ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাসে যাত্রী তুলে জিম্মি, লুটের পর স্বজনদের থেকেও টাকা আদায় করে চক্রটি

বাসে যাত্রী তুলে জিম্মি, লুটের পর স্বজনদের থেকেও টাকা আদায় করে চক্রটি
×

ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বাসটি জব্দ করা হয়। ছবি: সমকাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:৪৬

ময়মনসিংহের ভালুকায় যাত্রীবাহী বাসে তুলে এক ব্যক্তিকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। ওই যাত্রীর কাছ থেকে নগদ টাকা, মুঠোফোন ও ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার পর জীবননাশের হুমকি দিয়ে তার স্বজনদের কাছ থেকে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে আরও ১ লাখ ১৯ হাজার টাকা আদায় করে ডাকাত চক্রটি। এ ঘটনায় চক্রটির এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৪।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. জাবেদ ইকবাল ওরফে বাদল (৪০)। তিনি ময়মনসিংহের বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ময়মনসিংহ নগরের কোতোয়ালি থানাধীন ঢাকা বাইপাস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, অভিযানে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি বাস, একটি সুইচগিয়ার, একটি চাকু, ভুক্তভোগীর কাছ থেকে লুট করা একটি মুঠোফোন এবং তিনটি ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাবের ভাষ্য, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের নারায়ণগঞ্জ শাখায় কর্মরত জাহাঙ্গীর আলম (৪৪) অফিসের কাজে ভালুকার মাস্টারবাড়ি এলাকায় এসেছিলেন। কাজ শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তিনি ঢাকার উদ্দেশে ‘মা-বাবার দোয়া’ নামের একটি বাসে ওঠেন। কিছুদূর যাওয়ার পর বাসটি ইউটার্ন নেয়। এরপর বাসে থাকা ডাকাত দলের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্রের মুখে জাহাঙ্গীর আলমকে জিম্মি করেন। তার কাছ থেকে নগদ ১৮ হাজার টাকা, মুঠোফোন ও ছয়টি ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড নিয়ে নেওয়া হয়।

পরে জীবননাশের হুমকি দিয়ে ওই ব্যক্তির স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে আরও ১ লাখ ১৯ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব জানায়, রাত ১১টার দিকে ভালুকা মডেল থানার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন স্বপ্ন সুপার শপের সামনে বাসে ডাকাতির খবর পেয়ে র‌্যাব-১৪-এর একটি দল অভিযান শুরু করে। ময়মনসিংহ-ঢাকা বাইপাসের সওদাগর ফিলিং স্টেশনের সামনে চেকপোস্ট বসানো হয়।

র‌্যাবের সংকেত অমান্য করে বাসটি দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। পরে র‌্যাবের সদস্যরা বাসটির পিছু নেন। একপর্যায়ে ডাকাত দলের সদস্যরা বাস থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় জাবেদ ইকবালকে আটক করা সম্ভব হলেও অন্যরা পালিয়ে যান।

র‌্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাবেদ ইকবাল স্বীকার করেছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে সাধারণ যাত্রীদের লক্ষ্য করে বাসে তুলে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে আসছিলেন।

র‌্যাব-১৪-এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সামসুজ্জামান বলেন, সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাসড়কে র‌্যাবের নিয়মিত টহল ও তদারকি জোরদার করা হয়েছে। যাত্রীকে বাসে তুলে জিম্মি করার খবর পাওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে একজনকে বাস ও অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চক্রটির অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

গ্রেপ্তার জাবেদ ইকবালের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে ভালুকা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ভালুকা থানায় মামলা করেছেন।

আরও পড়ুন

×