ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘কয়েক দিনের মধ্যেই ফুরিয়ে যেতে পারে সৌদির তেল রপ্তানির মজুত’

বিশ্ববাজারে ৪ শতাংশ তেল সরবরাহ কমার শঙ্কা

‘কয়েক দিনের মধ্যেই ফুরিয়ে যেতে পারে সৌদির তেল রপ্তানির মজুত’
×

শুক্রবার ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব তার বিশাল পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেয়

রয়টার্স

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:৩৮

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল পাইপলাইন দ্রুত চালু করা না গেলে কয়েক দিনের মধ্যেই রপ্তানির জন্য মজুত তেল ফুরিয়ে যেতে পারে। এতে বিশ্ববাজারে দৈনিক প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেলের সরবরাহ কমে যেতে পারে, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ। সৌদি তেল ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ইরান যুদ্ধের কারণে আগে থেকেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে সৌদির তেল সরবরাহ আরও কমে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। এতে জ্বালানির দাম, মূল্যস্ফীতি ও ঋণের সুদহার আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শুক্রবার ইরাক থেকে চালানো ড্রোন হামলার শিকার হয়ে সৌদি আরব তাদের বিশাল পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেয়। তবে পাইপলাইনটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং কত দিন এটি বন্ধ থাকবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।

রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা কয়েকটি সূত্র ক্ষয়ক্ষতি মেরামতে ভিন্ন ভিন্ন সময়ের কথা জানিয়েছে। একটি সূত্রের মতে, পাইপলাইনটি পুরোপুরি মেরামত করতে পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। আরেকটি সূত্র বলেছে, এর আগেই মেরামতের কাজ শেষ হতে পারে এবং কাজ চলার মধ্যেই পাইপলাইনের একটি অংশ দিয়ে আবার তেল সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হতে পারে। এ বিষয়ে সৌদি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তর ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত ছয় মাসে সৌদি আরবের জন্য এই পাইপলাইনটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। আরব উপদ্বীপের মরুভূমির মধ্য দিয়ে যাওয়া পাইপলাইনটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ বা সীমিত হয়ে যাওয়ার প্রভাব থেকে সৌদি আরবকে অনেকটাই রক্ষা করেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠাত। এই পরিমাণ তেল বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ।

কিন্তু পাইপলাইনটি বন্ধ থাকায় ইয়ানবু বন্দরে মজুত তেল দিয়ে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিন রপ্তানি চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সৌদি তেল রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র। আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, লোহিত সাগরের আইন সকনা ও ভূমধ্যসাগরের সিদি কেরির বন্দর থেকেও কয়েক দিন ক্রেতাদের তেল সরবরাহ করা সম্ভব।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, ইয়ানবু বন্দরে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি ব্যারেল তেল সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে। আইন সকনা ও সিদি কেরির মজুত সক্ষমতা যথাক্রমে ১ কোটি ৮০ লাখ ও ২ কোটি ব্যারেল। তবে এসব মজুত পুরোপুরি পূর্ণ নয়। ফলে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি আবার চালু করা না গেলে একপর্যায়ে এসব মজুতও শেষ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চারটি সূত্র।

এদিকে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর দিয়ে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় আগস্টে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায় বলে শুক্রবার জানিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)।

আইইএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্বে তেলের সরবরাহ দৈনিক ৫৭ লাখ ব্যারেল কমে যেতে পারে, যা মোট সরবরাহের প্রায় ৬ শতাংশ।

যুদ্ধের আগে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা হতো। তবে বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক মাত্র ৬০ থেকে ৯০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হচ্ছে বলে শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে
 

আরও পড়ুন

×