ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ক্লাব ফুটবলে লম্বা বিরতি, ১৬ দিনের দেশপ্রেম

ক্লাব ফুটবলে লম্বা বিরতি, ১৬ দিনের দেশপ্রেম
×

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:২৮ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:২৯

ইউরোপের ক্লাব ফুটবলে সবেমাত্র নতুন মৌসুমের ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। এমিরেটসে গানার্সদের স্তব্ধ করে দেওয়া সেই অনাকাঙ্ক্ষিত হার কিংবা বার্নাব্যুর গ্যালাকটিকোদের হোঁচট– লিগের সুরটা যখন একটু একটু করে জমতে শুরু করেছিল, ঠিক তখনই বেজে উঠল ফিফার লম্বা বিরতির ঘণ্টা। যেন ক্লাব ফুটবলে একচিলতে বসন্তের মধ্যেই হঠাৎ করে হাজির এক দীর্ঘ আন্তর্জাতিক বিরতি। ফিফার নতুন নিয়মের কাটাকুটিতে এবার ফুটবলারদের সামনে প্রায় ১৬ দিনের এক অখণ্ড অবসর, দেশের জার্সি গায়ে জড়ানোর এক রাজকীয় বন্দোবস্ত। 

কোটি টাকার গ্ল্যামার ভুলে তারকারা আবার ছুটছেন দেশের টানে; স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি থেকে শুরু করে লাতিনের আর্জেন্টিনা কিংবা ব্রাজিল– সবখানেই ফুটবলারদের চেনা আবেগ আর ত্যাগের নতুন ক্যানভাস। ফুটবল ক্যালেন্ডারের এই দীর্ঘতম বিরতি ক্লাব কোচদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেললেও গ্যালারির ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এ যেন এক পরম পাওয়া– ১৬ দিনের এক নিখাদ দেশপ্রেমের মহোৎসব!

বিশ্বকাপের পর ফের দেশের জার্সিতে দেখা যাবে ইয়ামাল, এমবাপ্পে, এনজো ফার্নান্দেজকে। আগে প্রতিটি মৌসুমের প্রথম অর্ধে প্রতিবছর সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরে দুটি করে ম্যাচের তিনটি আলাদা আন্তর্জাতিক বিরতি থাকত; আর পরের মার্চে থাকত আরও একটি। কিন্তু পুরুষ ও নারী– উভয় ফুটবলেই ঘরোয়া ক্লাবের সূচিতে বিঘ্ন কমানোর জন্য ফিফা ২০২৩ সালে তার ক্যালেন্ডারে পরিবর্তনের অনুমোদন দেয়। ২০২৬-২৭ মৌসুমই প্রথম, যেখানে এই পরিবর্তনগুলো কার্যকর হচ্ছে। এখন ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবরের মধ্যে (প্রিমিয়ার লিগের গেমউইক ৫ ও ৬-এর মধ্যে) ১৬ দিনের একটি আন্তর্জাতিক বিরতি দেখতে পাওয়া যাবে, যা জাতীয় দলগুলোকে একটি উইন্ডোতেই চারটি ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দেবে। 

এটি মৌসুমের প্রথম অর্ধে আন্তর্জাতিক বিরতির সংখ্যা তিনটি থেকে কমিয়ে দুটিতে নিয়ে আসবে এবং ক্লাব মৌসুম স্থগিত থাকার মোট সময় ছয় সপ্তাহ থেকে কমিয়ে পাঁচ সপ্তাহে নামিয়ে আনবে। ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে ক্লাব মৌসুম শুরুর পর প্রথম ‘আন্তর্জাতিক ব্রেক’ হবে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর; দ্বিতীয় বিরতি বা দেশের হয়ে খেলার জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ থেকে ১৭ নভেম্বর আর তৃতীয় বিরতিটা থাকবে পরের বছর ২২ থেকে ৩০ মার্চ। 

এর বাইরে ক্লাব মৌসুম শেষ হওয়ার পর চতুর্থ ও পঞ্চম আন্তর্জাতিক বিরতি আসবে জুন ও জুলাই মাস। এর ফলে বিশ্বের অধিকাংশ ক্লাব লিগ যখন বন্ধ থাকে, সে সময়ে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলো আয়োজন করার সুযোগ তৈরি হবে, যেমন– কনকাকাফ গোল্ড কাপ, সিএএফ আফ্রিকা কাপ অব নেশনস এবং ইউইএফএ নেশনস লিগের ফাইনাল– সবকটিই আগামী গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিত হবে। এর একমাত্র ব্যতিক্রম হলো এএফসি এশিয়ান কাপ, যা আগামী বছর ৭ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হবে।

আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারের এই পরিবর্তনগুলো ঘরোয়া মৌসুমের ব্যাঘাত কমানোর ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবেই ভূমিকা রাখবে। ফিফার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্টের প্রধান আর্সেন ওয়েঙ্গারই এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রায় চার বছর আগে। তাঁর ভাবনা ছিল, ম্যাচের সংখ্যা না কমিয়েই আন্তর্জাতিক বিরতির বর্তমান সংখ্যা (৫টি) উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা। খেলোয়াড়দের কাজের চাপ কমাতে এবং আধুনিক ফুটবলের ‘জটলা’ কমাতে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন তিনি। কেননা ক্লাব মৌসুম শুরুর পরপর তিন মাসে তিনবার ক্লাব ফুটবলে ছেদ পড়া নিয়ে বিরক্ত ছিলেন অনেকেই। অবশেষে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের বিরতি দুটোকে একত্র করে ‘একটি’ করায় হয়তো তা ১৬ দিনের মতো লম্বা হয়েছে। তবে তাতে ক্লাব কর্মকর্তা, ফুটবলার এবং তাদের ভক্ত– প্রত্যেকেই অন্তত খুশি হয়েছে।

আকর্ষণীয় ম্যাচ
তারিখ     ম্যাচ
২৪ সেপ্টেম্বর     জার্মানি-নেদারল্যান্ডস
২৫ সেপ্টেম্বর     বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া
২৫ সেপ্টেম্বর     ব্রাজিল-অস্ট্রেলিয়া
২৫ সেপ্টেম্বর     ফ্রান্স-তুরস্ক
২৬ সেপ্টেম্বর     স্পেন-ইংল্যান্ড
২৭ সেপ্টেম্বর     পর্তুগাল-নরওয়ে
২৮ সেপ্টেম্বর     বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর
২৮ সেপ্টেম্বর     ফ্রান্স-বেলজিয়াম
৩০ সেপ্টেম্বর     আর্জেন্টিনা-বলিভিয়া
১ অক্টোবর     বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া
২ অক্টোবর     আর্জেন্টিনা-বুরকিনা
২ অক্টোবর     ফ্রান্স-ইতালি
৩ অক্টোবর     ব্রাজিল-ভারত
৫ অক্টোবর     আর্জেন্টিনা-বেনিন
৬ অক্টোবর     স্পেন-ক্রোয়েশিয়া

আরও পড়ুন

×