ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তাই বলে এতটা বেহাল দশা!

তাই বলে এতটা বেহাল দশা!
×

আফগান পেসার ফারুকির বলে পুল করতে গিয়ে ঠিকমতো ব্যাটে-বলে হয়নি লিটনের। মিডউইকেটে নবীর হাতে ধরা পড়েন তিনি। ১৩ রানে মাথা নিচু করে ফিরে আসছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তাঁর আউটের মধ্য দিয়ে ব্যাটিংয়ে ধসের সূচনা - মো. রাশেদ

সেকান্দার আলী, চট্টগ্রাম থেকে

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৩ | ১৮:০০

এক সিরিজ আগেও জয়ের ছন্দে উড়ছিল বাংলাদেশ। রীতিমতো স্বপ্নের মতো গেছে বিশ্বকাপ সুপার লিগ। দেশেই নয়, বিদেশেও ভালো খেলে সুপার লিগ শেষ করে পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে থেকে। গত বছর আরেকটি বড় সাফল্য ছিল ভারতের বিপক্ষে। বাংলাদেশের সেই দলই কিনা সিরিজ হারল আফগানিস্তানের কাছে, দেশের মাটিতে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডে সিরিজ ছিল এটি। আগের দুই সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ। ২০১৬ সালে প্রথম দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলে এ দুই দেশ। গত বছরই ছিল বিশ্বকাপ সুপার লিগের সিরিজ। দেড় বছরের ব্যবধানে রশিদ খানরা সেই চট্টগ্রামেই মধুর প্রতিশোধ নিলেন সিরিজ জিতে, গতকাল স্বাগতিকদের ১৪২ রানে হারিয়ে।

বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আফগানভীতি বেশ আগে থেকেই। ওয়ানডে এবং টেস্টের প্রথম মুখোমুখিতেই হেরেছিল টাইগাররা। ২০১৪ সালে ওয়ানডে এশিয়া কাপে আর ২০১৯ সালে আফগানদের কাছে টেস্টে হারের স্মৃতি এখনও টাটকা। কেবল ব্যতিক্রম ছিল টি২০ ক্রিকেট। প্রথম দেখাতে জয়ী হয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এবার রেকর্ড রানে টেস্ট জিতলেও ৫০ ওভারের ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করতে পারছে না। বাংলাদেশের ব্যাটিং-বোলিং দেখে যে কারও মনে হতে পারে বিশ্ব ক্রিকেটের প্রবল শক্তিশালী দলের বিপক্ষে লড়ছে। ১৫ বছর আগে যেমন দেখা গেছে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।

কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে সিরিজের আগে বলেছিলেন, প্রভাব বিস্তারি ক্রিকেট খেলার কথা। বিশ্বকাপের মহড়া দিতে চেয়েছিলেন জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। অভিন্ন লক্ষ্য ছিল আফগানদেরও। স্বাগতিকদের ব্যর্থ করে নিজেদের পরিকল্পনায় সফল সফরকারী শিবির। ব্যাটিং- বোলিং দুই বিভাগেই দারুণ কার্যকর ছিল তারা। অথচ বাংলাদেশের পারফরম্যান্স প্রথম থেকেই ছিল নেতিবাচক। খেলার বাইরের কথাবার্তা নিয়ে বিরক্ত ছিলেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। যেটা প্রভাব ফেলে প্রথম ম্যাচে। বৃষ্টিবিঘ্নিত সে ম্যাচটি ডাকওয়ার্থ লুইসের নিয়মে ১৭ রানে জিতে নেয় আফগানিস্তান। এক দিন পর তামিম অবসরের ঘোষণা দিয়ে ক্রিকেটারদের বিভ্রান্তিতে ফেলে দেন। ওই ঘটনার প্রভাব এতটাই আন্দোলিত করেছিল, জাতীয় দলের সিরিজের কথাই ভুলতে বসেছিল সবাই। প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নেওয়ায় শুক্রবার তামিমের অবসর নাটকের সমাপ্তি ঘটলেও মাঠে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি জাতীয় দল।

লিটন কুমার দাসের নেতৃত্বে গতকাল খেলতে নেমে আফগান ওপেনিং জুটির ব্যাটিং ঝড়ে লন্ডভন্ড হয় বোলিং বিভাগ। মুস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ ও এবাদত হোসেনদের বেধড়ক পিটিয়ে ওপেনিংয়ে রেকর্ড ২৫৬ রান করেন রহমতউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান। সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজদের ঘোল খাইয়ে পুরো ৩৬ ওভার খেলে দেন তাঁরা। শেষে ৩৬.১ ওভারে গুরবাজকে ১৪৫ রানে আউট করে ব্রেক থ্রু দেন সাকিব। তাঁর চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি এটি। আরেক ওপেনার ইব্রাহিমও দেখা পান সেঞ্চুরির (১০০ রান)। গুরবাজ ২০ ম্যাচ আর ইব্রাহিম ১৩ ম্যাচে চার সেঞ্চুরি করলেন। জোড়া সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষ করে ৯ উইকেটে ৩৩১ রানে থামে আফগানরা। বাংলাদেশের বিপক্ষে এক দিনের ম্যাচে আফগানদের আগের সর্বোচ্চ ছিল ২৫৮ রান, ২০১৬ সালে মিরপুরে। এ ম্যাচে পাঁচ বোলারই ছিলেন খরুচে। শেষদিকে আবার এবাদতের চোটে পড়া দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। বোলিং করার সময় আম্পায়ারের শরীরে বাহু লেগে ভারসাম্য হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। যদিও বিসিবির মিডিয়া ম্যানেজার রাবীদ ইমাম জানিয়েছেন, এবাদতের বাঁ হাঁটুর চোট গুরুতর নয়।

বাংলাদেশ ৩৩২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম থেকেই ধুঁকতে থাকে। লিটন কুমার দাস আর নাঈম শেখের ওপেনিং জুটি টিকেছিল মাত্র চার ওভার। এর পর থেকে উইকেট বৃষ্টি দেখেছেন দর্শক। ফজল হক ফারুকী, রশিদ খান, মুজিবুর রহমান, মোহাম্মদ নবী জুজুতে ঘটে ব্যাটিং বিপর্যয়। স্রোতের বিপরীতে কেবল মুশফিকুর রহিম ইনিংস টেনে নেন কিছু পথ। তিনি ৬৯ রান না করলে রেকর্ড রানে হতো পরাজয়। অলরাউন্ডার সাকিব ২৯ বলে ২৫ রান করলেও মেহেদী মিরাজ ৪৮ বলে করেন ২৫ রান।

আরও পড়ুন

×