ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাত বছর বয়সে প্রথম মুক্ত পৃথিবী দর্শন

সাত বছর বয়সে প্রথম মুক্ত পৃথিবী দর্শন
×

সাত বছর বয়সে প্রথমবারের মতো বাইরের পৃথিবী দেখল মোবাশ্বেরা। গতকাল মঙ্গলবার কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে মায়ের সঙ্গে শিশুটি সমকাল

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৫৫ | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:৩০

| প্রিন্ট সংস্করণ

কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটক খুলতেই একে একে বেরিয়ে আসছিলেন কারামুক্ত বন্দিরা। বাইরে অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের কেউ ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরছেন প্রিয়জনকে, কেউ পরিয়ে দিচ্ছেন ফুলের মালা। সেই ভিড়ের মধ্যেই মায়ের হাত ধরে ধীর পায়ে বেরিয়ে এলো সাত বছরের এক শিশু। নাম মোবাশ্বেরা। বাইরের পৃথিবী নয়-মায়ের সঙ্গে কারাগারের চার দেয়ালই ছিল তার জন্মের পর থেকে বেড়ে ওঠার ঠিকানা।

মোবাশ্বেরার জন্ম হয়েছিল কারাগারে। ২০১৯ সালে ফেনীর নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের সময় তার মা কামরুন্নাহার মনি ছিলেন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ওই অবস্থায় তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। বন্দি জীবনেই জন্ম নেয় মোবাশ্বেরা। এরপর মায়ের সঙ্গেই কারাগারে কেটে যায় তার জীবনের প্রথম সাতটি বছর।

মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান কামরুন্নাহার মনি। মায়ের সঙ্গে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসে মোবাশ্বেরাও। একই দিন ওই মামলায় খালাস পাওয়া আরও সাতজন গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে মুক্তি পান। কারাগারের বাইরে স্বজনদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্যেও মা-মেয়ের এই বেরিয়ে আসার দৃশ্যটি উপস্থিত সবার নজর কাড়ে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্বজনকে কাছে পেয়ে কেউ ফুলের মালা পরিয়ে, কেউ ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন। কেউ আবার প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরে আবেগে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। আর মোবাশ্বেরা তখন মায়ের হাত ধরে দাঁড়িয়ে, সাত বছরের পরিচিত ‘পৃথিবী’ পেছনে ফেলে সামনে তার একেবারে নতুন জীবন !

কারামুক্তির পর কারাগারের ফটকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কামরুন্নাহার মনি। মেয়ের সাত বছরের কারাজীবনের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আমার সন্তানের জন্ম কারাগারেই, সাতটি বছর কারাগারেই ছিল। কারাগারে তাকে আমি দ্বিতীয় শ্রেণির বই পড়াচ্ছি, কোরআনের একটি পারা মুখস্থ করিয়েছি, কোরআন পড়তে শিখিয়েছি। আমার সর্বাত্মক দায়িত্ব পালন করেছি। মেয়ের পড়াশোনার জন্য কারাগারের ভেতরেই নিজের মতো করে ব্যবস্থা করেছেন মনি।

তিনি বলেন, আমি একটি জামা কেটে তাকে একটি স্কুলব্যাগ বানিয়ে দিয়েছি। সে স্কুলে যেত তিনটি বই নিয়ে। স্কুলব্যাগ কেমন হয়, সে তো জানে না। স্কুলব্যাগ নিয়ে স্কুলে যেতে হয়, তা আমি তাকে কারাগারের ভেতরেই শিখিয়েছি। তিনি আরও বলেন, আমার মেয়েকে বাইরে (কারাগারের) দিয়ে দিলে সে ভালো থাকত না। সন্তান মা ছাড়া কখনও ভালো থাকে না। বাবা কখনও সন্তানকে ভালো রাখতে পারে না। মা যেভাবে যত্ন করে রাখে, কখনও কেউ রাখে না। মা হচ্ছে একটা চাদর।

গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার জাকির হোসেন বলেন, মুক্তির যাবতীয় কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছালে যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের পর্যায়ক্রমে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তিপ্রাপ্তরা হলেন– মো. শামীম, হাফেজ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, আফসার উদ্দিন, ইমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার উদ্দিন রানা, আব্দুর রহিম শরীফ এবং কামরুন্নাহার মনি। এ সময় কামরুন্নাহার মনির সঙ্গে তার সাত বছর বয়সী মেয়ে মোবাশ্বেরাও বের হয়। 

আরও পড়ুন

×