ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কৃত্রিম সার সংকট এবং জৈব সারের সম্ভাবনা

কৃত্রিম সার সংকট এবং জৈব সারের সম্ভাবনা
×

খান ইয়ামিন 

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৩৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

সার নিয়ে কৃষকের ক্ষোভ যখন আইন হাতে তুলে নেওয়া পর্যন্ত গড়ায়, তখন বুঝতে হবে সমস্যাটি নিছক প্রশাসনিক গাফিলতির নয়, বরং কাঠামোগত। সম্প্রতি কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে এমন একটি ঘটনার সাক্ষী হয়েছে দেশ। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও সার না পেয়ে বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা ডিলারের গুদামের দরজা ভেঙে প্রায় ২০২ বস্তা সার, যার মধ্যে ইউরিয়া ও পটাশ উভয়ই ছিল, নিয়ে যান। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ইউনিয়নে সারের প্রকৃত চাহিদা প্রায় চার হাজার বস্তা হলেও বরাদ্দ ছিল মাত্র এক হাজার ৩২০ বস্তা। চাহিদা ও সরবরাহের এই বিশাল ব্যবধান কৃষকদের ধৈর্যচ্যুতির প্রকৃত কারণ।
এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। মৌসুম এলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কৃত্রিম সার সংকট, ডিলারদের গড়িমসি ও মজুতদারির অভিযোগ ভেসে আসে। এর প্রত্যক্ষ পরিণতি ভোগ করেন কৃষক–সময়মতো সার না পেয়ে ফসল উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটে, উৎপাদন ব্যাহত হয়, শেষ পর্যন্ত এর মাশুল গুনতে হয় ভোক্তাকে বাজারে ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্যের মাধ্যমে। কৃষিকে জাতীয় অর্থনীতির ভিত্তি বলা হলেও বাস্তবে কৃষক বারবার সবচেয়ে অবহেলিত অংশীজন থেকে যাচ্ছেন। এই দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসার একটি টেকসই উপায় হতে পারে রাসায়নিক সারনির্ভরতা কমিয়ে প্রাকৃতিক জৈব সারের ব্যবহার বাড়ানো। দীর্ঘদিন ইউরিয়া, পটাশ, ফসফেট জাতীয় রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহারে মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা ও উপকারী অণুজীবের কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে কৃষিবিজ্ঞানীরা সতর্ক করে আসছেন। বিপরীতে জৈব সার মাটির গঠন ও পানি ধারণক্ষমতা উন্নত করে এবং দীর্ঘ মেয়াদে ফলন টেকসই রাখতে সহায়তা করে।
উৎসের দিক থেকে জৈব সার তৈরির উপকরণ হাতের কাছে রয়েছে। গোবর, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা কিংবা কোরবানি ও কসাইখানার বর্জ্য যথাযথ প্রক্রিয়ায় পচিয়ে সহজে কম্পোস্ট বা ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি করা সম্ভব। এতে একদিকে পরিবেশ দূষণ কমবে, অন্যদিকে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। মৌসুম এলে সার নিয়ে যে হাহাকার ও ডিলারনির্ভরতা তৈরি হয়, জৈব সারের ব্যবহার বাড়লে তা অনেকাংশে কমে আসবে।
এই রূপান্তর শুধু সচেতনতা দিয়ে সম্ভব নয়; প্রয়োজন নীতিগত সহায়তা। ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে কম্পোস্ট ইউনিট স্থাপন, কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ এবং জৈব সার উৎপাদনে আগ্রহী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও ভর্তুকির ব্যবস্থা করা গেলে এই খাত দ্রুত বিকশিত হতে পারে। পাশাপাশি রাসায়নিক সার বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা, ডিলারদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি।

খান ইয়ামিন: ২ নং হাবেলি গোপালপুর 
সদর ফরিদপুর

আরও পড়ুন

×