প্রদর্শনী
আলোকচিত্রে পাহাড়ের মানুষের জীবনকথা
আলোকচিত্রে পাহাড়ের মানুষের জীবন দেখছেন এক দর্শনার্থী। গতকাল মঙ্গলবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা গ্যালারিতে- সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪৬ | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:১৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
পাহাড়ের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের আড়ালে থাকে মানুষের জীবন, সংগ্রাম, স্বপ্ন ও সম্ভাবনার গল্প। এসব গল্প উঠে এসেছে আলোকচিত্রে। পাহাড়ের জীবনের নানান বাঁক, জীবিকার লড়াই এবং পরিবর্তনের প্রত্যাশাকে ধারণ করে শুরু হয়েছে ‘রাইজিং হিলস, বিয়ন্ড দ্য ফ্রেম: আ ফটো ভয়েস’ শীর্ষক এই আলোকচিত্র প্রদর্শনী।
রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা গ্যালারিতে দুই দিনব্যাপী প্রদর্শনীর আয়োজক মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং এমজেএফের নেতৃত্বে ৯টি স্থানীয় সহযোগী সংগঠনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত ‘পার্টনারশিপ ফর রেজিলিয়েন্ট লাইভলিহুডস ইন দ্য চট্টগ্রাম হিল ট্রাক্টস’ (পিআরএলসি) প্রকল্পের আওতায় এই প্রদর্শনী চলছে।
রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন জীবন, কর্মসংস্থান, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষা উঠে এসেছে প্রদর্শিত ৬৫টির বেশি আলোকচিত্রে। ছবিগুলোয় উন্নয়ন প্রকল্পের নথিপত্রের বাইরের বাস্তবতা, মানুষের অভিজ্ঞতা ও পরিবর্তনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, অনেক সময় প্রকল্পের নথিতে যে বিষয়গুলো ধরা পড়ে না, আলোকচিত্রে সেগুলোই জীবন্ত হয়ে ওঠে। ছবিগুলোয় মানুষের অধিকতর সুযোগ ও পছন্দ তৈরি হওয়া, নারী-পুরুষের টেকসই জীবিকার বিকাশ, পরিবারের কল্যাণ এবং অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির চিত্র ফুটে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন সহযোগিতাকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এমন একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখে, যার মাধ্যমে মানুষের নিজস্ব সক্ষমতা, সুযোগ ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করে নিজেদের জীবন ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পরিবেশ তৈরি করা যায়।
এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, পিআরএলসি প্রকল্পটি প্রচলিত দারিদ্র্য বিমোচনের ধারণার বাইরে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল জীবিকা গড়ে তুলতে সহায়তা করছে। এ পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছেন নারীরা। অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের ভূমিকা আরও জোরদার হচ্ছে।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগেজ বলেন, মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগ তৈরিতে গল্পের ভূমিকা গভীর। প্রদর্শনীর আলোকচিত্রগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি, আকাঙ্ক্ষা ও আশার কথা শক্তিশালীভাবে তুলে ধরেছে।
নাগরিকতা সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ডের পক্ষে ক্যাথারিনা কনিগ বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর গল্প বলা, নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং তাদের প্রতিনিধিত্ব তুলে ধরার ক্ষেত্রে আলোকচিত্র একটি শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে।
ইউএন উইমেনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ গীতাঞ্জলি সিং এ উদ্যোগের জন্য এমজেএফ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএনডিপিকে অভিনন্দন জানান। তিনি জীবিকা ও সমন্বিত উন্নয়ন বিষয়ে প্রদর্শনী থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
এমজেএফের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত পিআরএলসি প্রকল্পের লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জীবিকার উন্নয়নের মাধ্যমে ২০ হাজার পরিবারকে চরম দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে সহায়তা করা। ৯টি স্থানীয় সহযোগী সংগঠনের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে এমজেএফের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য নিরূপা দেওয়ান ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এ সময় দুটি কেস স্টোরি প্রকাশনা ও একটি আলোকচিত্র ক্যাটালগ উন্মোচন করা হয়।