ছাত্রকে অমানবিক নির্যাতন
মাদ্রাসাশিক্ষক আত্মীয়, তাই মামলা করেনি পরিবার
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৩২
| প্রিন্ট সংস্করণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ছাত্রকে মারধরের অভিযোগে আটক মাদ্রাসাশিক্ষককে ১৬৪ ধারায় আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার মুফতি ইব্রাহিম বিন মুজিব নামে ওই শিক্ষককে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই শিক্ষক ভুক্তভোগী শিশুর আত্মীয় হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করতে রাজি হয়নি পরিবার।
গত বুধবার সকালে উপজেলার কৃষ্ণনগর আশরাফুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসায় নির্যাতনের শিকার হয় আব্দুল্লাহ (১১)। সে ওই মাদ্রাসার হাফেজি বিভাগের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। তার বাবা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের রমজান আলী ওরফে রুমান মিয়া কুয়েত প্রবাসী। আব্দুল্লাহর খালু মুফতি ইব্রাহিম বিন মুজিব মাদ্রাসাটির ভারপ্রাপ্ত নাজিমে তালিমাত (শিক্ষা সচিব)।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) মাদ্রাসায় ক্লাস শেষে বাড়ি চলে যায় আব্দুল্লাহ। মঙ্গলবার পর্যন্ত সে না ফেরায় ক্ষিপ্ত হয়ে মুফতি ইব্রাহিম বিন মুজিব বুধবার সকালে বাড়ি থেকে তাকে ধরে আনেন। মাদ্রাসায় এনে শিশুটিকে বেত দিয়ে একের পর এক আঘাত করতে থাকেন তিনি। এক পর্যায়ে অচেতন অবস্থায় রক্তাক্ত আব্দুল্লাহকে কৃষ্ণনগর বাজারে অবস্থিত বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করেন এলাকাবাসী। তারা বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ মুফতি ইব্রাহিমকে থানায় নিয়ে যায়।
মাদ্রাসার মুহতামিম (প্রধান শিক্ষক) মাওলানা মহিউদ্দিন আশরাফী বলেন, ‘যেহেতু ছাত্রের পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই, সেহেতু আমাদের বিচার করার কোনো সুযোগ নেই। তবে এ ধরনের অত্যাচারী শিক্ষককে মাদ্রাসায় রাখা হবে না।’
পুলিশ সূত্র জানায়, ওই শিক্ষক ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের আত্মীয় হওয়ায় তারা কোনো অভিযোগ করেনি। এ বিষয়ে থানায় মুচলেকা দিয়েছেন শিশুটির মা।
নবীনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব কান্তি নাথ বলেন, জনতা আটক করে ওই মাদ্রাসাশিক্ষককে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা করতে রাজি না হলেও আইনি ধারাবাহিকতায় ১৬৪ ধারায় তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এখন এটি আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়।
- বিষয় :
- নির্যাতন