ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লালমনিরহাট সীমান্তে গুলি ছুড়ে ৫ নৌকা নিয়ে গেল বিএসএফ

লালমনিরহাট সীমান্তে গুলি ছুড়ে ৫ নৌকা নিয়ে গেল বিএসএফ
×

বাংলাদেশি জেলেদের নৌকা নিয়ে যান বিএসএফের সদস্যরা। ছবি: সমকাল

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৫৭ | আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৫৮

ধরলা নদীর বাংলাদেশি শূন্যরেখায় ছোট নৌকায় বালু ও পাথর উত্তোলনকারী বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে ৫ রাউন্ড গুলি ছুড়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। স্থানীয়দের অভিযোগ, কারণ ছাড়াই বিএসএফ নদী এলাকার প্রায় ১৫ গজ সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশ অংশে এসে গুলি ছুড়েছে। এ সময় বালু ও পাথর উত্তোলনকাজে ব্যবহৃত চারটি নৌকা নদী থেকে তুলে নিয়ে গেছে বিএসএফ। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। 

জানা গেছে, লালমনিরহাটের পাটগ্রামের বুড়িমারী স্থলবন্দর এলাকার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে আন্তঃসীমান্ত ধরলা নদী। সীমান্তবর্তী এ নদীর বুড়িমারী স্থলবন্দর শূন্যরেখার বাংলাদেশি অংশ থেকে বেশ কিছু বাংলাদেশি ব্যক্তি বালু ও পাথর উত্তোলন করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ২০ থেকে ২৫ জন বিএসএফ সদস্য নদীর পাড়ে আসে ও দুইজন সদস্য অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি ছুড়ে। এতে কেউ হতাহত না হলেও গুলি ছোড়ায় ওই এলাকার সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। বিএসএফ গুলি করার ঘটনায় বিজিবি প্রতিবাদ জানিয়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে। বর্তমানে বিজিবি সীমান্তে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। 

সীমান্ত সূত্র ও বিজিবি জানায়, ঘটনার পরপরই শ্রীরামপুর ইউনিয়নের পঁয়ষট্টিবাড়ী বিজিবি ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পানিশালা ক্যাম্পের বিএসএফ কমান্ড্যান্টকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানায় বিজিবির বুড়িমারী কোম্পানি সদরের কমান্ডার। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গুলি ছোড়ার প্রতিবাদ করে বিজিবি। বৈঠকের বিস্তারিত জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন বুড়িমারী কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার রেজাউল করিম। 

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৬১ ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, বাংলাদেশি নাগরিকেরা অবৈধভাবে সীমান্ত পিলারের মধ্যবর্তী স্থান হতে প্রায় ২০ গজ ভারতের অভ্যন্তরের বরমতল নামক স্থানে গেলে বিএসএফের পানিশালা ক্যাম্পের সদস্যরা ৫ রাউন্ড ফাঁকা ফায়ার করে। চারটি নৌকা নদীর পার হতে ক্যাম্পে নিয়ে গেছে বিএসএফ। বিষয়টি ইউএনও এবং ওসিকে জানানো হয়েছে। 

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঘটনার সময় উপস্থিত একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন, বাংলাদেশি বালু ও পাথর উত্তোলনকারীরা ভারতের অভ্যন্তরে যায়নি।

৬১-ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) সহকারী পরিচালক (এডি) কারিমুল ইসলাম বলেন, সীমান্তে বিএসএফ গুলি ছোড়ায় বিজিবি প্রতিবাদ জানিয়েছে। এ ব্যাপারে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে শুনেছি। আমি বাইরে থাকায় বিস্তারিত বলতে পারছি না।

আরও পড়ুন

×