ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জলপথে আসাম থেকে ঢাকায় আসবে ১ হাজার ৮০ টন মিথানল

জলপথে আসাম থেকে ঢাকায় আসবে ১ হাজার ৮০ টন মিথানল
×

ছবি: দ্য প্রিন্ট

শুভজিৎ পুততুন্ড, কলকাতা

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৪৮ | আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৩:০০

ভারতের আসাম থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের অভ্যন্তরীণ জলপথ ব্যবহার করে বাংলাদেশে পণ্য পরিবহনের নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। ডিব্রুগড়ের বগীবিল থেকে জলপথে সরাসরি ঢাকায় পাঠানো হবে নামরূপের আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেডের (এপিএল) উৎপাদিত মিথানল।

উদ্যোক্তাদের দাবি, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে ডিব্রুগড় থেকে বাংলাদেশে এটিই প্রথম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কার্গো পরিবহন।

মিথানল পরিবহনের জন্য দুটি বিশেষ জাহাজ প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি জাহাজে থাকবে ২৭টি কনটেইনার। প্রতিটি কনটেইনারে ২০ টন করে মিথানল বহন করা হবে। ফলে একটি জাহাজে ৫৪০ টন এবং দুটি জাহাজে মোট ১ হাজার ৮০ টন মিথানল পরিবহন করা সম্ভব হবে।

বগীবিল থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত হয়ে ঢাকায় পৌঁছাতে প্রায় ৭৮৩ কিলোমিটার জলপথ পাড়ি দিতে হবে। এতে সময় লাগবে প্রায় সাত দিন।

৩০ বছর পর সচল দুটি জাহাজ
এপিএলের চেয়ারম্যান বিকুল ডেকা জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ জলপথ পরিবহন বিভাগের মালিকানাধীন দুটি জাহাজ প্রায় ৩০ বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে ছিল। এপিএল সেগুলো লিজ নিয়ে গুয়াহাটির পান্ডু ঘাটে এনে সংস্কার ও মেরামত করে বাণিজ্যিক চলাচলের উপযোগী করেছে। এই দুটি জাহাজেই বগীবিল থেকে ঢাকায় মিথানল পরিবহন করা হবে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কার্গো পরিবহনের জন্য বগীবিল ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট (আইডব্লিউটি) টার্মিনালও প্রায় প্রস্তুত। সেখানে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের ব্যবস্থা, আধুনিক জেটি ও গুদাম তৈরি করা হয়েছে। সামগ্রিক নজরদারি ও সহায়তার জন্য একটি লাইটহাউস এবং ‘রিজিওনাল সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ তৈরির কাজও চলছে।

খুলতে পারে উত্তর-পূর্ব ভারতের নতুন বাজার
আসামের শিল্প ও কৃষিপণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে নেওয়ার ক্ষেত্রে এই জলপথ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন। নদীপথে পণ্য পরিবহন সড়ক ও রেলপথের তুলনায় তুলনামূলক সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব।

বিকুল ডেকার মতে, বগীবিল টার্মিনাল পুরোদমে চালু হলে মিথানলের পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতের আরও বিভিন্ন শিল্পপণ্য বাংলাদেশ হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে।

এর মধ্যে ব্রহ্মপুত্র ক্র্যাকার অ্যান্ড পলিমার লিমিটেডের (বিসিপিএল) পণ্য, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, কয়লা ও চা রয়েছে। একই সঙ্গে আসামের কাজী লেবু, ভুত জলোকিয়া মরিচ ও গোলমরিচের মতো জিআই সনদপ্রাপ্ত কৃষিপণ্যও বিদেশের বাজারে পাঠানোর নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

উল্লেখ্য, ব্রিটিশ আমলে ব্রহ্মপুত্রকে কেন্দ্র করে ডিব্রুগড় গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জাহাজ এই নদীপথ ব্যবহার করে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল ও বিদেশের সঙ্গে বাণিজ্য করত।

আরও পড়ুন

×