ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশনে বাদ পড়াদের আপিলের সুযোগ চান ডাকসু ভিপি

শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশনে বাদ পড়াদের আপিলের সুযোগ চান ডাকসু ভিপি
×

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:৪৪

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও ভেরিফিকেশনের নামে বাদ পড়া পরীক্ষার্থীদের কারণ জানানো এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আপিলের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান।  তিনি বলেন, ভেরিফিকেশনের নামে উত্তীর্ণ তরুণদের বাদ দেওয়া চরম বৈষম্যমূলক, অন্যায্য ও অন্যায় সিদ্ধান্ত।

সাদিক কায়েম বলেন, যে তরুণকে বাদ দেওয়া হয়েছে তিনি নিজেই জানেন না কেন তাকে বাদ দেওয়া হলো। বাদ পড়াদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা, কোনো অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ার রেকর্ড বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ২৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে সুযোগের সমতা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। অথচ কোনো সুস্পষ্ট কারণ না দেখিয়েই শত শত মেধাবী তরুণের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়েছে।

সাদিক কায়েমের অভিযোগ, সরকারি চাকরিতে দলীয়করণ এবং ভেরিফিকেশনের নামে নিয়োগ বাতিলের এই প্যাটার্ন বর্তমান সরকার ‘ফ্যাসিবাদী আমল’ থেকে ধার করেছে। তার মতে, এটি সেই কাঠামোরই পুনরাবৃত্তি, যেখানে মেধা ও যোগ্যতার চেয়ে পরিচয়, আনুগত্য ও রাজনৈতিক বিবেচনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, আজ একজন তরুণকে তার যোগ্যতার ভিত্তিতে নয়, ভেরিফিকেশনের মতো অস্পষ্ট প্রক্রিয়ায় চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। কাল একই ভয় দেখিয়ে একটি পুরো প্রজন্মকে নতজানু করে রাখার চেষ্টা করা হতে পারে। বাদ পড়া প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর বিষয়ে পুনঃসিদ্ধান্ত নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

দেশের অধিকাংশ শিক্ষিত তরুণ নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসে উল্লেখ করে সাদিক বলেন, উচ্চশিক্ষা শেষ করে একটি চাকরি পাওয়া তাদের কাছে শুধু ক্যারিয়ার গড়ার বিষয় নয়; পরিবারের পাশে দাঁড়ানো ও একটু ভালোভাবে বাঁচার একমাত্র উপায়। ভেরিফিকেশনের নামে সেই স্বপ্নকে জিম্মি করে সরকার দেশের শিক্ষিত প্রজন্মকে দলীয় আজ্ঞাবহ প্রজন্মে পরিণত করতে চায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিবৃতিতে সরকারের কাছে ঘটনার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন ডাকসুর ভিপি। একই সঙ্গে ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি ও অনিশ্চয়তা বন্ধ করে অন্যায্যভাবে বাদ পড়া প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর বিষয়ে পুনঃসিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কোনো পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকলে তা ওই পরীক্ষার্থীকে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আপিলের সুযোগ রাখার দাবি জানান সাদিক কায়েম।

তিনি বলেন, সরকারি চাকরির প্রতিটি নিয়োগ হতে হবে সম্পূর্ণ পক্ষপাতমুক্ত, দলীয় প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন। মেধা ও যোগ্যতাই নিয়োগের একমাত্র মাপকাঠি হতে হবে।

সাদিক কায়েম আরও বলেন, সহস্রাধিক শহীদের রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত বিএনপি সরকারের এ সিদ্ধান্ত বৈষম্যবিরোধী জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা।

আরও পড়ুন

×