ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী

বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী
×

ভোলায় মেঘনাতীরে জিওব্যাগ ধসে তলিয়ে যাওয়া দুজনের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার শিবপুর মাছঘাট এলাকায় সমকাল

ভোলা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৩৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

ভোলায় জিও ব্যাগ ধসে মেঘনা নদীতে নিখোঁজ হয়েছেন দুজন। গত বুধবার রাতে সদর উপজেলার শিবপুর মাছঘাটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিনভর তল্লাশি করেও তাদের সন্ধান মেলেনি। অন্য তিন বন্ধুর সঙ্গে গল্প করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাকিরা সাঁতার কেটে উঠতে পারলেও তলিয়ে যান বিজিবি সদস্য মো. আমজাদ হোসেন (২৬) ও তাঁর খালাতো ভাই মো. রাকিব (২০)।
আমজাদ হোসেন ভোলা পৌরসভার ভদ্রপাড়ার বাসিন্দা মো. ইব্রাহিমের ছেলে। রাকিব শিবপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. বাবুলের ছেলে। এই দুজনের পরিবারের সদস্যরা দিনভর মেঘনার তীরে দৌড়ঝাঁপ করেছেন। আমজাদের শোকে তাঁর পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। মা-বাবাও বিলাপ করতে করতে মূর্ছা যাচ্ছেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. আব্দুল্লাহ ও মো. সাগরের ভাষ্য, বুধবার সন্ধ্যার পর পাঁচজন মেঘনা নদীর তীরে বালুভর্তি জিও ব্যাগে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ রাত ৮টার দিকে জিও ব্যাগসহ তীরের বড় একটি অংশ নদীতে ধসে পড়ে। এতে পাঁচজন তলিয়ে যান। তবে ফাহিম, শাওন ও আরেকজন সাঁতার কেটে তীরে উঠতে পারেন। আমজাদ ও রাকিব স্রোতে তলিয়ে যান। এ সময় তাদের চিৎকার শুনেছেন তারা।
শিবপুর ইউনিয়ন গ্রাম পুলিশের সদস্য মো. মনজুর আলম জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে তারা উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছেন। রাত ১০টার পর কোস্টগার্ড সদস্যরা এসে কিছুক্ষণ অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।
বিজিবি সদস্য আমজাদ হোসেনের কর্মস্থল বান্দরবানে। প্রায় দুই মাস আগে তিনি ছুটিতে বাড়ি আসেন। ১৯ সেপ্টেম্বর কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। আমজাদ দুই বছর আগে মোসাম্মত মারিয়াকে বিয়ে করেন। বর্তমানে মারিয়া পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান তাঁর ভাই মো. রাজু। তিনি জানিয়েছেন, ভগ্নিপতি নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ পেয়ে প্রায় অজ্ঞান অবস্থায় আছেন মারিয়া। ছেলের জন্য বিলাপ করতে করতে তাঁর মা-বাবাও কয়েকবার জ্ঞান হারিয়েছেন। পরিবারের পুরুষ সদস্যরা সবাই মেঘনার তীরে গতকাল বৃহস্পতিবার দিনভর ঘুরে বেড়িয়েছেন।
ভোলা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার খন্দকার রিয়াজুল ইসলাম বলেন, নদীতে তীব্র স্রোত। এ ছাড়া তীরের মাটি চাপা পড়ার জায়গায় স্রোতের কারণে যাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও তারা বৃহস্পতিবার দিনভর অভিযান চালিয়েছেন। তবে কারও খোঁজ বিকেল পর্যন্ত মেলেনি।

আরও পড়ুন

×