তহবিল সংকটে সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন ৮৩ লাখ শরণার্থী
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ। ছবি: রয়টার্স
রয়টার্স
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:৩৩
তহবিল সংকট আরও তীব্র হলে এ বছর প্রায় ৮৩ লাখ শরণার্থী ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষ প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। একই সঙ্গে কিছু দেশে শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সুরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সহায়তা কমে যাওয়ায় ইউএনএইচসিআর বড় ধরনের তহবিল সংকটে পড়েছে। সংস্থাটির নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পাওয়া তহবিল ২৪ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে সংস্থাটির তহবিল ঘাটতি ৫ দশমিক ৭৮৯ বিলিয়ন ডলার।
জুলাই পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জন্য ইউএনএইচসিআরের প্রয়োজন ৮ দশমিক ৫০৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে সংস্থাটি পেয়েছে মাত্র ৩২ শতাংশ। অথচ বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ও রাষ্ট্রহীন মানুষের সংখ্যা এখনো রেকর্ড পর্যায়ের কাছাকাছি।
ইউএনএইচসিআরের হিসাবে, তাদের আওতাভুক্ত মানুষের সংখ্যা গত বছরের শেষে ১২ কোটি ৯৪ লাখ থেকে বেড়ে এ বছরের শেষে ১৩ কোটি ১২ লাখে পৌঁছাতে পারে।
২৬ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজেট কমানোর কারণে শরণার্থী নিবন্ধন, শিশু সুরক্ষা কর্মসূচি এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের সেবায় ইতোমধ্যে প্রভাব পড়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, তহবিল একটি নির্দিষ্ট সীমার নিচে নেমে গেলে কার্যক্রম আর ধাপে ধাপে সংকুচিত হওয়ার সুযোগ থাকে না; বরং পুরো ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে যেতে পারে।
প্রতিবেদনে বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দেওয়া দেশগুলোর পরিস্থিতিও তুলে ধরা হয়েছে। চাদে প্রতিবেশী সুদানের সংঘাত থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের মধ্যে ৩ লাখ ১৯ হাজার মানুষের নিবন্ধন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। একই কারণে ২ লাখ নারী ও কিশোরী নিরাপদ আশ্রয়স্থল ও প্রতিরোধমূলক কর্মসূচির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
সুদানে গৃহযুদ্ধ এপ্রিলে চতুর্থ বছরে পড়েছে। জাতিসংঘের বিবেচনায় এটি বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ বাস্তুচ্যুতি সংকট। দেশটিতে বছরের প্রথমার্ধে নিবন্ধন কার্যক্রম স্থগিত থাকায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী নিবন্ধনের আওতার বাইরে রয়েছেন।
আফগানিস্তানে দেশে ফিরে আসা মানুষের জন্য ইউএনএইচসিআরের অনুদান জনপ্রতি ৩৭৫ ডলার থেকে কমিয়ে ১৭০ ডলার করা হয়েছে। এর মধ্যে ইরান ও পাকিস্তানসহ প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে জোরপূর্বক বা স্বেচ্ছায় ফিরে আসার কারণে শুধু এ বছরই ১০ লাখের বেশি মানুষ আফগানিস্তানে প্রবেশ করেছেন।
ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ২০২৫ সালেই তারা কর্মী সংখ্যা ৩৩ শতাংশ কমিয়েছে, ১৪০টি স্থানে কার্যালয় বন্ধ করেছে এবং ২০২৪ সালের তুলনায় ১৫টি দেশে কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে। ফলে ব্যয় সংকোচনের মাধ্যমে আর তহবিল ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব নয়।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, দাতাদের কাছ থেকে পাওয়া তহবিলের ক্রমবর্ধমান অংশ নির্দিষ্ট খাতের জন্য বরাদ্দ করা হচ্ছে। পাঁচ বছর আগে এ ধরনের বরাদ্দ ছিল ১৯ শতাংশ, যা ২০২৬ সালে বেড়ে ৫১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এতে সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজনের ক্ষেত্রে অর্থ ও সম্পদ স্থানান্তরের সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ছে।
ইউএনএইচসিআর সতর্ক করেছে, তহবিলের ঘাটতি ধীরে ধীরে সুরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করছে। এর ফলে শরণার্থীদের নথিপত্রহীন থাকার ঝুঁকি বাড়ছে এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
- বিষয় :
- জাতিসংঘ
- শরণার্থী
- হাইকমিশনার
- তহবিল সংকট