ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডায়ানার মৃত্যুতে রাজপরিবারের কেউ কেউ ‘স্বস্তি’ পান— প্রকাশিত বইয়ে দাবি ভাইয়ের

ডায়ানার মৃত্যুতে রাজপরিবারের কেউ কেউ ‘স্বস্তি’ পান— প্রকাশিত বইয়ে দাবি ভাইয়ের
×

ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:৩৩ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:৪৪

প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যু ও ব্রিটিশ রাজপরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তার ছোট ভাই চার্লস স্পেন্সার। নতুন বই ‘সোয়ান সং: ডায়ানা, মাই সিস্টার’-এ তিনি দাবি করেছেন, ডায়ানার মৃত্যুর পর ব্রিটিশ রাজপরিবারের কেউ কেউ স্বস্তি পেয়েছিলেন। এমনকি ডায়ানার সাবেক স্বামী ও তৎকালীন প্রিন্স অব ওয়েলস চার্লস তাকে নিয়ে বলেছিলেন, ‘আমরা তাকে খুব শিগগিরই ভুলে যাব।’

চার্লস স্পেন্সার, নবম আর্ল স্পেন্সার, বইটিতে তার বোনের জীবন, মানসিক অবস্থা, রাজপরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং ১৯৯৭ সালে তার মৃত্যুর পরের ঘটনাগুলো নিজের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তুলে ধরেছেন। ২২ সেপ্টেম্বর বইটি প্রকাশের আগেই এর কিছু অংশ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সূত্র: ডয়চে ভেলে

বইয়ের একটি অংশে স্পেন্সার লিখেছেন, ডায়ানার এডিএইচডি ছিল বলে তিনি মনে করেন। তার দাবি, এ সমস্যার সঙ্গে যুক্ত ‘রিজেকশন সেনসিটিভ ডিসফোরিয়া’ও ডায়ানার ছিল। অন্যের প্রত্যাখ্যান বা সমালোচনার মুখে তীব্র মানসিক কষ্ট অনুভব করাকে তিনি এর বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ডায়ানার মৃত্যুর পর রাজপরিবারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে বইয়ে সবচেয়ে বিতর্কিত কিছু দাবি করেছেন স্পেন্সার। তার দাবি, ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট ডায়ানার গাড়ি দুর্ঘটনার খবর প্রথম শুনে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ বলেছিলেন, ‘সে এখন কী করছে?’ পরে দুর্ঘটনার ভয়াবহতা বুঝতে পারেন তিনি।

প্যারিসে গাড়ি দুর্ঘটনায় ডায়ানার মৃত্যুর পর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক শোকের সৃষ্টি হয়। তবে রাজপরিবারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে যুক্তরাজ্যে সমালোচনাও হয়েছিল। ডায়ানার মৃত্যুর পাঁচ দিন পর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ।

স্পেন্সার তার বইয়ে লিখেছেন, বাকিংহাম প্যালেসের ভেতরে থাকা কিছু মানুষ ডায়ানার মৃত্যুর ঘটনায় ‘স্বস্তি—এমনকি আনন্দও’ পেয়েছিলেন বলে তার মনে হয়েছিল।

ডায়ানার মৃত্যুর কয়েক দিন পর তৎকালীন প্রিন্স অব ওয়েলস চার্লসের সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়েছিল বলে বইয়ে লিখেছেন স্পেন্সার। তার দাবি, ফোনে চার্লসকে অস্বাভাবিকভাবে উচ্ছ্বসিত মনে হয়েছিল। স্পেন্সার লিখেছেন, তার কণ্ঠে এমন উচ্ছ্বাস ছিল যেন তিনি লটারি জিতেছেন।

ওই ফোনালাপে ডায়ানার শেষকৃত্যে উইলিয়াম ও হ্যারিকে মায়ের কফিনের পেছনে হাঁটানোর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন স্পেন্সার। তখন উইলিয়ামের বয়স ১৫ এবং হ্যারির ১২ বছর।

স্পেন্সারের মতে, মায়ের মৃত্যুর পর এত অল্প বয়সে দুই ছেলেকে বিশ্বজুড়ে সম্প্রচারিত শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে সামনে রাখা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ছিল। তার দাবি, চার্লসকে লক্ষ্য করে কেউ যেন কটূক্তি করতে না পারে, সে জন্য দুই সন্তানকে এক ধরনের ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।

বইয়ে স্পেন্সার আরও দাবি করেছেন, ডায়ানার জনপ্রিয়তা নিয়ে চার্লসের মধ্যে আগে থেকেই ঈর্ষা ছিল। মৃত্যুর পর ওই ফোনালাপে চার্লস ডায়ানাকে নিয়ে তার ‘জমে থাকা ক্ষোভ’ প্রকাশ করেন বলেও দাবি করেন তিনি।

স্পেন্সারের বর্ণনা অনুযায়ী, চার্লস তখন বলেছিলেন, ‘নিশ্চিত থাকুন, আমরা তাকে খুব শিগগিরই ভুলে যাব।’

বইয়ের প্রথম অংশ ডেইলি মেইলে প্রকাশিত হওয়ার পর বাকিংহাম প্যালেস প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। রাজপরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নীতিগত কারণে তারা সাধারণত কোনো বই নিয়ে মন্তব্য করেন না।

তবে বিবৃতিতে বলা হয়, বহু বছর পরও ভাই হারানোর শোক মানুষের যুক্তিবোধকে প্রভাবিত করতে পারে। এই শোক বিচার-বিবেচনা ও স্মৃতিকে এমনভাবে প্রভাবিত করতে পারে, যা অন্যরা বুঝতে নাও পারেন।

বইয়ে স্পেন্সার লিখেছেন, ডায়ানার শেষকৃত্যের দিন রানির পক্ষ থেকে মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে তার ‘হার রয়্যাল হাইনেস’ (এইচআরএইচ) উপাধি মৃত্যুর পর পুনর্বহালের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তার মতে, মৃত্যুর পর ওই উপাধি ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো অর্থ ছিল না।

বাকিংহাম প্যালেসের দীর্ঘদিনের অবস্থান হলো, ডায়ানা বিবাহবিচ্ছেদের সময় স্বেচ্ছায় ওই উপাধি ছেড়ে দিয়েছিলেন। তবে স্পেন্সারের দাবি, উপাধি হারানোর ঘটনায় ডায়ানা গভীরভাবে কষ্ট পেয়েছিলেন।

বইয়ে ডায়ানার মৃত্যুর সঙ্গে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড সংস্কৃতির সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেছেন স্পেন্সার। স্পেন্সারের ভাষ্য, পাপারাজ্জিরা অনেক সময় ডায়ানাকে উত্তেজিত বা অস্বস্তিতে ফেলতেন। পরে তার সেই প্রতিক্রিয়ার ছবি তুলে সংবাদ প্রকাশ করা হতো।

আরও পড়ুন

×