ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রিমান্ডেও মিলছে না আলোচিত তিন সন্ত্রাসীর অস্ত্রের তথ্য

চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে একে-৪৭সহ ভারী অস্ত্রের ব্যবহার

রিমান্ডেও মিলছে না আলোচিত তিন সন্ত্রাসীর অস্ত্রের তথ্য
×

ফাইল ছবি -সমকাল

 আহমেদ কুতুব, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:২০ | আপডেট: ০৬ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৩০

| প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম নগরের চন্দনপুরায় শিল্পপতি মজিবুর রহমানের বাড়িতে একে-৪৭, চাইনিজ রাইফেল, শটগান ও পিস্তল দিয়ে গুলিবর্ষণ করে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদের গ্রুপের সদস্যরা। কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে চলতি বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয়বার হামলা চালানো হয়। এর আগে ২ জানুয়ারি সকালে একই কায়দায় গুলিবর্ষণ করেছিল তারা। এ ছাড়া গত ১৩ জুন দুপুরে রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুল হক চৌধুরীকে রাস্তার ওপর দুটি শটগান, চারটি পিস্তল দিয়ে গুলি চালিয়ে খুন করে ছয় সন্ত্রাসী। তারাও শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ, ডেভিড ইমন ও রায়হানের অনুসারী। সিসিটিভি ফুটেজে এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া ধামা ইলিয়াসকে শটগান হাতে গুলি করতে দেখা গেলেও গ্রেপ্তারের পর অস্ত্রটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

একাধিকবার ফেসবুকে মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনের হাতে চাইনিজ রাইফেলসহ ভারী অস্ত্রের ছবি ভাইরাল হয়। হত্যাকাণ্ডে একে-৪৭, চাইনিজ রাইফেলের ব্যবহারও হয় চট্টগ্রামে। গত ২৯ জুলাই যশোর জেলার কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার হলেও তাঁর কাছ থেকে দেশি এলজি ছাড়া কোনো ভারী অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশের ধারণা, তাঁর ভান্ডারে ২০টির মতো পিস্তল, চাইনিজ রাইফেল, একে-৪৭ রাইফেল আছে। ২ আগস্ট আদালত সাত দিন রিমান্ড মঞ্জুর করার পর তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। জিজ্ঞাসবাদে তাঁর অস্ত্র ভান্ডারের তথ্য মিলছে না। সাজ্জাদ-ইমন বাহিনীর আরেক সদস্য যুবদল নেতা মাসুদুল হত্যা মামলার আসামি মো. ইলিয়াস ওরফে ধামা ইলিয়াস গত ২৭ জুলাই ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়। ২ আগস্ট তাঁর দুদিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর ডেভিড ইমন ও ইলিয়াসকে রিমান্ডে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। তারা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলে পুলিশ দাবি করলেও যুবদল নেতা মাসুদুল খুনে প্রকাশ্যে ব্যবহার করা দুটি শটগানসহ পিস্তলগুলোর খোঁজ মিলছে না। এর আগে আরেক সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদকে ২০২৫ সালের ১৫ মার্চ ঢাকার বসুন্ধরা সিটি শপিংমল থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিন দফায় ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও তাঁর কাছ থেকে পিস্তল ছাড়া অত্যাধুনিক ভারী কোনো অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ডেভিড ইমন ও ধামা ইলিয়াসকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচ্ছি। সেগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা ভারী অস্ত্র উদ্ধার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের কাছে থাকা অস্ত্র উদ্ধার নিয়েও আমরা কাজ করছি। তদন্তাধীন বিষয় নিয়ে আর তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডেভিড ইমন পুলিশকে একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দিচ্ছে। তাঁর অস্ত্র ভান্ডার ও ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া অস্ত্রগুলো এআই দিয়ে তৈরি বলে দাবি করছে। তাদের গ্রুপের সদস্যদের ব্যবহার করা একে-৪৭, চাইনিজ রাইফেল, শটগান রায়হানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। ধামা ইলিয়াসও খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো রায়হানের কাছে বলে জানায়। মাসুদুলকে খুনের পর অস্ত্রগুলো রায়হান নিয়ে গেছে বলে তথ্য দিচ্ছে। তাদের দেওয়া তথ্য পুলিশ যাচাই করছে।
চট্টগ্রামে আতঙ্ক সৃষ্টি করা সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন, ধামা ইলিয়াস ও ছোট সাজ্জাদ ভারতে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারী। গত দুই-আড়াই বছরে তাদের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। তাদের অত্যাচারে বায়েজিদ, চান্দগাঁও, ষোলশহর, হাটহাজারী, রাউজানসহ পাঁচ থানার লোকজন আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন। চাঁদা না পেলে তারা নির্মাণাধীন বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গুলি ও ভাঙচুর চালাত। তাদের বিশাল বিশাল কিশোর গ্যাংও রয়েছে। গত এক মাসে সাজ্জাদ গ্রুপের ৩৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি। এর মধ্যে ডেভিড ইমন আটটি খুনসহ ১৪ মামলার আসামি, পাঁচটি খুনসহ মো. ইলিয়াস ওরফে ধামা ইলিয়াস ১৮ মামলার আসামি ও ছোট সাজ্জাদ ৯টি খুনসহ ১৫ মামলার আসামি। 

আরও পড়ুন

×