ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি দামে সার না পাওয়ার অভিযোগ কৃষকের

সরকারি দামে সার না পাওয়ার অভিযোগ কৃষকের
×

 ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৫১

| প্রিন্ট সংস্করণ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সরকার নির্ধারিত দামে সার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। তারা বলছেন, সারের ডিলাররা বাড়তি দাম চাইলেও এ বিষয়ে প্রশাসনের তেমন কোনো নজরদারি নেই। এ নিয়ে কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। 

ঘাটাইল উপজেলার পূর্বাঞ্চলের টিলার মাটিতে প্রধানত কলা, ড্রাগন, পেঁপে ও হলুদের চাষ হয়। কৃষকরা জানান, এ ধরনের ফসলের জন্য সার দরকার। অন্যান্য সারের মধ্যে টিএসপি ও ডিএপি সারের চাহিদা বেশি থাকে। কারণ টিএসপি মাটির ফসফরাসের ঘাটতি পূরণ করে। ফসফরাস গাছের শিকড় মজবুত করে, সময়মতো ফুল ফোটায়, 
ফসল পাকায় এবং গুণগত মান বাড়ায়। তাদের অভিযোগ, টিএসপিসহ অন্যান্য সার সরকারি দামে তারা পাচ্ছেন না।
কৃষি অফিসের তথ্যমতে, উপজেলায় বিসিআইসি সার ডিলার ১৮। বিএডিসির ডিলার ২০ জন। ডিলারদের দেওয়া তথ্যমতে, এ মাসে ডিলারপ্রতি সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ইউরিয়া ৫৬০ বস্তা, টিএসপি ২৯, এমওপি ১০০ এবং ডিএপি ৫০ বস্তা।

সরকার নির্ধারিত দর অনুযায়ী, ইউরিয়া ও টিএসপির ৫০ কেজির বস্তা এক হাজার ৩৫০ টাকা, এমওপি এক হাজার এবং ডিএপি এক হাজার ৫০ টাকায় ডিলারদের বিক্রি করার কথা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই দামে কোথাও সার পাওয়া যাচ্ছে না।
ঘাটাইলের পাহাড়ি অঞ্চলে দুই শতাধিক বড় কৃষক আছেন। তাদের একজন তরুণ উদ্যোক্তা কুশারিয়া গ্রামের আবু সাইদ অনিক। তাঁর ভাষ্য, সরকারি দামে সার কিনতে পারলে প্রতি মাসে কৃষকের ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা বেঁচে যেত। এ বিষয়ে প্রশাসনের তেমন কোনো তদারকি নেই। স্থানীয় কৃষক নাসির উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকারি মূল্যে এক ছটাক সারও কেনা যাচ্ছে না। গত মাসে (আগস্ট) ডিলাররা সার বরাদ্দ পাওয়ার পর পরিচিত একজনের মাধ্যমে কিছু সার কিনতে কৃষি কর্মকর্তাকে অনুরোধ করি। কৃষি কর্মকর্তা সাগরদীঘি বাজারের বিসিআইসি ডিলার সঞ্জয় সাহাকে ফোন করে আমাকে সার দিতে বলেন। কিন্তু এক কেজি সারও দেননি। কারণ, কৃষি কর্মকর্তার ফোন মানেই সার বিক্রি করতে হবে সরকারি দরে।’

পরে ২ সেপ্টেম্বর ওই কৃষক সাগরদীঘি বাজারে বিসিআইসি ডিলার রাজীব এন্টারপ্রাইজে সার কিনতে যান। তখন দোকান মালিক সঞ্জয় সাহা টিএসপির ৫০ কেজির প্রতি বস্তার দাম বলেন এক হাজার ৮০০ টাকা। আর প্রতি বস্তা ইউরিয়া এক হাজার ৪৬০ এবং পটাশ এক হাজার ১৩০ টাকা দাম চান। অবশ্য গত ১১ আগস্ট ভোক্তা অধিকারের পক্ষ থেকে রাজীব এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালানো হয়। তখন বেশি দামে সার বিক্রির করায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে মালিক সঞ্জয় সাহা বলেন, ‘আমি সারের দাম বেশি রাখি না। কৃষকের ক্ষতি হয় এমন কাজ করি না।’ 
আরেক কৃষক উপজেলার ধলাপাড়া বাজারে বিএডিসির ডিলার শান্ত এন্টারপ্রাইজে গিয়ে সারের দাম জিজ্ঞেস করেন। দোকানের মালিক রবিউল ইসলাম খসরু প্রতি বস্তা ইউরিয়া এক হাজার ৪৮০, ডিএপি এক হাজার ৬০০ এবং পটাশ এক হাজার ১০০ টাকা দাম চান। সারের বাড়তি দাম আদায়ের বিষয়ে জানতে রবিউল ইসলামের মোবাইলে কল দিলে তিনি ধরেননি। 
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত সারের বাজার মনিটর করছি। আজ (গতকাল) বন্ধের দিনেও মাঠে আছি। কোনো ডিলার বেশি দামে সার বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ইউএনও মো. মাহমাদুল হাসান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কৃষকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন

×