পর্যটনের স্বার্থে চলনবিল সুরক্ষা প্রয়োজন
মো. মাজেম আলী মলিন
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৩৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
বর্ষায় চলনবিলের সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি উন্মোচিত হলেও ঋতু বদলের সঙ্গে বদলে যায় তার রূপ। শরতে নীল আকাশ আর সাদা মেঘের প্রতিবিম্ব পড়ে জলের আয়নায়। হেমন্তে চারপাশে পাকা ধানের সোনালি হাসি। শীতে কুয়াশার চাদর ভেদ করে ভেসে আসে অতিথি পাখির কলকাকলি। বর্ষায় নৌভ্রমণ হয়ে ওঠে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। একসময় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল চলনবিল। মাছ, কৃষি, নৌপথ ও জলজ সম্পদের ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে চারপাশের জনজীবন। সেই পুরোনো পরিচয়ের সঙ্গে এখন যুক্ত হচ্ছে নতুন একটি সম্ভাবনা–পর্যটন।
চলনবিল কোনো একক জলাশয়ের নাম নয়; এটি নদী, খাল, ছোট-বড় বিল ও জলাভূমির বিস্তৃত এক জলজ নেটওয়ার্ক। বৃহত্তর চলনবিল নাটোর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জের বিস্তীর্ণ জনপদে ছড়িয়ে আছে। বিভিন্ন গবেষণা ও সরকারি তথ্যসূত্রে এর আয়তন ও সীমানার পরিমাপে পার্থক্য রয়েছে। ঐতিহাসিক নথিতে একসময় এর জলমগ্ন অংশের আয়তন প্রায় এক হাজার ৪২৪ বর্গকিলোমিটার ছিল বলে উল্লেখ পাওয়া যায়। বর্ষায় এর জলময় বিস্তার আরও বেড়ে যায়। এই বিশাল জলভূমির বুক চিরে বয়ে গেছে আত্রাই, বড়াল, গুমানীসহ বিভিন্ন নদনদী ও অসংখ্য খাল। নৌকায় চলতে চলতে কখনও মনে হয় নদী পার হচ্ছি আবার কখনও মনে হয় ঢুকে পড়েছি কোনো অনন্ত জলরাজ্যে। এই জলপথ হতে পারে চলনবিলের পর্যটনের সবচেয়ে বড় সম্পদ। পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে চলনবিল ঘিরে তৈরি হতে পারে স্থানীয় কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র। নৌযান, প্রশিক্ষিত গাইড, স্থানীয় খাবার, হস্তশিল্প, কৃষিপণ্য, মাছ ও লোকজ সংস্কৃতি ঘিরে গড়ে উঠতে পারে ছোট-বড় উদ্যোগ। এখানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন–যে জলরাশি ঘিরে পর্যটনের স্বপ্ন দেখা হচ্ছে, তা যদি ক্রমে সংকুচিত হয়ে যায়, তাহলে পর্যটন হবে কোথায়?
মো. মাজেম আলী মলিন: সহকারী অধ্যাপক, রোজী মোজাম্মেল মহিলা কলেজ, নাটোর
md.magem1974@gmail.com
- বিষয় :
- পর্যটন