গ্রাম বাঁচাতে ৫০ লাখ টাকায় বাঁধ নির্মাণ করছেন প্রবাসী
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বানারী গ্রামে পদ্মার ভাঙন রোধে প্রবাসীর উদ্যোগে অস্থায়ী বাঁধের নির্মাণকাজ চলছে। গত শুক্রবার তোলা ছবি সমকাল
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
‘আমাদের পৈতৃক ভিটা ১৯৯০ সালে পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়। ৫ বছর পর সেই পদ্মার বুকে আবার জেগে ওঠে চর। প্রায় ২০ বছর আগে জেগে ওঠা চরে নতুন করে বসতি গড়ি। তখন নদী ছিল অনেক দূরে। কিন্তু এখন একেবারে বাড়ির গোড়ায় চলে এসেছে।’ কথাগুলো বলছিলেন মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বানারী গ্রামের প্রবাসী ইমরান মিয়া।
পদ্মার ভাঙনের মুখে প্রবাসী ইমরান মিয়ার বসতবাড়িসহ গ্রামের হাজারো মানুষের আশ্রয়স্থল। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছুটে এসে নিজের জমানো ৫০ লাখ টাকায় ভাঙনরোধে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ শুরু করেছেন তিনি।
গত শুক্রবার বানারী গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, প্রবাসী ইমরান মিয়ার উদ্যোগে পদ্মা নদীর তীরে চলছে বালুর বস্তা ফেলার কাজ। গ্রামবাসী জানিয়েছে, কয়েক বছর আগে ইমরান মিয়া শুধু একটি বাড়িই নয়, পদ্মার বুকে গড়ে তুলেছিলেন ময়ূরসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি সমৃদ্ধ এক নান্দনিক উদ্যান। যা ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসতো পিকনিক করতে। প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে স্ত্রীকে নিয়ে এখানে সময় কাটাতেন ইমরান।
জানতে চাইলে ইমরান মিয়া বলেন, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রায় ৫০ লাখ টাকা খরচ করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন তিনি। তবে শুধু তাঁর একার পক্ষে পুরো অঞ্চল বাঁচানো সম্ভব নয়। এখানে ১০ হাজার পরিবারের বসবাস, তাদের রক্ষায় অবিলম্বে সরকারিভাবে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রয়োজন।
স্থানীয়রা জানান, বানারী গ্রামে বানারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গুচ্ছগ্রাম ও একাধিক মসজিদ রয়েছে। পাশে বিধুয়াইল, নগর জোয়ার এবং ফরিদপুরের জাজিরা ইউনিয়ন। সব মিলিয়ে এই অঞ্চলে প্রায় ১০ হাজার পরিবারের বসবাস। নদী ভাঙনে পুরো জনপদ আজ অস্তিত্ব সংকটে।
গ্রামের বাসিন্দা তাজুল ইসলাম বলেন, নদী আগে অনেক দূরে ছিল। এ বছর বর্ষার শুরু থেকে অল্প অল্প করে ভাঙতে ভাঙতে এখন বসতবাড়ির দ্বারে এসে পৌঁছে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না করা হলে পুরো এলাকা নদীতে চলে যাবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মাঠ কর্মকর্তা ইমরান হোসেন জানান, আগস্টের মাঝামাঝি থেকে এই এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। আগে সরকারিভাবে বালুর বস্তা ফেলা হলেও প্রবল স্রোতে তা সরে যায়। বর্তমানে ইমরান মিয়ার ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি পাউবোও ভাঙন ঠেকাতে কাজ করছে।
শুধু বানারী গ্রামে নয়, উজান থেকে নেমে আসা ঢলে মুন্সীগঞ্জ-সংলগ্ন পদ্মাসহ ধলেশ্বরী ও মেঘনার পানি বেড়ে নদী তীরবর্তী একাধিক এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর তীব্র প্রবাহে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে ছোট ছোট নৌযানের।
মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক জানান, উজান থেকে অতিরিক্ত পানি নামায় পদ্মায় স্রোত বহুগুণ বেড়ে গেছে। সীমিত সম্পদ ও জনবল থাকা সত্ত্বেও ভাঙনরোধে পাউবো সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
- বিষয় :
- খাল