সৌদি আরবের সামরিক সহায়তার অনুরোধে দ্বিধায় পড়েছেন ট্রাম্প
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: এএফপি/কোলাজ
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:৫৫ | আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:০০
সৌদি আরবের অনুরোধে সাড়া দিয়ে হুতিদের ওপর হামলা চালানো হবে কি না- তা নিয়ে দুই সপ্তাহ ধরে দ্বিধায় আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এরইমধ্যে একাধিকবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা যুদ্ধ এখনো শেষ করতে পারেনি। এর প্রভাবে বিশ্ব অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাচ্ছে। এ অবস্থায় তেহরান সমর্থিত গোষ্ঠীটির ওপর হামলা হলে যুদ্ধের আরেকটি ক্ষেত্র তৈরি হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে হুতিরা ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। সৌদি আরব ও তাদের সমর্থিত সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধেও লড়াই তীব্র করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি আবারও মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হস্তক্ষেপের অনুরোধ করেন।
গত বুধবার পর্যন্ত হুতিদের ওপর হামলা না করার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন ট্রাম্প। উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেছিলেন, ওয়াশিংটন হামলার পক্ষে নয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার যুবরাজের সঙ্গে আলাপের পর তিনি সিদ্ধান্ত বদল করেন। হুতিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলার প্রস্তুতি নিতে পেন্টগনকে নির্দেশ দেন।
স্থানীয় সময় রোববার দুপুরে প্রেসিডেন্ট আবারও অবস্থান বদল করেন বলে মনে হচ্ছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হুতিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত বিমান হামলা চালাবে না। সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলার অনুমতি না থাকায় এসব কর্মকর্তারা নিজেদের পরিচয় প্রকাশে রাজি হননি।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নিয়ে হোয়াইট হাউসের জনসংযোগ দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শুধু বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি আছে। আমরা সবসময় মিত্রদের রক্ষা করে যাব।’
অভিযান সম্পর্কে অবগত দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট যখন হুতিদের বিরুদ্ধে হামলা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখন কমান্ডাররা লক্ষ্যবস্তুর তালিকা তৈরি করছিলেন। বাছাইকৃত যুদ্ধবিমানগুলোতে বোমা তোলার কাজ করছিলেন সেনারা। অভিযান শুরু হওয়ার যখন কিছু সময় বাকি, তখন ট্রাম্প সিদ্ধান্ত থেকে সরে যান।
রোববার সকালে ফক্স নিউজকে মোবাইলফোনে একটি সাক্ষাৎকার দেন ট্রাম্প। তখন বলেন, ইরানের সঙ্গে বৃহত্তর যুদ্ধের বিষয়ে কী করা হবে, সে বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যায়ে আছেন। আর হুতিদের প্রসঙ্গে বলেন, গোষ্ঠীটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করবে না বলে জানিয়েছে।
হুতিরা যখন লড়াই না করার বিষয়ে আশ্বাস দিচ্ছে, তখন ট্রাম্প হামলা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। কিন্তু যখন সৌদিতে হুতিদের হামলার প্রসঙ্গ সামনে আসছে, তখন প্রেসিডেন্টের দ্বিধা স্পষ্ট হচ্ছে।
কয়েকজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তার মতে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে সৌদি আরবের সহায়তা প্রয়োজন। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের ওপর চাপ তৈরি করতে রিয়াদও তাদের হাতে থাকা কৌশলগত সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। যেমন, গত মে মাসে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল করা জাহাজগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু রিয়াদ তখন নিজেদের ভূখণ্ডে থাকা ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিতে রাজি হয়নি।
এক কর্মকর্তা বলেন, হরমুজ প্রণালি এখনো অস্থিতিশীল। হুতিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হলে, বাব এল-মান্দেব প্রণালি দিয়েও জ্বালানি পরিবহন বাধার মুখে পড়তে পারে। এছাড়া, গত এক বছরে হুতিরা তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করেছে। নতুন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার করছে। এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা বলছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে মার্কিন বাহিনী যুক্ত হলেও হুতিদের পরাজিত করা কঠিন হবে।