ডেঙ্গু রোগীর প্রায় অর্ধেকই ঢাকার বাইরে
প্রতীকী ছবি
তবিবুর রহমান
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৩ | ১৮:০০
দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বরাবরই দেখা গেছে রাজধানী ঢাকায়। তবে গত কয়েক বছরে সেই ধারায় এসেছে পরিবর্তন। গত বছরই ডেঙ্গু আক্রান্তের বড় একটি অংশ ছিল ঢাকার বাইরে। দেশব্যাপী ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার যে আশঙ্কা দীর্ঘদিন ধরে বিশেষজ্ঞরা করে আসছেন, এ বছর তার সত্যতা মিলছে ভালোভাবেই। বছরের শুরু থেকে গত পাঁচ মাসে মশাবাহিত এ জ্বরে আক্রান্তদের প্রায় অর্ধেকই ঢাকার বাইরের।
সরকারি হিসাব বলছে, গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত চলতি বছরে ১ হাজার ১৯৬ ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতাল চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ৬৮৩ জন এবং ঢাকার বাইরে রয়েছেন ৫১৩ জন। অর্থাৎ আক্রান্তের ৪৩ শতাংশই ঢাকার বাইরে। অথচ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকার বাইরে সরকারি কর্মকাণ্ডে গা-ছাড়া ভাব দেখা গেছে। এখনও শুরু হয়নি এডিস মশা নিধন কর্মসূচি।
ঢাকার বাইরে মশা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের। তবে মন্ত্রণালয় এখনও কাজই শুরু করেনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় সরকার বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সারা বছর দেশব্যাপী মশক নিধনের ভাবনা সরকারের। তবে এ কাজ কবে শুরু হবে, তা মন্ত্রণালয় জানায়নি। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বাস্তবে এসব কাজ মাঠে গড়াতে আরও কয়েক মাস চলে যাবে।
এ ছাড়া চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্তের হারও অন্য বছরের চেয়ে বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর পাঁচ মাসে ডেঙ্গু নিয়ে ১৯৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এবার জানুয়ারি থেকে চলতি মাসের ১২ দিনেই রোগী হাজার ছাড়িয়েছে। গত বছরে এই সময় ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে এ বছর এরই মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) উপদেষ্টা মুশতাক হোসেন সমকালকে বলেন, গত বছর ঢাকায় ডেঙ্গুর চারটি ধরন বেশি সক্রিয় ছিল। এবার হয়তো গ্রামে এটি বেশি সক্রিয়। কাজেই এখনই জরুরি ভিত্তিতে এডিশ মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি চালু করা দরকার। একই সঙ্গে এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে। চিকিৎসার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে উপকরণ সরবরাহ করতে হবে।
বিশেষ করে বর্ষা শুরু হলে ঢাকার বাইলে জ্যামিতিক হারে রোগী বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. লেলিন চৌধুরী অভিযোগ করেন, মশা নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন কার্যকর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় সারা বছর ডেঙ্গুতে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। তিনি বলেন, এডিস মশা নির্মূলে সরকারি-বেসরকারি, এনজিও, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ দেশের সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালাতে হবে। বিগত বছরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সময় এডিসের ব্যাপক প্রভাব দেখা গেছে। এবারও এমনই শঙ্কা রয়েছে। এডিস মশা নির্মূলে সিটি করপোরেশনের মতো জেলা-উপজেলায় ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালাতে হবে। এতে কিছুটা হলেও এডিস মশার বংশ বিস্তার ঠেকানো যাবে। যতদিন পর্যন্ত একযোগে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম না হবে, ততদিন এডিস মশা ডেঙ্গু ছড়াতে থাকবে।
ডেঙ্গু নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, এ বিষয়ে সবাইকে এখনই সতর্ক হতে হবে। এরই মধ্যে সব জেলায় চিকিৎসা উপকরণ পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলো প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে।
- বিষয় :
- ডেঙ্গু রোগী
- ডেঙ্গু