৩০ মাসের প্রকল্প শেষ হয়নি আট বছরেও, কাজে স্থবিরতা
তাহিরপুরের যাদুকাটা নদীর ওপর নির্মাণাধীন শাহ আরেফিন (র.)-অদ্বৈত প্রভু মৈত্রী সেতু। রোববার তোলা সমকাল
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২৯ | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:৩৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
কথা ছিল ৩০ মাসে শেষ হবে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর ওপর নির্মাণাধীন শাহ আরেফিন-অদ্বৈত প্রভু মৈত্রী সেতুর নির্মাণকাজ। তবে আট বছর পেরিয়ে গেলেও এর কাজ শেষ হয়নি। সীমান্তবর্তী অঞ্চলের তিন উপজেলার মানুষ যে সেতুটিকে কেন্দ্র করে যোগাযোগ ও উন্নয়নের বড় স্বপ্নের জাল বুনেছিল, তা আজও বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।
প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০২০ সালের মে মাসে সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। জানা যায়, যাদুকাটা নদীর ওপর নির্মিতব্য এই সেতুটির দৈর্ঘ্য ৭৫০ মিটার। প্রায় ৮৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণের কাজ পায় তমা কনস্ট্রাকশন।
২০১৮ সালের ডিসেম্বরে কাজ শুরু হলেও এখনও শেষ হয়নি। অথচ এই সেতু চালু হলে জেলা সদরের সঙ্গে তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর ও মধ্যনগর উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং এই অঞ্চলের পর্যটন ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচিত হতো।
সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, সেতুর সব পিলারের কাজ শেষ হয়েছে। ১৫টি স্প্যানের মধ্যে ১২টি এবং ৭৫টি গার্ডারের মধ্যে ৬০টির স্থাপন কাজ এখন পর্যন্ত শেষ হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বারবার বন্যা ও কভিড-১৯ মহামারির কারণে প্রথম থেকেই কাজ কিছুটা বিলম্ব হয়। এর মধ্যে ২০২৫ সালের জুন মাসে একটি বালুভর্তি বাল্কহেডের ধাক্কায় একটি গার্ডার পানিতে পড়ে গেলে নির্মাণকাজে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দেয়। এরপর চলতি বছরের ১৭ মে রাতে ঝড়ের কবলে পড়ে আরও পাঁচটি গার্ডার নদীতে ভেঙে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, তাদের প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং বাকি অংশ শেষ করতে আরও এক বছর সময় প্রয়োজন।
প্রকল্পের এমন দীর্ঘসূত্রতায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। তারা বলছেন যেসব অজুহাত তোলা হচ্ছে, তার সবই প্রকল্পের ৩০ মাসের পরের ঘটনা। তাহিরপুরসহ আশপাশের এলাকাবাসীর ভাষ্য, সেতুটির কাজ শেষ হলে শিমুল বাগান, বারিক টিলা, যাদুকাটা নদী ও শহীদ সিরাজ লেকের মতো বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে যাতায়াত অনেক সহজ হবে। একই সঙ্গে সড়কপথে পণ্য পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য নতুন গতি পাবে। কিন্তু বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।
উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া জানান, যাদুকাটা নদীর ওপর নির্মিতব্য এই সেতুটি সীমান্ত এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় নদী পারাপার হওয়া মানুষ সেতুটি চালু হলে নিরাপদ যাতায়াতের সুফল পাবে। তবে তিনি কাজের বারবার গাফিলতি ও ধীরগতিকে প্রকল্পের প্রধান বাধা বলে উল্লেখ করেন।
তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) জাহিদুল ইসলাম জানান, প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। পুরোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ বাতিল করে এরই মধ্যে নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। ঝড়ে গার্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হলে একটিমাত্র প্রতিষ্ঠান (বাসেত প্রকৌশলী লিমিটেড) কাজ পেয়েছে। তবে নবায়নকৃত এই কাজের ওয়ার্ক অর্ডার এখনও ঠিকাদারকে দেওয়া হয়নি।
- বিষয় :
- সেতু