ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কফির ভালোমন্দ

কফির ভালোমন্দ
×

মনিকা আকতার

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০২৩ | ০৫:৪১

কফিতে থাকা ক্যাফেইন শরীর ও মনকে সতেজ রাখে। অতিরিক্ত ঠান্ডার হাত থেকে রক্ষা করে বিধায় শীতপ্রধান দেশগুলোর প্রধান পানীয় হিসেবে কফি অত্যন্ত জনপ্রিয়। সবাই কমবেশি কফি পান করলেও বেশিরভাগ মানুষই কফি পানের নিয়ম জানেন না। কখন কফি পান করলে শরীরের জন্য তা উপকার হবে এবং অতিরিক্ত কফি পান করলে শরীরের কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে, তা অনেকের অজানা।

আপনি যদি শরীরের প্রতি যত্নশীল হন তাহলে সঠিক নিয়মে কফি পান আপনার শরীরকে ফিট রাখতে সাহায্য করবে। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, ৪০০ গ্রাম ক্যাফেইন আমাদের শরীরের জন্য ভালো। তিন থেকে চার কাপ কফি পান করলে অনেক রোগের ঝুঁকি কমে। বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে, নিয়মিত কফি পানে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে। কফি টাইপ টু ডায়াবেটিস রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

নিয়মিত কফি পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হয়। এ ছাড়া মস্তিস্কের সুরক্ষা ও স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতে কফি অসাধারণ ভূমিকা পালন করে। আলঝেইমার ডিজঅর্ডার নামে মস্তিস্কের এক ধরনের ক্ষয়রোধ অসুখে কফি ওষুধের মতো কাজ করে। আলঝেইমার হলে মাথাব্যথা ও হতাশা তীব্র হয়, স্মৃতিশক্তি লোপ পায় ও মস্তিস্কের কিছু অংশ সংকুচিত হতে শুরু করে। ফলে কফিতে থাকা ক্যাফেইন এই সমস্যা থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে।

যাঁরা দুর্বলতায় ভোগেন, কফি পান করলে তাঁদের এনার্জি বাড়ে। এক কাপ কফি উদ্বেগ, বিষণ্ণতা ও মুড সুয়িং দূর করে শরীরকে মুহূর্তেই চাঙ্গা করে তোলে। শরীরচর্চা কিংবা হাঁটতে যাওয়ার আগে এক কাপ কফি আপনাকে এক্সট্রা এনার্জি দেবে। কফিতে থাকা ক্লোরোজেনিক এসিড ওজন কমাতে ভূমিকা রাখে। ক্লোরোজেনিক এসিড শরীরে ঢুকে ফ্যাট বার্নিং করে; ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

অনেকে আছেন যাঁরা রাত জেগে পড়াশোনা কিংবা কাজ করেন। এক কাপ কফি তাঁদের রাত জাগতে সাহায্য করে। সন্ধ্যা কিংবা রাতে এক কাপ কফি আপনাকে রাত জাগতে ও পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করবে। অনেক সময় কফি বানিয়ে রেখে অনেকে কাজের চাপে কফিতে চুমুক দিতে ভুলে যান। ফলে মগে রাখা কফি ঠান্ডা হয়ে যায়। এই ঠান্ডা কফি আপনি চাইলে ইনডোর প্লান্টের টবে ঢেলে দিতে পারেন। কফিতে থাকা বিভিন্ন খনিজ পদার্থ গাছের জন্য উপকারী।

কফি পানের পাশাপাশি কফি গুঁড়া এক্সফোলিয়েটর হিসেবে ত্বকের ডেডসেল, পোড়া ভাব দূর ও ত্বক টানটান করে রাখতে সাহায্য করে। তাই রূপচর্চার ক্ষেত্রে কফির ভূমিকা অসাধারণ। দিনে নির্দিষ্ট পরিমাণ চিনি ও দুধ ছাড়া কফি আমাদের শরীরের জন্য উপকারী হলেও তিন-চার কাপের অতিরিক্ত কফি পান বিভিন্ন সমস্যায় ফেলতে পারে।

ঘুম থেকে উঠেই কফিতে চুমুক দেওয়া তৃপ্তির হলেও এই অভ্যাস আপনার শরীরের জন্য ক্ষতিকর। খালি পেটে কফি পান করলে কর্টিসোল হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়; ফলে এসিডিটির সমস্যা ও পাকস্থলীতে ক্ষত সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কফি পানের আগে এক গ্লাস পানি খেলে পানিশূন্যতা হওয়ার আশঙ্কা কমে যাবে। বিশেষ করে গরমের দিনে পানিশূন্যতা বেড়ে যায়; তাই অবশ্যই কফি পান করার আগে এক গ্লাস পানি পান করা উচিত।

অনেকে খাবার খাওয়ার পরপরই কফি পান করেন। এতে পাকস্থলীতে থাকা খাবার গলা পর্যন্ত উঠে এসে বুক জ্বালাপোড়ার মতো কষ্টদায়ক অনুভূতির জন্ম দিতে পারে। মুখে টক স্বাদ অনুভব হতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, খালি পেট কিংবা ভরা পেটে কফি পান না করে খাবার খাওয়ার এক ঘণ্টা পর কফি পান করা শরীরের জন্য উপকারী।

কফিতে চিনি ও দুধ মিশিয়ে পান করলে ওজন কমার বদলে বেড়ে যেতে পারে। সন্ধ্যার পরে কফি পান করলে অনিদ্রাজনিত সমস্যা হতে পারে। কফিতে থাকা ট্যানিন নামক পদার্থ দাঁতের রং বদলসহ বিভিন্ন ক্ষতি করে। তাই অতিরিক্ত কফি পানের অভ্যাস থাকলে বাদ দেওয়া উচিত। গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত কফি পান থেকে বিরত থাকা উচিত। 

আরও পড়ুন

×