গঠনতান্ত্রিক সংস্কার করে দ্রুত ডাকসু নির্বাচনের দাবি
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট
বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:০৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
প্রয়োজনীয় গঠনতান্ত্রিক সংস্কার শেষে অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী)। সংগঠনটির দাবি, ডাকসুর গঠনতন্ত্রে বেশ কিছু অগণতান্ত্রিক বিধান রয়েছে। পদাধিকারবলে উপাচার্য সভাপতি থাকার কারণে অতিরিক্ত ক্ষমতা, সভা পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ, গঠনতন্ত্র সংশোধন এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণের মতো বিধান পুনর্বিবেচনা করে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের কার্যকর ক্ষমতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (মার্ক্সবাদী) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ডাকসুর মেয়াদ শেষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত পরবর্তী নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করা হয়নি। ডাকসু নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, ডাকসুর গঠনতন্ত্রে নির্বাচনের মেয়াদ নির্দিষ্ট করা আছে। প্রশাসনের উচিত ছিল মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে তপশিল ঘোষণা করা। গঠনতন্ত্রে নির্ধারিত অতিরিক্ত ৯০ দিনের সুযোগকে নির্বাচন বিলম্বিত করার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। বরং এই সময়ের মধ্যে নির্বাচনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে পরবর্তী নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত এক বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ডাকসু শিক্ষার্থীদের সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেনি। শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন, গবেষণা, নিরাপদ ক্যাম্পাস, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, প্রশাসনিক জবাবদিহি, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে তাদের যথেষ্ট উদ্যোগ দেখা যায়নি।
নতুন হল নির্মাণের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী আবাসনব্যবস্থা, আবাসন ভাতা এবং সিট বণ্টনে স্বচ্ছ ও ন্যায্য নীতির জন্য ডাকসুর আরও ধারাবাহিক ও জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন ছিল মন্তব্য করে মোজাম্মেল হক বলেন, ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনের পর থেকে নির্বাচিত নেতাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের অক্টোবরে হকার উচ্ছেদ অভিযানে ডাকসু নেতাদের সরাসরি অংশগ্রহণ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ সময় ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে। ডাকসুর গঠনতন্ত্রে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযানে ছাত্র প্রতিনিধিদের সরাসরি অংশগ্রহণের স্পষ্ট বিধান নেই। শিক্ষার্থীদের অধিকার ও স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করার পরিবর্তে প্রশাসনিক উচ্ছেদ অভিযানে যুক্ত হওয়া ডাকসুর ভূমিকা ও সাংবিধানিক সীমা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।
এছাড়া ২০২৫ সালের আগস্টে টিএসসিতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আয়োজিত প্রদর্শনীতে মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ও দণ্ডিত ব্যক্তিদের ছবি প্রদর্শন এবং এর পক্ষে ডাকসুর কয়েকজন নেতার সমর্থনের ঘটনা ঘটেছে বলেও উল্লেখ করেন মোজাম্মেল। তিনি বলেন, ডাকসুর উদ্যোগে সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ এবং ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক রাজনৈতিক ধারার ব্যক্তিদের ডাকসুর সংগ্রহশালায় এভাবে উপস্থাপন করা ইতিহাসের বিকৃতি ও দলীয় রাজনৈতিক মতবাদ প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন তৈরি করে।
একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও গ্রহণযোগ্যতা, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা এবং প্রার্থী ও সংগঠনগুলোর অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
- বিষয় :
- ডাকসু