ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউক্রেন সীমান্তে রুশ ড্রোন হামলা, অল্পের জন্য বাঁচলেন বরিস জনসন

ইউক্রেন সীমান্তে রুশ ড্রোন হামলা, অল্পের জন্য বাঁচলেন বরিস জনসন
×

বরিস জনসন। ছবি: রয়টার্স

দ্য গার্ডিয়ান

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:৩১

ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি ট্রেনে রুশ ড্রোন হামলার ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ইউক্রেনীয় রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার কয়েক মিনিট আগেই জনসন ও ইউরোপের কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে বহনকারী কূটনৈতিক ট্রেনটি সীমান্ত এলাকা পার হয়ে যায়। তাদের ধারণা, রুশ ড্রোনের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু ওই ট্রেনটিও হতে পারে।

ইউক্রেনীয় রেলওয়ে জানিয়েছে, পোল্যান্ডের সীমান্তের কাছে ইয়াহোদিন স্টেশনে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের ইঞ্জিনে রুশ ড্রোন আঘাত হানে। হামলার আগে নিরাপত্তা সতর্কতা পেয়ে ট্রেনের যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হয়। ফলে ওই ট্রেনে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। হামলাটি পোল্যান্ডের সীমান্ত থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ঘটে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কিয়েভে একটি নিরাপত্তা সম্মেলন শেষে বরিস জনসন, সাবেক সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী কার্ল বিল্ট এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বহনকারী কূটনৈতিক ট্রেনটি ইয়াহোদিন স্টেশন থেকে নির্ধারিত সময়ের আগেই ছেড়ে যায়। রাশিয়ার হামলার হুমকির কারণে ট্রেনের সময়সূচি তাৎক্ষণিকভাবে পরিবর্তন করা হয়েছিল। হামলার কয়েক মিনিট পর সেখানে থাকা আরেকটি ট্রেনের ইঞ্জিনে ড্রোনটি আঘাত করে।

ইউক্রেনীয় রেলওয়ে বলেছে, ‘খুবই সম্ভব’ যে রুশ ড্রোনের লক্ষ্য ওই কূটনৈতিক ট্রেনটিও ছিল। তবে হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। একই সময়ে সাবেক সিআইএ প্রধান ডেভিড পেট্রিয়াস ইয়াহোদিন স্টেশনে থাকা অন্য একটি ট্রেনে ছিলেন বলে রেলওয়ে জানিয়েছে। ওই ট্রেনটিও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

হামলার সময় ঘটনাস্থলে থাকা সাবেক সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী কার্ল বিল্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, ড্রোনের সতর্কতা পাওয়ার পর তাদের ট্রেন থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তিনি পরে জানান, হামলার শিকার ট্রেনটি তাদের ট্রেনের কয়েক মিনিট পর সীমান্তের দিকে গিয়েছিল এবং ড্রোন এগিয়ে আসার সময় সেটি খালি করে দেওয়া হয়।

হামলার প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন ক্যাটেরিনা সেরগাতস্কোভা জানান, গভীর রাতে যাত্রীদের প্রায় দুই ঘণ্টার জন্য ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে সকালে পোলিশ সীমান্তের কাছে পৌঁছানোর সময় তাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়। এরপর তিনি প্রথম ড্রোনের শব্দ শুনতে পান। তার ভাষায়, সীমান্ত থেকে কয়েকশ মিটার দূরে শাহেদ ড্রোন দেখা ও সেগুলোর শব্দ শোনা অত্যন্ত অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা।

কিয়েভ থেকে পোল্যান্ডের হেলমগামী রাতের ট্রেনে থাকা এক ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদও হামলার সাক্ষী হন। তিনি জানান, সীমান্ত এলাকায় তাদের প্রায় ১০ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় এবং তিনবার নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। তৃতীয়বার সরিয়ে নেওয়ার সময় একটি ক্ষেপণাস্ত্র ট্রেনের সামনে থাকা ইঞ্জিনে আঘাত করে সেটি পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। তিনি ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়ার প্রশংসা করেন।

এদিকে রাতারাতি ইউক্রেনজুড়ে ৪৫০টিরও বেশি রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এতে অন্তত ছয়জন নিহত এবং ৪০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, তারা ৪০৫টি ড্রোন ও চারটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। পশ্চিম ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

পোল্যান্ড-ইউক্রেন সীমান্তের দোরোহুস্ক-ইয়াহোদিন সীমান্ত ক্রসিং থেকে এক কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে একটি লরিতেও হামলা হয়েছে। এর জেরে পোল্যান্ডে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয় এবং সীমান্ত ক্রসিংটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এই হামলাকে ‘পুতিনের সন্ত্রাস’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি সরাসরি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর দরজায় কড়া নাড়ছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনীয়রা প্রতিদিন লড়াই করছে, যাতে রুশ হামলা ইউরোপের আরও গভীরে ছড়িয়ে না পড়ে।

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সতর্ক করে বলেছেন, আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোতে রাশিয়ার পক্ষ থেকে আরও তীব্র তৎপরতা দেখা যেতে পারে। পরিস্থিতির তীব্রতা বাড়লে এর প্রভাব পোল্যান্ডের ভূখণ্ডেও পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে রাশিয়া দাবি করেছে, তারা পশ্চিম ইউক্রেনের এমন রেল অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে, যেগুলো ইউরোপ থেকে সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। মস্কোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পশ্চিম ইউক্রেনের রেল অবকাঠামোয় হামলা অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে বরিস জনসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই হামলার নিন্দা করে বলেন, পোল্যান্ড সীমান্তে ইউক্রেনের একটি স্থির লোকোমোটিভ ধ্বংস করার পেছনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে কী যুক্তি পরিচালিত করেছে, তা তিনি জানেন না। তবে ইউক্রেনীয়রা প্রতিদিন এ ধরনের ‘নির্বিচার ও অর্থহীন’ হামলার শিকার হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াসে ড্রোন সদৃশ কিছু দেখার সন্দেহে বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। সতর্কবার্তা পেয়ে ন্যাটো অন্তত একটি যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠায়। পরে দেখা যায়, সেটি আসলে একঝাঁক পাখি ছিল। প্রায় ৪০ মিনিট পর বিমানবন্দরটি আবার চালু করা হয়।

আরও পড়ুন

×