শামসুল আরেফীনসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক
উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেষ্টমেন্ট লিমিটেড থেকে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:২৫ | আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৪৩
উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেষ্টমেন্ট লিমিটেড থেকে ৬৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা ও ১১টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তিসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার কমিশন এই মামলার অনুমোদন দিয়েছে।
অনুসন্ধান কর্মকর্তারা শীঘ্রই কমিশনের ঢাকা-১ কার্যালয়ে মামলাগুলো দায়ের করবেন। দুদকের জনসংযোগ শাখা থেকে আজ সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন।
জানা গেছে, রুজুর প্রক্রিয়াধীন ১২ মামলায় ব্যক্তি হিসাবে আসামী হবেন ২১ জন। প্রতিটি মামলায় একই আসামী হিসেবে ছয়জনের নাম থাকবে। একেকটি মামলায় একই ব্যক্তির নাম উল্লেখ থাকায় সর্বমোট ৫৪ জনকে আসামী করা হচ্ছে।
অনুসন্ধান থেকে জানা গেছে, অভিযুক্তরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঋনের নামে উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেষ্টমেন্ট থেকে মোট ৬৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করা হয়। ওই ঋন নেওয়ার জন্য কোন ধরণের আবেদন/রেকর্ডপত্র জমা দেওয়া হয়নি, কোন প্রকার জামানত দেওয়া হয়নি। ঋন প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থাপন করা হয়নি।
পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই ঋনের নামে ওই টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। উত্তরা ফাইন্যান্স থেকে ১১টি প্রতিষ্ঠানের নামে ৫৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা, এই প্রতিষ্ঠানের সাবেক জ্যোষ্ঠ কর্মকর্তা মিঠু কুমার সাহা ব্যক্তিগতভাবে ১৩ কোটি ৮ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। এই হিসাব অনুযায়ী সর্বমোট ৬৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা তুলে নেওয়া হয়।
ছয়জন অভিযুক্তরা হলেন— উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেষ্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক এমডি এস এম শামসুল আরেফীন, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং হেড অফ ট্রেজারি মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী আরিফুজ্জামান, সাবেক এসিসটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট এস.এম. কামরুজ্জামান, সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার রাফিউল ইসলাম ও সাবেক সিনিয়র অফিসার মিঠু কুমার সাহা।
ব্যক্তি হিসেবে যে ১৫ জনকে আসামী করা হবে তারা হলেন, ম্যাক্স সোয়েটারের এমডি কাজী মনিরুজ্জামান, পরিচালক সেলিনা জামান, কাজী সিরাজুজ্জামান, আবুল কালাম আজাদ, সাদ মুসা ফেব্রিক্স লিমিটেড ও সাজিদ মাহমুদ কটন মিলসের এমডি মোহাম্মদ মহসিন, পরিচালক মোসাম্মত রোকেয়া বেগম, শামীমা নারগিস, জেসন ফার্মাসিউটিক্যালসের পরিচালক আযরা সেলিম, পরিচালক জিনাত সেলিম, এনাম মল্লিক, নাফিজা সেলিম, বেইজ টেক্সাটাইল লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান মনোয়ার শাহাদাত, এমডি হাসান শিবলী, প্যান এশিয়া ট্রেড হাউসের এমডি এ. কে. এম ফাইজুল হক, হসপিটাল এডুকেশন এন্ড ট্রেনিং ইন্সটিটিউচেটর এমডি রকিবুল মোহাম্মদ আনোয়ার, ও রকিবুল মোহাম্মদ আনোয়ারের স্ত্রী নাফিজা আক্তার আনোয়ার।
অভিযোগাটি অনুসন্ধান করছেন দুদকের একটি টিম। টিমের সদস্যরা হলেন, সহকারি পরিচালক মো. রাকিবুল হায়াত, মাহমুদুল হাসান, উপসহকারী পরিচালক নাব সাবিকুন নাহার, উপসহকারী পরিচালক সাবরিনা জামান ও মো: আবুল ফয়েজ, দন্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ৪(২) ৪(৩) ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাগুলো রুজু করা হবে।
- বিষয় :
- দুদক
- মামলা
- টাকা আত্মসাৎ