ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পর্বতসম ঋণ

দেউলিয়ার ঝুঁকিতে চীনের স্থানীয় সরকারগুলো

দেউলিয়ার ঝুঁকিতে চীনের স্থানীয় সরকারগুলো
×

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৩ | ০২:১৫

আর্থিক চাপে পড়েছে চীনের স্থানীয় সরকারগুলো। খালি হয়ে গেছে কোষাগার। পর্বতসম ঋণের সুদ পরিশোধে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ, কিছু প্রদেশ ও শহর মৌলিক পরিষেবা সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের ধারণা, ঋণের ভারে অনেক প্রদেশ ও শহর দেউলিয়া হওয়ার মুখে পড়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির অভ্যন্তরীণ এ সংকট বাইরের ঋণেও প্রভাব ফেলেছে। পরিশোধে হিমশিম খেলেও বড় আকারের ঋণ থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ছাড় দিতে পারছে না বেইজিং।

আর্থিক চাপ বেড়ে যাওয়ায় আঞ্চলিক সরকারগুলো পরিবহন পরিষেবা সীমিত এবং সরকারি চাকরিজীবীদের মজুরি ও জ্বালানি ভর্তুকি কমিয়েছে। বিশ্লেষকদের অনুমান, চীনের সরকারি ঋণ গত বছর ১৮ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন ডলার তথাকথিত গোপন ঋণের দায় স্থানীয় সরকারের অর্থায়ন প্ল্যাটফর্মের ঘাড়ে। যেখানে ১৫০টি উদীয়মান অর্থনীতির দেশে চীনের বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার।

মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক জেপিমরগ্যান চেজের গবেষকরা গত মাসে জানিয়েছেন, চীনের সামগ্রিক ঋণ বার্ষিক অর্থনৈতিক উৎপাদনের (জিডিপি) ২৮২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোয় এর হার গড়ে ২৫৬ শতাংশ।

গত এক দশকে দেশটির অনেক শহর ও প্রদেশ বিশেষ অর্থায়ন ইউনিট স্থাপন করেছে। কর্মকর্তারা অন্যান্য ঋণের সুদসহ দৈনন্দিন খরচ এবং রাস্তা, সেতু, পাবলিক পার্ক ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের জন্য এই অর্থ ব্যবহার করেন। এতে বাড়তে বাড়তে সেই ঋণ পর্বতসম উচ্চতায় পৌঁছেছে।

ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ফিচ রেটিংয়ের অনুমান, স্থানীয় সরকারের ঋণের পরিমাণ দেশটির বার্ষিক অর্থনৈতিক উৎপাদনের প্রায় ৩০ শতাংশের সমান। এ পরিস্থিতিতে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ঋণে ছাড় দেওয়া চীনা ব্যাংকগুলোর জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।

তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে কঠোর কভিড বিধিনিষেধের পাশাপাশি ২০২০ সালের মাঝামাঝি থেকে দেশটির রিয়েল এস্টেট খাতে মন্দা চলছে। দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি এ খাতের পরিস্থিতি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও অবনতি হয়েছে। এতে টান পড়ে আঞ্চলিক সরকারের রাজস্বে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের (এফডিডি) জ্যেষ্ঠ ফেলো ক্রেইগ সিঙ্গেলটন বলেন, চীনের স্থানীয় সরকারগুলোর বিপুল পরিমাণ ঋণ সামগ্রিক অর্থনীতিতে একটি গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করেছে। এটি কর্মসংস্থান অস্থিতিশীল করার পাশাপাশি সরকারি পরিষেবা অব্যাহত কিংবা সম্প্রসারণের ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করেছে।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমসসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

আরও পড়ুন

×