অস্ত্রধারী শনাক্তে কাজ করেনি তদন্ত কমিটি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের একটি মুহূর্ত ফাইল ফটো
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রশিবির নেতাকে ছাত্রদল নেতার থাপ্পড়ের জেরে দুই পক্ষের উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনায় প্রতিবেদন জমা দিয়েছে প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি।
গতকাল বুধবার উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের কাছে প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হয়। এতে জানানো হয়, কমিটি অস্ত্রধারীদের শনাক্তে কাজ করেনি। এ জন্য তারা উচ্চতর তদন্তের সুপারিশ করেছেন।
গত ৫ সেপ্টেম্বর দুপুর পৌনে ২টার দিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হল ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি কাজী জুহায়েরকে থাপ্পড় দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলীনূর রহমান। জুহায়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও আলীনূর আরবি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
এ ঘটনার জেরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা দফায় দফায় ধ্বস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় কয়েক জায়গায় অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা মহড়াও দেন। ঘটনার পরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিমকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করে। তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়।
গতকাল বুধবার কমিটি ১০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে তারা ঘটনাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ভিডিও, ছবি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত করেন। কমিটি সূত্র জানায়, থাপ্পড় দেওয়ার ঘটনায় ছাত্রদল নেতা আলীনূরের সংশ্লিষ্টতার স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। তাঁকে রুম থেকে প্রক্টর ও পুলিশের সহায়তায় বের করার সময় প্রক্টরের গাড়ির কাচ ভাঙচুর ও মবের ঘটনায় কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ঘটনার দিন সন্ধ্যায় প্রধান ফটকে অনসার ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশের ঘটনায়ও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, তথ্য প্রমাণের আলোকে এসব বিষয়ে কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী কিছু সুপারিশ করেছেন। তবে সুপারিশের বিস্তারিত জানা যায়নি। সময় ও সদস্য স্বল্পতার কারণ দেখিয়ে প্রধান ফটক এলাকায় অস্ত্রসহ মহড়া দেওয়া বহিরাগতদের শনাক্তে তদন্ত কমিটি কাজ করতে পারেনি বলে জানা গেছে। তারা প্রতিবেদনে বিষয়টি শনাক্তে উচ্চতর তদন্তের সুপারিশ করেছেন।
কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘আজ (বুধবার) তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। এতে থাপ্পড় দেওয়া, রুম ও গাড়ির কাচ ভাঙচুর, ফটকে তালা দেওয়া, অস্ত্রসহ বহিরাগত প্রবেশ– সব বিষয় তুলে ধরেছি।
এসব অপরাধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী যে ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারে, সে বিষয়টি প্রতিবেদনে বলেছি।’
- বিষয় :
- অস্ত্র