ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্কুল কলেজ মাদ্রাসার অর্ধেকই চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকে

স্কুল কলেজ মাদ্রাসার অর্ধেকই চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকে
×

আজিজুল হক সরকার, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:০৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় প্রাথমিক থেকে কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যন্ত শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন স্তরের ১৮৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৫টিতে নেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ। এর মধ্যে ৬৬ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১০৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অনেক বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি এস কে মোহাম্মদ আলী দুলাল ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম জানান, ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি করা অনেক শিক্ষকের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতি হচ্ছে না। এরই মধ্যে আবার নতুন করে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আইনি জটিলতার কারণে চলতি দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরাও পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মহসিন আলী বলেন, সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলায় দীর্ঘদিন পদোন্নতি আটকে আছে। শূন্য পদের তালিকা নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে। নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এ সংকট দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করছি।
১০৯টি বিদ্যালয়ের ৮০টিতে নৈশপ্রহরী কাম দপ্তরি না থাকায় রাতে বিদ্যালয়গুলো অরক্ষিত থাকছে। প্রায়ই চুরির ঘটনা ঘটছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাইফুজ জামান বলেন, আগামী মাসের মধ্যে হয়তো শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টির সমাধান হয়ে যাবে। 
উপজেলা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অফিসের গত ১০ আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, স্কুল ও কলেজ, কলেজ, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি, দাখিল, ফাজিল ও কারিগরি মিলিয়ে উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৭৫টি। এর মধ্যে ২৩টি প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের দায়িত্ব ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে চলছে।
তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একটি, ৩১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৩টি, তিনটি স্কুল ও কলেজের একটি, পাঁচটি কলেজের দুটি, ৯টি দাখিল মাদ্রাসার দুটি এবং ৯টি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের চারটির প্রতিষ্ঠানপ্রধান ভারপ্রাপ্ত। 

এসব প্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত এক হাজার ৩৬১টি শিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন এক হাজার ৬২ জন। শূন্য রয়েছে ২৯৯টি পদ। 
শিক্ষক নেতা অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাজিম উদ্দীন মণ্ডল বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষক সংকট দ্রুত নিরসন না হলে এর প্রভাব পড়বে শিক্ষার মান, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের পাঠদানে। তাই শূন্য পদ পূরণ, পদোন্নতির জটিলতা নিরসন এবং দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবুল কালাম আজাদ বলেন, এগুলো এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কমিটি না থাকায় শিক্ষক নিয়োগের জন্য চাহিদা দেওয়া যাচ্ছে না। 
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াস আহমেদ বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটির কাজ চলমান রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যোগাযোগ করলে আমরা তা অনুমোদন দিয়ে দিচ্ছি। চুপচাপ বসে থাকলে তো হবে না। ছয়-সাতটা টেবিল পার হতে হয়তো 
একটু দেরি হতে পারে, তবে কমিটি করার কাজ চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন

×