ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গুলি ছুড়ে বাংলাদেশিদের নৌকা নিয়ে গেছে বিএসএফ

গুলি ছুড়ে বাংলাদেশিদের নৌকা নিয়ে গেছে বিএসএফ
×

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা 

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৩৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত হয়ে প্রবাহিত ধরলা নদীর বাংলাদেশি শূন্যরেখা অংশে অযান্ত্রিক পদ্ধতিতে ছোট নৌকায় বালু ও পাথর উত্তোলনকারী বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে তাদের 
নৌকা নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো কারণ ছাড়া বিএসএফ নদী এলাকার প্রায় ১৫ গজ সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশ অংশে এসে গুলি ছুড়েছে। 
এ সময় বাংলাদেশিদের বালু ও পাথর উত্তোলনকাজে ব্যবহৃত চারটি নৌকা নদী থেকে তুলে নিয়ে গেছে বিএসএফ। 
ভারতের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার চ্যাংড়াবান্ধা সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশের লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের বুড়িমারী স্থলবন্দর এলাকার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে আন্তঃসীমান্ত ধরলা নদী। সীমান্তবর্তী এ নদীর বুড়িমারী স্থলবন্দর শূন্যরেখার বাংলাদেশি অংশ থেকে বেশকিছু বাংলাদেশি ব্যক্তি অযান্ত্রিক পদ্ধতিতে বালু ও পাথর উত্তোলন করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। 
গতকাল দুপুরে বাংলাদেশি বালু ও পাথর উত্তোলনকারীদের লক্ষ্য করে অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন বিএসএফ সদস্য নদীতীরে আসেন এবং তাদের মধ্যে দুজন সদস্য অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি ছোড়েন। এতে কেউ হতাহত না হলেও গুলি ছোড়ায় এলাকার সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিএসএফ গুলি করার ঘটনায় বিজিবি প্রতিবাদ জানিয়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে। বিজিবি সীমান্তে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

সীমান্ত সূত্র ও বিজিবি জানায়, বুড়িমারী ইউনিয়নের বিপরীতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ থানার চ্যাংড়াবান্ধা সীমান্ত এলাকা। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৪২-এর ৪ থেকে ৫ নম্বর উপপিলার এলাকার ধরলা নদী সীমান্তে ভারতের ৬২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পানিশালা ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা বাংলাদেশি বালু ও পাথর উত্তোলনকারীদের লক্ষ্য করে ৫টি ফাঁকা গুলি ছোড়েন। এ সময় ৪টি নৌকা নদী থেকে নিয়ে যান বিএসএফ সদস্যরা। এ ঘটনা জানার পর শ্রীরামপুর ইউনিয়নের পঁয়ষট্টিবাড়ী বিজিবি ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। গুলি করার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে পানিশালা ক্যাম্পের বিএসএফ কমান্ড্যান্টকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানান বিজিবির বুড়িমারী কোম্পানি সদরের কমান্ডার। প্রায় ৫ ঘণ্টা পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঘটনাস্থলের পাশে বুড়িমারী ও চ্যাংড়াবান্ধা কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গুলি ছোড়ার প্রতিবাদ করে বিজিবি। বৈঠকের বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন বুড়িমারী কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার রেজাউল করিম। 

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৬১ ব্যাটালিয়ন (তিস্তা-২) এর হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশি নাগরিকেরা অবৈধভাবে সীমান্ত পিলারের মধ্যবর্তী স্থান থেকে প্রায় ২০ গজ ভারতের অভ্যন্তরের বরমতল নামক স্থানে গেলে বিএসএফের পানিশালা ক্যাম্পের সদস্যরা ফাঁকা ফায়ার করে। এরপর ৪টি নৌকা নদীর তীর থেকে ক্যাম্পে নিয়ে গেছে বিএসএফ। বিষয়টি ইউএনও ও ওসিকে জানানো হয়েছে।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন, বাংলাদেশি বালু ও পাথর উত্তোলনকারীরা ভারতের অভ্যন্তরে যাননি। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, নদীতে নেমে বিএসএফ সদস্যরা নৌকাগুলোতে আঘাত করে ভাঙছেন এবং কয়েকটি নিয়ে যাচ্ছেন।  

আরও পড়ুন

×