প্রাথমিকে বঞ্চিত ৮১৭ জন দুদিনের মধ্যে নিয়োগ পাবেন: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন (ফাইল ফটো)
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:৪৮ | আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:৫৩
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া ৮১৭ জনকে আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগ দেওয়া হবে। যারা ওই সময়ের মধ্যে নিয়োগ পাবেন না, তাদের বিষয়েও কাজ করা হবে। আজ সোমবার শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ কথা বলেছেন।
সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভায় তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের নিয়োগ পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী ছিল প্রায় ১০ লাখ ৬৯ হাজার। যথাযথভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া মেইনটেইন করার জন্য আমরা কাজ শুরু করেছিলাম। আমাদের কাছে ৩৩ জনের ৮৫৪ জনের ফাইনাল অ্যাপ্লিকেশন এসেছে।’ ডিপিও ইস্যু করে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ভেরিফিকেশনের সময় অনেকের ঠিকানা পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এসেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সে সময় দেখা গেছে তাদের ভেরিফিকেশন এবং অনেকেই ঠিকানা পাল্টিয়েছেন। সেগুলো পর্যায়ক্রমে তারা দিচ্ছে। পর্যায়ক্রমে ভেরিফিকেশন হচ্ছে, ঠিকানা আসছে। যাদের হয়নি, সেগুলো আমরা পর্যবেক্ষণে রেখেছি এবং সেগুলো রিভিউ করছি। ১ অক্টোবর পর্যন্ত এটা চলবে।’
তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ৮১৭ জন নিয়োগবঞ্চিত রয়েছেন। তাদের ১ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে কাজ চলছে। এরপরও যারা নিয়োগ পাবেন না, তাদের বিষয়েও পরবর্তী সময়ে কাজ করা হবে।
চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। ভেরিফিকেশন বা প্রশাসনিক যাচাই-বাছাইয়ের পর বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর নাম নিয়োগপত্রের তালিকায় না থাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। ‘কেন্দ্রীয় প্যানেল প্রাইমারি ২০২৫’ নামে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের একটি প্ল্যাটফর্ম বাদ পড়া প্রত্যেক প্রার্থীর নথি পুনর্যাচাই, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে।
বাদ পড়া প্রার্থীর সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রার্থীদের একটি প্ল্যাটফর্মের দাবি, এ সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। অন্য একটি হিসাব অনুযায়ী, এ সংখ্যা ২ হাজার ২০০-এর বেশি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, নিয়োগপত্র নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। ১ অক্টোবর পর্যন্ত কেউ নিয়োগপত্র না পেলে পরবর্তী সময়ে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে ভেরিফিকেশন বা ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সমকালের অনুসন্ধানে জানা গেছে, মূলত চার কারণে নিয়োগে প্রার্থীদের নাম বাদ পড়েছে– পুলিশ/গোয়েন্দা সংস্থার যাচাই-বাছাই প্রতিবেদন নেতিবাচক, ডোপ টেস্টে সমস্যা, স্বাস্থ্য সনদ না থাকা ও শিক্ষা সনদে গরমিল থাকা। তবে যাচাই-বাছাই প্রতিবেদন নেতিবাচক থাকার সংখ্যাই বেশি। যদিও এ নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কেউ মুখ খুলতে চাননি। তবে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন গতকাল শনিবার এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমরা লক্ষ্য করছি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর নিয়োগপত্র প্রাপ্তি নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।’
তিনি আরও লেখেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে, ১ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কেউ নিয়োগপত্র না পেয়ে থাকলে তা পরবর্তী সময়ে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র প্রেরণ করা হবে। এর আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রায় আড়াই হাজার প্রার্থীর বাদ পড়া নিয়ে গতকাল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন মন্ত্রী। মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিয়োগপত্র প্রাপ্তি বিষয়ে বিভিন্ন মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের প্ল্যাটফর্ম শুক্রবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, দীর্ঘ আট মাস অপেক্ষার পর নিয়োগপত্র না পাওয়ায় অনেক প্রার্থী আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়েছেন। তাদের প্রথম দাবি– ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রত্যেক প্রার্থীর নথি অবিলম্বে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পুনর্যাচাইযোগ্য প্রক্রিয়ায় আবার যাচাই করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, তথ্যগত ভুল বা অসংগতির শিকার প্রার্থীদের নিজেদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ এবং প্রশাসনিক আপিলের ব্যবস্থা করতে হবে।
তৃতীয়ত, কোনো দপ্তর বা কর্মকর্তার গাফিলতি, ভুল তথ্য কিংবা প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে কোনো প্রার্থী বাদ পড়ে থাকলে তা সংশোধন করে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
চতুর্থ দাবিতে আগামীকাল ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত অথচ নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পঞ্চমত, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং কীভাবে এতসংখ্যক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী বাদ পড়লেন, তার সুস্পষ্ট ও দায়িত্বশীল ব্যাখ্যা জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাদ পড়া প্রার্থীরা বলছেন, তারা অযোগ্য বা অনিয়মকারী কারও নিয়োগ চান না; বরং যাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য কারণ নেই, তাদের ক্ষেত্রে পুনর্যাচাই এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ চান।
মন্ত্রণালয় বলছে, ভেরিফিকেশন নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিয়মিত অংশ এবং নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।