ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুপার এল নিনোর প্রভাবে ৬ মাসে সাড়ে ৪ লাখ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা

সুপার এল নিনোর প্রভাবে ৬ মাসে সাড়ে ৪ লাখ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা
×

এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় সড়কের ধসে যাওয়া অংশ পার হন বাসিন্দারা। ২০২৩ সালে কেনিয়ায়। ছবি: এএফপি

দ্য গার্ডিয়ান

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:২৬

সুপার এল নিনোর কারণে সৃষ্ট অতিরিক্ত তাপ আগামী ৬ মাসে ৪ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এমন পূর্বাভাস দিয়েছেন জলবায়ু বিজ্ঞানীরা। মানুষের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পরিমাপের গবেষণা সংস্থা ‘ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব’ এক প্রতিবেদনে বলেছে, ইন্দোনেশিয়া থেকে ভারত, নাইজেরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে এর প্রভাব পড়বে।

এই পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছে ‘পিয়ার-রিভিউড’ পদ্ধতি ব্যবহার করে। এতে বিশ্বের ২৪ হাজার ৩৭৮টি অঞ্চলে মাসভিত্তিক তাপমাত্রা এবং অতিরিক্ত তাপজনিত মৃত্যুর সম্পর্ক শনাক্ত করা হয়েছে। এর সঙ্গে আগামী মাসগুলোতে এল নিনোর কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধির পূর্বাভাস যুক্ত করা হয়েছে। ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে, ১৯৯৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গড় মাসে তাপজনিত মৃত্যুর সংখ্যা।

জলবায়ু সংকটের কারণে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। নতুন হিসাবটি ওই সংখ্যার বাইরে। গবেষকেরা বলেছেন, এল নিনোর কারণে সৃষ্ট খরা, দাবানল ও বন্যা থেকে আরও অনেক মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

সুপার এল নিনোর প্রভাবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে- এমন ১০টি দেশের তালিকা।

আগেভাগেই যাতে মানুষের সুরক্ষা ও জীবন বাঁচানোর পদক্ষেপ নেওয়া যায় সে জন্য গবেষকরা অঞ্চলভেদে তাপজনিত মৃত্যুর পূর্বাভাস দিয়েছেন। পদক্ষেপের মধ্যে থাকতে পারে উন্নত তাপপূর্বাভাস ব্যবস্থা, শীতলীকরণ কেন্দ্র (কুলিং সেন্টার) স্থাপন, সবচেয়ে গরম সময়ে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে জনবল বাড়ানো এবং বাইরে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা।

এবারের এল নিনো কয়েক মাস পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর কথা। কিন্তু এর আগেই গত সোমবার এল নিনোর ইতিহাসে রেকর্ডকৃত তাপমাত্রা সর্বোচ্চ সীমা ছাড়িয়ে গেছে। আগের ঘটনাগুলোর তুলনায় এবার তাপমাত্রা এতটাই বেশি যে, বিজ্ঞানীরা একে অবিশ্বাস্য এবং ‘গডজিলা লেভেল’ বলে বর্ণনা করেছেন।

ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইকেল গ্রিনস্টোন বলেন, ৪ লাখ ৫১ হাজার মানুষের মৃত্যুর এই সংখ্যার আবেগীয় মূল্য অনেক বেশি। কারণ এর মধ্যে কারও মা-বাবা, সন্তান, দাদা-দাদি কিংবা অন্য কোনো স্বজন থাকতে পারে।

এল নিনোর প্রভাবে সম্ভাব্য পরিণতির সময়সীমা ধরা হয়েছে সেপ্টেম্বর (চলতি মাস) থেকে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কারণ তাপমাত্রা নিয়ে যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, সেটির মেয়াদ ওই সময়ের মধ্যে শেষ হবে। তবে তাপজনিত মৃত্যুর হার জুন বা জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগামী ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে গ্রীষ্মপ্রধান বা ক্রান্তীয় অঞ্চলের দেশ নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সুদান, ভারত ও ব্রাজিল। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ২০টি দেশের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রও আছে। সেখানে অতিরিক্ত ৩ হাজার ৫০০ জনের তাপজনিত মৃত্যুর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আরও বিস্তৃতভাবে বলতে গেলে, আফ্রিকার সাহেল অঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

গবেষণা প্রতিবেদনটির সহ-লেখক ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বার্কলে) সহযোগী অধ্যাপক তাম্মা কার্লটন বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। প্রচেষ্টাগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় কেন্দ্রীভূত করা গেলে এ বছর অনেক মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব।

তাম্মা কার্লটন বলেন, বর্তমানের চরম তাপমাত্রা ২০ বছর পর হয়তো ‘নিউ নরমাল’ পরিস্থিতিতে পরিণত হবে। তাই আগামী বছরগুলো থেকে জীবন বাঁচানোর সরঞ্জাম তৈরি, প্রয়োগ ও মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন

×