সংবাদমাধ্যমে হস্তক্ষেপের ইচ্ছা সরকারের নেই
ডিআরইউর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২৬ | আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:৫৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
তথ্যমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, মুক্ত ও স্বাধীন সাংবাদিকতা চর্চায় বর্তমান সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। সংবাদমাধ্যমে হস্তক্ষেপের ইচ্ছা সরকারের নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন ।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আজ বাংলাদেশে গণতন্ত্রের যে পর্যায়ে আমরা আছি, আমার মনে হয় তার সমান ক্রেডিট সংবাদমাধ্যমেই যায়। ইনশাআল্লাহ, আমাদের এই সময় প্রোমিডিয়া পাবেন। আমাদের তরফ থেকে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের ইচ্ছে নেই। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, সবাই মিলে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ স্বপ্নের বাংলাদেশে, সোনার বাংলাদেশ হবে।
এদিকে, সচিবালয়ে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের তথ্যমন্ত্রী বলেন, সামাজিকমাধ্যমে বিশৃঙ্খলা থামিয়ে সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা করা এবং জনপরিসরে নৈতিক অবক্ষয়মূলক কনটেন্ট প্রতিরোধ করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। কোনো অবস্থাতেই মুক্তচিন্তা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বা সাংবাদিকদের দমনের উদ্দেশে কোনো আইন করা হচ্ছে না।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কোনো বিকল্প নেই: রিজভী
ডিআরইউর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, গণতন্ত্রকে বিকশিত ও শক্তিশালী এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিকল্প নেই। গণমাধ্যম বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করলে সমাজে সন্ত্রাস ও ঘুষ কমবে এবং সমাজ অনেক পরিচ্ছন্ন হয়ে উঠবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ১৭ বছরে অনেক টেলিভিশন এবং পত্রিকা থাকলেও কথা বলা ও মতপ্রকাশের সুযোগ ছিল শুধু একজন ব্যক্তি ও একটি রাজনৈতিক দলের। এর বাইরে যারা চেষ্টা করেছেন, তাদের কেউ গুমের শিকার হয়েছেন; আবার কেউ কারাগারে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। সামাজিকমাধ্যম নিয়ে তিনি বলেন, প্রচলিত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে রিপোর্টার, নিউজ এডিটর ও এডিটর থাকেন। তারা একটি সংবাদ পরিশুদ্ধ করে এরপর প্রচার করেন। কিন্তু সামাজিকমাধ্যমে কোনো নিউজ এডিটর বা চিফ রিপোর্টার নেই।
সাংবাদিকদের কাজ সবচেয়ে কঠিন: ড. আব্দুল মঈন খান
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, অনেকে মনে করেন রাজনীতিবিদদের কাজ সবচেয়ে কঠিন। তবে আমি মনে করি, সাংবাদিকদের কাজ সবচেয়ে কঠিন। রাষ্ট্র পরিচালনায় যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করে, তার মধ্যে সাংবাদিকতাকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়।
ডিআরইউর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার এবং মিডিয়া সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণে সেক্রেটারি ও সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও ডিআরইউর সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী), ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি শফিক রেহমান, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনার পরিচালক বাছির জামাল, পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, ডিআরইউর সাবেক সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, রফিকুল ইসলাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল থেকে
দিনব্যাপী নানা
কর্মসূচি পালিত হয়। সকালে জাতীয় পতাকা ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। পরে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি ও কেক কাটা অনুষ্ঠিত হয়।
- বিষয় :
- তথ্যমন্ত্রী