'সাদা চাদরে নববধূর সতীত্ব পরীক্ষা শাস্তিযোগ্য অপরাধ'
নববধূর প্রতীকী ছবি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ০৮:১৯ | আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ০৮:২২
ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের কঞ্জরভাট জনজাতির বিবেক তমাইচিকর। গত বছর মে মাসে নিজের বিয়েতে নিজ জনজাতির আদিম প্রথা সতীত্ব পরীক্ষার বিরুদ্ধে গিয়ে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন তিনি। বিয়ের পর তিনি তার নববধূকে সাদা চাদরে সতীত্ব পরীক্ষা দিতে দেননি।
তবে লড়াইটা সেখানেই থেমে যায়নি। বিয়ের পরও অবিরাম লড়াই চালিয়ে গেছেন মুম্বইয়ের টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের প্রাক্তনী বিবেক এবং তার পরিচিত আরও ৭৪ জন। এবার তাদের সেই লড়াইয়ের জয় এলো।
সাদা চাদরে নববধূর সতীত্ব পরীক্ষা শাস্তিযোগ্য অপরাধ ঘোষণা করেছে মহারাষ্ট্র সরকার। বুধবার এই প্রথার বিরুদ্ধে আলোচনায় বসেন মাহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রনজিৎ পাতিল, শিবসেনার মুখপাত্র নীলম গরহেরা। ওই বৈঠকে এই প্রথাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে রনজিৎ পাতিল সাংবাদিকদের বলেন, এখন থেকে ভার্জিনিটি টেস্ট যৌন নির্যাতন হিসেবে গণ্য করা হবে। আইন ও বিচার বিভাগের সঙ্গে কথা বলেই এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি এটাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
মহারাষ্ট্রের কঞ্জরভাট জনজাতির মধ্যে গত ৪০০ বছর ধরে সাদা চাদরে সতীত্ব পরীক্ষা প্রথা প্রচলিত আছে। এর পরীক্ষার মাধ্যমে বিয়ের রাতে বধূকে প্রমাণ দিতে হয় যে, তার যোনি অক্ষত। এজন্য সাদা চাদরের উপরে স্বামীর সঙ্গে যৌন সঙ্গম করতে হয় নববধূকে। সঙ্গমের আগে সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় মুখোমুখি হতে হয় সম্প্রদায়ের কোনো নারীর। আর সঙ্গমের পরের সকালে রক্তের দাগ লাগা সাদা চাদর দেখাতে হয় স্থানীয় মোড়ল-মাতব্বরদের। দাগ দেখেই নববধুর কুমারীত্ব নিশ্চিত করেন তারা। তারপরই সেই বিয়ে বৈধ হিসেবে গণ্য করা হয়।
২০১৮ সালের মে মাসে কঞ্জরভাট জনজাতির এই প্রাচীন প্রথার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন বিবেক। পুণের মহিলা কমিশন ও পুলিশের সাহায্য নিয়ে সতীত্ব পরীক্ষা ছাড়াই স্ত্রী ঐশ্বর্যাকে বিয়ে করেন তিনি।