ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কারাগারে থেকেও বেতন তুললেন প্রভাষক

মাউশির কারণ দর্শানোর নোটিশ

কারাগারে থেকেও বেতন তুললেন প্রভাষক
×

মীরবাগ ডিগ্রি কলেজ। ছবি: সংগৃহীত

মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৩:২৫

প্রতারণার মামলায় প্রায় দুই মাস জেলহাজতে থেকেও দিব্যি সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন রংপুরের কাউনিয়ার মীরবাগ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মোহাম্মদ আলী বাবু। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় গত বুধবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) রংপুর অঞ্চলের পক্ষ থেকে ওই শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, হজযাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণার মামলায় ২০২৪ সালের শেষের দিকে নীলফামারী থেকে গ্রেপ্তার হন প্রভাষক মোহাম্মদ আলী বাবু। পরে জামিনে মুক্ত হলেও রংপুর নগরীর একটি ভাড়া বাসা থেকে গত ১৫ মে গভীর রাতে ওই একই মামলায় তিনি আবারও গ্রেপ্তার হন। এবার দীর্ঘ দুই মাস কারাভোগের পর তিনি জামিনে বের হন।

অভিযোগ রয়েছে, কারাগারে থাকাকালীন সময়েও মীরবাগ ডিগ্রি কলেজের এমপিও তালিকায় তার নাম নিয়মিত রাখা হয় এবং সে অনুযায়ী তিনি মে, জুন ও জুলাই– এই তিন মাসের পুরো বেতন উত্তোলন করেন। অথচ কলেজের হাজিরা খাতায় ১০ মে থেকে তার নামের পাশে ভুয়া ‘শিক্ষা ছুটি’র কথা উল্লেখ ছিল।

অধিদপ্তরের কারণ দর্শানোর নোটিশে উল্লেখ করা হয়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা লঙ্ঘন করে গভর্নিং বডির অনুমোদন ছাড়া, চার বছরের চুক্তিপত্র এবং কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন ‘শিক্ষা ছুটি’র নামে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। যা সরকারি চাকরি আইন ও শিক্ষা বিধিমালার পরিপন্থি, গুরুতর অসদাচরণ, জালিয়াতি এবং আর্থিক অনিয়ম। এই অপরাধে কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না– তা নোটিশ প্রাপ্তির সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মীরবাগ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম মো. জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘বেতন-ভাতা দেওয়ার বিষয়টি আমার একক সিদ্ধান্ত নয়। গভর্নিং বডির সবার উপস্থিতিতে রেজুলেশন করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, রংপুর অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মো. গোলাম মাজেদ বলেন, ‘বিনা অনুমতিতে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা, কারাবন্দি অবস্থায় অবৈধভাবে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন এবং হাজিরা খাতায় অসত্য তথ্য দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চালু রয়েছে।’

আরও পড়ুন

×