ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় আধুনিক যন্ত্রপাতি, দক্ষ চিকিৎসক তৈরি করবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় আধুনিক যন্ত্রপাতি, দক্ষ চিকিৎসক তৈরি করবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
×

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ইনফার্টিলিটি (আরইআই) ইউনিটে রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি ও পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) সচেতনতা মাস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত বৈজ্ঞানিক সেমিনারে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:৫০

দেশে বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ইনফার্টিলিটি সেন্টারে আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে এ খাতে দক্ষ চিকিৎসক তৈরিতে প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

রোববার ঢাকা মেডিকেল কলেজের ইনফার্টিলিটি (আরইআই) ইউনিটে রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি ও পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) সচেতনতা মাস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগামী বাজেটে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ইনফার্টিলিটি সেন্টারে প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। তিনি বলেন, ‘আগামী বাজেটে এটি বাস্তবায়নের জন্য আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসাও গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবার অংশ। কোনো দম্পতি সন্তান জন্ম দিতে না পারলে অনেক সময় সামাজিক কটূক্তি ও হয়রানির শিকার হতে হয়। চিকিৎসার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব হলে এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকার কোনো কারণ নেই।

দেশের চিকিৎসকদের দক্ষতার প্রশংসা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মেধা, আমাদের বুদ্ধিমত্তা সব ক্ষেত্রেই রয়েছে। বিশেষ করে আমাদের চিকিৎসকেরা অত্যন্ত সফল।’

নিজের বক্তব্যে নিউরোসায়েন্সের একটি চিকিৎসার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, গুরুতর অবস্থায় থাকা এক রোগীর বেঁচে থাকার আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলেন অনেকে। পরিবারের সদস্যরা তাকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর অনুরোধ করেছিলেন। তবে দেশের চিকিৎসকেরা তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। অস্ত্রোপচারের পর ওই রোগী নিজে হাঁটতে সক্ষম হন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও অনুকূল পরিবেশ পেলে দেশের চিকিৎসকেরা অনেক কিছু করতে পারেন। এ জন্য অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের পরবর্তী প্রজন্মের চিকিৎসকদের তৈরি করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, অনেক বড় বড় চিকিৎসক আছেন, নিজেরা অনেক বড় চিকিৎসক; কিন্তু তারা ভালো অনুসারী বা পরবর্তী প্রজন্ম তৈরি করেননি। জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের নিজেদের মতো করে পরবর্তী প্রজন্মের চিকিৎসক তৈরির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

দেশের রোগীদের বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে অনেক মেধাবী চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও রোগীদের চিকিৎসার জন্য ভারত বা থাইল্যান্ডে যেতে হয়। এতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যায়।

বিদেশের হাসপাতালগুলোতে যে ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হয়, দেশের চিকিৎসকেরাও একই ধরনের চিকিৎসা সফলভাবে দিতে সক্ষম-এমন আস্থা মানুষের মধ্যে তৈরি করতে হবে বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ জন্য বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, দেশের বিভিন্ন জেলা ও গ্রামে গিয়ে বন্ধ্যাত্বের সমস্যায় থাকা নারী ও তাদের স্বামীদের এ বিষয়ে সচেতন করা হবে। তাদের দেশে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শতকরা ৮০টি ক্ষেত্রেও যদি আমরা সফল হই, সেটিই দেশের জন্য বড় সাফল্য।’

বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় কাজ করা চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কাজ করা একদল চিকিৎসককে নিয়ে তিনি গর্বিত। চিকিৎসকদের সহযোগিতা পেলে নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।
 

আরও পড়ুন

×