চীনের স্যাটেলাইট ডেটায় সক্ষমতা বাড়ছে ইরানের: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা
৮ জুলাই ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের একটি ভিডিওর স্থিরচিত্রে দেখা যাচ্ছে, একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র অজানা কোনো স্থানে আকাশে উড়ে যাচ্ছে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০১:৩১ | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০১:৩৬
মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে দেখা গেছে, চীনা গোষ্ঠীগুলোর দেওয়া স্যাটেলাইট (কৃত্রিম উপগ্রহ) ডেটা এবং গোয়েন্দা সহায়তা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ও জাহাজ ট্র্যাক করার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলেছে।
চার সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজগুলোকে হুমকির মুখে ফেলার ক্ষেত্রে উন্নত নির্ভুলতা এবং জর্ডানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে প্রাণঘাতী হামলার সঙ্গে এ বাহ্যিক গোয়েন্দা তথ্যের সম্পর্ক রয়েছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে যে হামলায় তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন, তার নির্ভুলতার মাত্রা ইরানের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতার বাইরে ছিল।
এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চীনা ভূস্থানিক (জিওস্পেশিয়াল) ডেটা ইরানকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজগুলোর ওপর তাদের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলায় সহায়তা করেছে। আরও দুটি সূত্রের মতে, ইরান ড্রোন উৎক্ষেপণের সঠিক সময় নির্ধারণ করতে এ ডেটা ব্যবহার করে, যা এমনকি তাদের সাধারণ ও দিক পরিবর্তনে অক্ষম হিট-সিকিং ড্রোনগুলোকেও জাহাজের জন্য হুমকিতে পরিণত করে।
এর পাশাপাশি, রাশিয়া ইরানকে সহায়তা দিয়ে আসছে এবং সংঘাতের সময় ইরানের অর্জিত যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চীনের সহায়তার মাত্রা সঠিকভাবে নিরূপণ করা কঠিন। বেইজিং সক্রিয়ভাবে এ সহায়তা পরিচালনা করছে নাকি কেবল এটির অনুমতি দিচ্ছে, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তার পাশাপাশি চীনের সহায়তার প্রকৃত মাত্রা নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের কারণে এ অসুবিধার সৃষ্টি হয়েছে।
চীনের স্যাটেলাইট ডেটা যেভাবে ইরানের ড্রোনকে সহায়তা করে
ইরানের হিট-সিকিং (তাপ-অনুসন্ধানী) ড্রোনগুলো খুব বেশি অত্যাধুনিক নয়। তবে চীনা স্যাটেলাইট ছবির সাহায্যে তারা সবচেয়ে অনুকূল মুহূর্তে জাহাজের দিকে বিপুলসংখ্যক ড্রোন উৎক্ষেপণ করে এবং মার্কিন সামরিক পাহারায় থাকা বাণিজ্যিক নৌযানগুলোতে আক্রমণ করে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা উন্নত হওয়ার পেছনে একটি কারণ রয়েছে এবং এটি কিছু সহায়তার কারণেই হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে বারবার অনুশীলন করা কাজে দেয় ঠিকই, তবে একটি সাহায্যকারী হাত পাওয়াও অনেক বেশি কাজে দেয়।
অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, তারা আরও ভালো হয়ে উঠছে, কারণ আমরা মূলত তাদের প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য আরও বেশি সময় দিয়েছি। সূত্রটি আরও দাবি করেছে, চীন ইরানকে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দিয়ে সাহায্য করেছে।
ইরানকে ডেটা সরবরাহের বিষয়টি চীনের অস্বীকার
চলতি মাসের শুরুর দিকে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরানকে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের ডেটা সরবরাহকারী চীনা সংস্থাগুলোর বিষয়ে বেইজিংকে দেওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েক মাসের উপেক্ষিত সতর্কবার্তার পরই এই প্রাণঘাতী ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি ঘটে।
সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চীনা দূতাবাস বলেছিলেন, বেইজিং তেহরানকে যে সহায়তা দেয় তা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ এবং সমালোচকেরা সংঘাতের সুযোগ নিয়ে তাদের বদনাম করছে।
ইরানের প্রতি চীনের সহায়তা ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলল যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এখন ওয়াশিংটনে রয়েছেন। হোয়াইট হাউসে খোলামেলা আলোচনার সময় চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ গতকাল শুক্রবার বলেন, ‘ইরানকে দেওয়া যেকোনো সহায়তা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’
সিএনবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে পারডিউ বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ আগেই আমরা তাদের কাছে বিষয়টি খুব স্পষ্ট করে দিয়েছিলাম যে ইরানকে তারা যে সহায়তাই দিক না কেন—তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ হোক, গোয়েন্দা তথ্য হোক বা যন্ত্রাংশ বা সামরিক সরঞ্জাম হোক, তা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গতকাল বিষয়টি আবারও খুব স্পষ্ট করেছেন। এটি একটি ধারাবাহিক সতর্কতা।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ দুই নেতা কিছুটা আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুলতে শুরু করেছেন এবং বিষয়গুলো নিয়ে কাজও করছেন। আমার মতে, এটি খুব খোলামেলা ও স্পষ্ট একটি আলোচনা ছিল এবং প্রতিবার তাঁরা যখন কথা বলেন, আমার মনে হয় আমরা যেসব কঠিন সমস্যা মোকাবিলা করছি, সেগুলোর বিষয়ে আমরা ভিন্ন মাত্রার একটি ঘনিষ্ঠতা দেখতে পাই।’
তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, ‘চীন এমন কিছু করেনি, যা কোনোভাবেই সংঘাতের গতিপথ পরিবর্তন করেছে।’
- বিষয় :
- ইরান
- চীন
- যুক্তরাষ্ট্র