লাইব্রেরি
দেরিতে হলেও ফেরত আসে বই!
লাইব্রেরির শেলফে রাখা ৬০ বছর পর ফেরত আসা স্প্যানিশ ব্যাকরণের বই
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬ | ১১:৩১
বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি থেকে বই নিয়ে ফেরত না দেওয়ার ঘটনা হরহামেশাই ঘটতে দেখা যায়। তবে দেরিতে হলেও সেসব বই ফেরত দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। অনেক ক্ষেত্রে এই দেরির সময়টুকু হয় ৬০ বছর, কখনও আবার তা হয় ২৮৮ বছর!
এ ক্ষেত্রে ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজের লাইব্রেরির বেশ কিছু মজার ঘটনা রয়েছে। যেমন, সম্প্রতি ৬০ বছর পর এক বই ফিরে পেয়েছে তারা। গ্রামাটিকা কাস্টেলানা নামে স্প্যানিশ ব্যাকরণের সেই বই প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৪৯২ সালে, আর লাইব্রেরি থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিল ১৯৬০-এর দশকে। নিয়মানুযায়ী, এতদিন বই ফেরত না দেওয়ায় মোটা অঙ্কের জরিমানাও হয়েছিল– প্রায় চার হাজার পাউন্ড। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা মাফ করে দিয়েছে। উল্টো তারা বলেছে, অন্য কারও কাছে কিছু থেকে থাকলে, যাতে তারা ফেরত দেয়। লাইব্রেরিতে বই ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘অনেক দেরি’ বলে কিছু নেই।
আসলেও যে অনেক দেরি বলে কিছু নেই, তা প্রমাণ করে কেমব্রিজের সিডনি সাসেক্স কলেজের ঘটনাও। সেখানে ২৮৮ বছর পর এক বই ফেরত এসেছিল লাইব্রেরিতে। বইটি ছিল জার্মানির ইতিহাসের ওপর। ১৬৬৭ বা ১৬৬৮ সালের দিকে কর্নেল রবার্ট ওয়ালপোল বইটি ধার নেন লাইব্রেরি থেকে। পরে আর ফেরত দেননি। আড়াইশ বছর পর সেই বই ওয়ালপোলের জীবনীকারের হাতে আসে। তিনি ১৯৫৬ সালে তা সিডনি সাসেক্সে ফেরত দেন। এত সময় পর বই ফেরত আসায় ঘটনাটি ঠাঁই করে নিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসেও। এখনও সেই রেকর্ড কেউ ভাঙতে পারেনি।
তবে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরি অন্যতম মূল্যবান বইটি ফেরত পেয়েছে ২০২২ সালে। ওই বইটি ছিল মূলত চামড়ার মলাটে বাঁধাই করা চার্লস ডারউইনের নোটবুক। এর মূল্য হবে লাখ লাখ পাউন্ড। কারণ, এতে ডারউইনের নিজের হাতে আঁকা ‘জীবন বৃক্ষের’ ছবি আছে। বইটির কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। এটি চুরি হয়েছে এমন ধারণা থেকে ফেরত দেওয়ার জন্য আহ্বানও জানানো হয়েছিল। পরে হঠাৎ একদিন রহস্যময়ভাবে ফিরে আসে বইটি। একজন বাদামি খামে ভরে বইটি পাঠিয়ে দেয়, ওপরে লেখা– ‘লাইব্রেরিয়ান, ইস্টারের শুভেচ্ছা’।
এ ছাড়া ৬০ বছর পর আরেকটি বই ফিরে আসার ঘটনা রয়েছে। কালচারস অ্যান্ড সোসাইটিস অব আফ্রিকা নামে বইটির একটি কপি সাবেক এক শিক্ষার্থীর কাছে ছিল। ২০১৯ সালে তিনি তা ফেরত দেন। কেমব্রিজের নিয়মানুযায়ী, সপ্তাহে দেড় পাউন্ড করে জরিমানা জমা হয়েছিল, মোট অঙ্ক গিয়ে ঠেকে চার হাজার ৭০০ পাউন্ডে। তবে সেবারও জরিমানা দিতে হয়নি সাবেক ওই শিক্ষার্থীকে।
১৯৭০-এর দশকে ঘটেছিল আরেক ঘটনা। এক স্নাতক শিক্ষার্থী ১৯ শতকের অ্যাটলাস ধার নিয়ে পরে আর ফেরত দেননি। ওই বইটিকে ধরা হতো দুর্লভ হিসেবে। কারণ, এতে ১৬০টিরও বেশি মানচিত্র ছিল। বিশেষ করে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনে থাকাকালে ভারত-সম্পর্কিত ১১টি বিস্তারিত মানচিত্র ছিল বইটিতে। আবার ব্রিটিশ নর্থ আমেরিকার মানচিত্রও ছিল। পরে ২০২১ সালে বইটি ফেরত আসে। সেবারও তিন হাজার পাউন্ডের জরিমানার হাত থেকে রেহাই পান বই ফেরতদাতা।
- বিষয় :
- বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি