উপাচার্য পুনর্বহাল দাবি
চুয়েটে টানা কর্মবিরতির ডাক শিক্ষক-কর্মকর্তাদের
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে গতকাল শুক্রবারও বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা -সমকাল
চুয়েট সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:০৮ | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৩৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনের চতুর্থ দিনে গতকাল শুক্রবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে আগামীকাল রোববার থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। পাশাপাশি চুয়েট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি একাত্মতা জানিয়ে তারাও কর্মবিরতি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
এদিকে, গতকাল উপাচার্য পদে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের যোগদান প্রত্যাখ্যান করে গতকাল দুপুরে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তন থেকে তাদের পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান ঘুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে মিছিল শেষ হয়।
বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে গ্রাফিতির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলছেন শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের ভাষা। বিভিন্ন রং ও প্রতীকী চিত্রের মাধ্যমে এসব গ্রাফিতিতে শিক্ষার্থীদের দাবি, ক্ষোভ ও চলমান আন্দোলনের নানা বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালগুলোও পরিণত হচ্ছে আন্দোলনের দৃশ্যমান ক্যানভাসে। এই কার্যক্রম আজও চলবে।
এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে নতুন উপাচার্য নিয়োগের পর থেকেই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন রাত থেকেই ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ শুরু হয়। পরদিন থেকে টানা পূর্ণাঙ্গ শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন তারা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
কর্মবিরতির ঘোষণা শিক্ষক সমিতির
সদ্য সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। একই সঙ্গে নবনিযুক্ত উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চান না বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।
গত বৃহস্পতিবার রাতে শিক্ষক সমিতির জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ওই রাত থেকে পূর্ণ কর্মবিরতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে হল ও জরুরি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম কর্মবিরতির আওতামুক্ত থাকবে।
এর আগে একই দিন অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মানববন্ধন করেন। পরে বিকেল ৩টায় শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর অধ্যাপক সায়েম তাঁর গতিশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।
এ সময় নবনিযুক্ত উপাচার্য সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসানুল্লাহ বলেন, আমরা নতুন ভিসিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাই না।
রাতে শিক্ষক সমিতির সভা শেষে তিনি আরও জানান, অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে আমরা সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে যাচ্ছি। তবে হল ও জরুরি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমগুলো চালু থাকবে।
কর্মকর্তাদেরও কর্মবিরতি
উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে গতকাল সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে চুয়েট কর্মকর্তা সমিতি। তবে জরুরি সেবা ও সরকারি সেবা কার্যক্রমের আওতাভুক্ত কার্যক্রম কর্মবিরতির বাইরে থাকবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
গতকাল অনুষ্ঠিত কর্মকর্তা সমিতির জরুরি সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সমিতির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চুয়েট শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক অবস্থান ও দাবির প্রতি এবং শিক্ষক সমিতির গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রতি তারা একাত্মতা প্রকাশ করেছে। উপাচার্য পদে নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে যে অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরসন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক মর্যাদা এবং শিক্ষার পরিবেশ সমুন্নত রাখার দায়িত্ব সবার। একই সঙ্গে চুয়েটের সদস্যদের নিয়ে সামাজিক মাধ্যম ও প্রচারমাধ্যমে প্রচারিত মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
এ বিষয়ে কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি প্রকৌশলী মো. ইকরাম বলেন, আমাদের চুয়েট একটা পরিবার। ছাত্ররা শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছে। শিক্ষকরাও কর্মবিরতি দিয়েছেন। আমরাও তাই তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছি।