন সহযোগিতা পেয়েছে প্রকল্পটি।

আরও পড়ুন

×