ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চা বাগানে তীব্র লোডশেডিং ব্যাহত চা উৎপাদন

চা বাগানে তীব্র লোডশেডিং ব্যাহত চা উৎপাদন
×

জগদীশপুর চা বাগানে শুক্রবার পাতা সংগ্রহ করে কারখানার পথে নারী শ্রমিকরা সমকাল

 মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:০৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার ২৩টি চা বাগানে ভরা মৌসুমেও কাজ প্রকট আকার ধারণ করেছে বিদ্যুৎ সংকট। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে চা কারখানায় কাঁচা পাতা প্রক্রিয়াজাত ও শুকানোর কাজ ব্যাহত হচ্ছে। পর্যাপ্ত কচি পাতা পাওয়া গেলেও নির্ধারিত সময়ে তা প্রক্রিয়াজাত করা নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কার মধ্যে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাধবপুর উপজেলার পাঁচটি এবং চুনারুঘাট উপজেলার ১৮টি চা বাগানে এই বিদ্যুৎ সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাগান সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ছয় থেকে আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। ফলে চা কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

চা উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাগান থেকে সংগ্রহ করা কচি পাতা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কারখানায় এনে বিভিন্ন ধাপে প্রক্রিয়াজাত করতে হয়। প্রথমে পাতা শুকানোসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। সময়মতো এসব কাজ শেষ করতে না পারলে কাঁচা পাতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক সময় কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হয়।
বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় কোনো কোনো বাগানে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করা হলেও জ্বালানির বাড়তি খরচের কারণে সব বাগানের পক্ষে দীর্ঘ সময় জেনারেটর চালিয়ে কারখানা সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এতে একদিকে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়।
সুরমা চা বাগানের কারখানা ইনচার্জ সুজিত সাহা বলেন, বাগান থেকে কচি পাতা সংগ্রহের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কারখানায় এনে প্রক্রিয়াজাত করে উন্নতমানের চা তৈরি করতে হয়। এই কাজের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু দিনরাত লোডশেডিং লেগে থাকে। ফলে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে চা তৈরির কাজ চালাতে হচ্ছে।
জগদীশপুর চা বাগানের ম্যানেজার মনি হোসেন বলেন, চা কারখানাকে শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী সার্বক্ষণিক 
বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলে আরও বেশি চা উৎপাদন করা সম্ভব হতো।

আরও পড়ুন

×