ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নাইট্রোজেন সার ব্যবহারে ২২ শতাংশ সাশ্রয়ের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের দাবি জবি গবেষকদের

নাইট্রোজেন সার ব্যবহারে ২২ শতাংশ সাশ্রয়ের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের দাবি জবি গবেষকদের
×

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:২৩

নাইট্রোজেন সার ব্যবহারে গড়ে ২২ শতাংশ সাশ্রয়ের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের দাবি করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গবেষকরা। ‘N-FertiSmart’ নামের রিমোট সেন্সিংভিত্তিক এ প্রযুক্তি জমির প্রয়োজন অনুযায়ী কোথায় কতটুকু নাইট্রোজেন সার প্রয়োগ করতে হবে, সে বিষয়ে সুপারিশ দেবে। এতে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় ও সারের অপচয় কমানোর পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

জবির উদ্ভিদবিজ্ঞান ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের যৌথ উদ্যোগে প্রযুক্তিটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের (আইসিটি) সহযোগিতায় পরিচালিত প্রকল্পটির প্রোটোটাইপ বর্তমানে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ প্রদর্শন করা হচ্ছে।

গবেষকরা জানান, ‘N-FertiSmart’ স্যাটেলাইট ও রিমোট সেন্সিংয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে কৃষিজমির বিভিন্ন অংশের নাইট্রোজেনের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করবে। এরপর জমির স্থান ও প্রয়োজন অনুযায়ী কতটুকু সার প্রয়োগ করতে হবে, সে বিষয়ে সুপারিশ দেবে প্রযুক্তিটি।

প্রকল্পের গবেষণা তথ্য অনুযায়ী, ‘ফার্টিলাইজার রিকমেন্ডেশন গাইড-২০২৪’-এ হেক্টরপ্রতি প্রায় ১৭৪ কেজি নাইট্রোজেন সার প্রয়োগের সুপারিশ রয়েছে। তবে ‘N-FertiSmart’ ব্যবহারের মাধ্যমে তা কমিয়ে প্রায় ১৩৫ দশমিক ৭০ কেজিতে আনা সম্ভব। এতে হেক্টরপ্রতি গড়ে প্রায় ২২ শতাংশ নাইট্রোজেন সার সাশ্রয় করা সম্ভব বলে দাবি গবেষকদের।

গবেষক দলের সদস্য ও জবি উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এম এম গোলাম আদম বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি নাইট্রোজেন সার ব্যবহারের কারণে কৃষকের বাড়তি খরচ হচ্ছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন পরিবেশে গিয়ে পানির জীববৈচিত্র্য ও জলজ প্রাণীর ক্ষতি করতে পারে।

তিনি বলেন, স্যাটেলাইটভিত্তিক পদ্ধতিতে ডিনাইট্রিফিকেশন রেট নির্ধারণ করে ফসলের প্রয়োজন অনুযায়ী নাইট্রোজেনের পরিমাণ ঠিক করা হচ্ছে। গবেষণায় গড়ে প্রায় ২২ শতাংশ নাইট্রোজেন সার কমানোর সম্ভাবনা পাওয়া গেছে।

ড. গোলাম আদম আরও বলেন, প্রচলিত সার সুপারিশ নির্দিষ্ট সময় পরপর হালনাগাদ করা হলেও স্যাটেলাইটভিত্তিক পদ্ধতিতে প্রতিবছর মাটির অবস্থা ও ডিনাইট্রিফিকেশন রেট বিবেচনায় নিয়ে সারের পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে। এতে কৃষকরা অতিরিক্ত সার প্রয়োগ এড়াতে পারবেন। পাশাপাশি দেশের মৌসুমি সার সংকটও কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

প্রকল্পটিতে জবির উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ড. মো. আতাউল গনি ও ড. এ এম এম গোলাম আদম, সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন এবং তরুণ গবেষক সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী বিপ্লব বিশ্বাস ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. নাজিম শরিফ কাজ করেছেন।

আরও পড়ুন

×